পেনশনপ্রাপ্তি সহজ হচ্ছে, ঘরে বসেই মিলবে ফাইলের আপডেট

অনলাইন ট্র্যাকিং সিস্টেমের সুবিধা হলো, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের পিআরএল অর্থাৎ অবসর-উত্তর ছুটি শুরু হওয়ার ১১ মাস আগে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস অ্যালার্ট পাবেন।

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

পেনশনে অনলাইন ট্র্যাকিং সিস্টেমের সুবিধা কর্মচারীরা তাদের পিআরএল ছুটি শুরু হওয়ার ১১ মাস আগে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস অ্যালার্ট পাবেন। স্ট্রিম গ্রাফিক

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন প্রক্রিয়া সহজে সরকার ‘অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওপিটিএমএস)’ চালু করছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদ্ধতিটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। পরে এটি অর্থ বিভাগের হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়সহ সব মন্ত্রণালয় ও মাঠ পর্যায়ে চালু হবে।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই নতুন সিস্টেমের ওপর কর্মশালায় অনলাইন ট্র্যাকিং সিস্টেমের সুবিধাগুলো তুলে ধরা হয়। বলা হয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের পিআরএল অর্থাৎ অবসর-উত্তর ছুটি শুরু হওয়ার ১১ মাস আগে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস অ্যালার্ট পাবেন। রিয়েল টাইম ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আবেদনকারীরা অনলাইনে তাদের পেনশন ফাইলের সর্বশেষ আপডেট অবস্থা সরাসরি দেখতে পাবেন।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, সমন্বিত ডেটার মাধ্যমে ‘আইবিএএস++’ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকরির তথ্য ও আর্থিক বিবরণী সংগ্রহ করা হবে। ফলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। এছাড়া হয়রানিমুক্ত ব্যবস্থার কারণে বিভিন্ন টেবিলে সশরীরে ফাইল নিয়ে ঘোরার প্রয়োজন হবে না। এই পদ্ধতি সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ বিভাগের ‘স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম (এসপিএফএমএস)’ কর্মসূচির আওতায় কর্মশালায় হয়। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে এসপিএফএমএসের প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ মাহফুজা বেগম। কর্মশালায় অফিস ম্যাপিং, এনওসি, অডিট আপত্তি নিরসনের মতো চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা জানান, এই কর্মসূচির লক্ষ্য অবসরের আগের পেনশন প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজ করা, যাতে আবেদনকারীদের বারবার অফিসে যেতে না হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হয়। এই ডিজিটাল রূপান্তর সরকারি পেনশন সেবাকে দ্রুততর এবং জনবান্ধব করে তুলবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা প্রায়ই পেনশনের কাজে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অপ্রয়োজনীয় অফিস ভিজিটের কারণে হয়রানির শিকার হন। ওপিটিএমএস পুরোপুরি চালু হলে পেনশনাররা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে তাদের আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন, যা সময় বাঁচাবে এবং হয়রানি কমাবে।

তিনি বলেন, ‘সেবাগ্রহীতারা সশরীরে সরকারি অফিসে না গিয়ে অনলাইনে সেবা পেতে পারলে, তা দুর্নীতি কমানোর একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা ১০০ শতাংশ পেনশন সমর্পণ করেছেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে তাদের পরিবার পুনর্বহালের সুবিধা পায় না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই নীতি পুনরায় পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহসানুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও এসপিএফএমএসের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জিয়াউল আবেদীন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

অর্থ সচিব বলেন, অবসরের পর অনেক কর্মচারী অসহায় বোধ করেন। এই সিস্টেম তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। তিনি ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ চালুর মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক বলেন, পেনশনের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ইতোমধ্যে অনেকখানি ডিজিটাল হয়েছে। ইএফটির মাধ্যমে টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে যাচ্ছে। নতুন সিস্টেমটি পেনশনের আগের ধাপগুলোকে আরও সহজ করবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত