মোহাম্মদপুরে ৯ হত্যায় নানক-তাপসদের বিচার শুরু

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ২১: ১১
এই মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট আসামি ২৮ জন। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাহাঙ্গীর কবির নানক, শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মামলায় সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।

রোববার (১০ মে) চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের সদস্য হলেন– বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, তারেক আবদুল্লাহ, সহিদুল ইসলাম সরদার এবং আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের জানান, ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের যে ‘ওপেন নির্দেশনা’ দেওয়া হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে মোহাম্মদপুরে কিশোর ফাইয়াজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ফাইয়াজ হত্যাসহ ১৮ ও ১৯ জুলাইয়ের অন্যান্য ঘটনায় শেখ হাসিনা, শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

সকালে মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাঁরা হলেন– নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল এবং তিন সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।

শুনানিতে বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান। এরপর কাঠগড়ায় উপস্থিত চার আসামির কাছে তারা দোষ স্বীকার করবেন কিনা, জানতে চান। আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

তিনটি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নৃশংসতা চালায়। আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উপস্থিতিতে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এসব ঘটনায় মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন।

এই মামলার পলাতক আসামি হলেন– সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক, এমএ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হুদয়, মাইনুল হইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত