জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

শিবচরে গাইডওয়ালের গাঁথুনির নিচে কলাগাছ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মাদারীপুর

প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২: ৫৬
মাদারীপুরে সড়কের গাইডওয়ালের নিচে দেওয়া হয়েছে কলাগাছ। ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় সড়কের পাশে গাইডওয়াল নির্মাণে ইটের গাঁথুনির নিচে দেওয়া হয়েছে আস্ত কলাগাছ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন সড়কের শিরুয়াইল ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড চরকাকইর চৌরাস্তা মোড়ে দেখা যায় এমন চিত্র। পরে স্থানীয়রা তুলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করলে ভাইরাল হয়।

শিবচর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের সিপাইকান্দি থেকে মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণ শুরু হয় ৬ মাস আগে। তবে প্রথম থেকেই ছিল ধীরগতি। কিছু দিন আগে ইট ও পিলার আনার পর সড়কের এক পাশে পুরোদমে কাজ শুরু হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, চরকাকইর এলাকার মসজিদের সামনে নির্মাণাধীন গাইডওয়ালের ইটের গাঁথুনির নিচে বেশ কয়েক স্থানে বড় বড় কলা গাছ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণসামগ্রীও ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের।

স্থানীয় হাবিবুর রহমান বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ সারা দেশে যাতায়াত করেন। অথচ গাউডওয়ালের নিচে কলাগাছ দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণে নিম্নমানের মালপত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, ঠিকাদার আলমগীর জমাদ্দার রাজমিস্ত্রি আর শ্রমিকদের কাছে নির্মাণের কাজ সাব-লিজ দিয়ে আর কোনো খোঁজ-খবর রাখেন না। এলজিইডির কোনো কর্মকর্তাও প্রকল্প এলাকা দেখতে যান না।

এই বিষয়ে ঠিকাদার আলমগীর জমাদ্দার বলেন, ‘আমাকে কিছু জানায়নি। যে রাজমিস্ত্রি কাজ করে তাকে বলেছি, এমন কাজ কেন করা হলো? আমি তাকে এমন কিছু করতে বলিনি।’ নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা মালপত্র মানসম্পন্ন দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি কলাগাছ সরিয়ে সঠিক নিয়মে কাজ করে দেব।’

কলাগাছের ওপর চলছে দেয়াল নির্মাণ। স্ট্রিম ছবি
কলাগাছের ওপর চলছে দেয়াল নির্মাণ। স্ট্রিম ছবি

শিবচর উপজেলা এলজিইডি উপ-সহকারী প্রকৌশলী জামাল শিকদার জানান, নির্বাচনের পর অফিস খোলা হলেও ব্যস্ততার কারণে ওই কাজের স্থানে যাওয়া হয়নি। খোঁজও না নেওয়ার সুযোগে অনিয়মটি হয়েছে। কলাগাছ সরিয়ে নতুন করে কাজ করানো হবে।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রেজাউল করিমের মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) বাদল চন্দ্র বলেন, ‘আমি শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি। সরকারি কাজে এমন গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। আমি ঘটনাটি দেখছি।’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচএম ইবনে মিজান বলেন, গাইডওয়ালের ইটের গাঁথুনির নিচে কলাগাছ দেওয়ার ঘটনাটি বোধগম্য নয়। উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত