স্ট্রিম প্রতিবেদক

নওগাঁর মান্দা উপজেলার তুলসিরামপুর গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান। এবার ৫ বিঘা জমিতে স্বর্ণা-৫ জাতের ধানের আবাদ করেছিলেন। চার মাস শেষে প্রতি বিঘায় ধান পেয়েছেন ২২ মণ হারে। এতে বিঘায় তাঁর লাভ হয়েছে আট থেকে সাড়ে আট হাজার টাকা।
তিনি জানান, উৎপাদন ও সময় হিসাব করলে এই লাভ সামান্য। এতে ফের আবাদ করায় আগ্রহ পাচ্ছেন না।
হামিদুর বলেন, ‘২২ মণ ধান বিক্রি করে পেয়েছি ২৬ হাজার ৬২০ টাকা। কিন্তু সার, সেচ, কাটা-মাড়াই, কীটনাশক, শ্রমিকসহ উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পড়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে লাভ মাত্র সাড়ে ৮ হাজার টাকা। এ দিয়ে কীভাবে আবার আবাদ করব, কীভাবে পরিবার চালাব?’
হামিদুরের মতোই এবার ৬ বিঘা জমিতে জিরাশাইল ধানের আবাদ করেছিলেন সদর উপজেলার বর্ষাইল গ্রামের রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, ‘এবার ধানের দাম গতবারের চেয়ে প্রতি মণে প্রায় ১০০ টাকা কম। তাতে প্রতি বিঘায় লাভ হয় মাত্র ৭-৮ হাজার টাকা। এত অল্প টাকায় সংসার চালিয়ে ধানের আবাদ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই কিছু ধান বিক্রি করে বাকিটা সংরক্ষণ করেছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় ১ লাখ ৯২ হাজার ৪৭৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ৬৫ টন। এবার প্রতি বিঘায় ২২ থেকে ২৪ মণ পর্যন্ত ধান উৎপাদন হয়েছে বলে জানান কৃষকরা।
কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর প্রতি বিঘা জমিতে বোরো আবাদে চাষ বাবদ ১ হাজার ৬০০ টাকা ও চারা রোপণ বাবদ আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেই সঙ্গে সেচ খরচ বাবদ এলাকা ভেদে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা, ৩৫-৪৫ কেজি ইউরিয়া সার ১ হাজার ২০০, ২০ কেজি ডিএপি সার ৬০০, ১৫ কেজি এমওপি সার ৩০০, ৪ ডোজ কীটনাশক প্রয়োগে ২ হাজার, দেড় থেকে ২ কেজি জিংক ৩৭৫-৫০০ টাকা খরচ হয়। পরে ধান কাটা বাবদ মাড়াই মেশিনে ৫-৬ হাজার টাকা ও শ্রমিক দিয়ে ৭ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এতে মোট খরচের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮-২০ হাজার টাকা।
বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, জেলার রাণীনগরের আবাদপুকুর হাটে গুটি স্বর্ণা ধান প্রতি মণ ১ হাজার ১৬০ টাকা, স্বর্ণা-৫ ধান ১ হাজার ২১০ টাকা, মিনিকেট ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং কাটারি ধান ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, জেলার মহাদেবপুরের চকগৌরি হাটে জিরাশাইল ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সুফলতা ধান ১ হাজার ২৬০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়।
কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারিভাবে ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। নয়তো ভবিষ্যতে অনেক কৃষক ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।
জেলার রাণীনগর উপজেলার ভেনলা গ্রামের কৃষক প্রদীব কুমার বলেন, ‘বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। কিন্তু সব ধরনের ধামের দাম এবছর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কমেছে। প্রকারভেদে প্রতিমণ ধান ১,৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হলে আমরা পুষিয়ে নিতে পারতাম। নয়তো আগামীতে অন্য কিছু ভাবতে হবে।’
বাসদ নওগাঁ জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও কৃষক নেতা কমরেড জয়নাল আবেদীন মুকুল বলেন, বর্তমানে ধানের দাম কম। তাই ধান বিক্রি করে যা লাভ হচ্ছে, তা দিয়ে কৃষকদের সংসার ও পরবর্তী আবাদে ব্যয়ের সংকুলান হচ্ছে না। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পায় সেদিকে সরকারের নজর দিতে হবে। নইলে ধানের আবাদ থেকে অনেক প্রান্তিক কৃষক মুখ ফিরিয়ে নেবে। এতে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, অনেক কৃষক ধান কাটার পরপরই বিক্রি করে দেন, ফলে কাঙ্ক্ষিত মূল্য পান না। বাজারে ভালো দাম পেতে হলে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ধানগুলো কিছুদিন নিজ সংরক্ষণে রেখে বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যায়। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষি বিভাগ বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার তুলসিরামপুর গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান। এবার ৫ বিঘা জমিতে স্বর্ণা-৫ জাতের ধানের আবাদ করেছিলেন। চার মাস শেষে প্রতি বিঘায় ধান পেয়েছেন ২২ মণ হারে। এতে বিঘায় তাঁর লাভ হয়েছে আট থেকে সাড়ে আট হাজার টাকা।
তিনি জানান, উৎপাদন ও সময় হিসাব করলে এই লাভ সামান্য। এতে ফের আবাদ করায় আগ্রহ পাচ্ছেন না।
হামিদুর বলেন, ‘২২ মণ ধান বিক্রি করে পেয়েছি ২৬ হাজার ৬২০ টাকা। কিন্তু সার, সেচ, কাটা-মাড়াই, কীটনাশক, শ্রমিকসহ উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পড়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে লাভ মাত্র সাড়ে ৮ হাজার টাকা। এ দিয়ে কীভাবে আবার আবাদ করব, কীভাবে পরিবার চালাব?’
হামিদুরের মতোই এবার ৬ বিঘা জমিতে জিরাশাইল ধানের আবাদ করেছিলেন সদর উপজেলার বর্ষাইল গ্রামের রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, ‘এবার ধানের দাম গতবারের চেয়ে প্রতি মণে প্রায় ১০০ টাকা কম। তাতে প্রতি বিঘায় লাভ হয় মাত্র ৭-৮ হাজার টাকা। এত অল্প টাকায় সংসার চালিয়ে ধানের আবাদ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই কিছু ধান বিক্রি করে বাকিটা সংরক্ষণ করেছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় ১ লাখ ৯২ হাজার ৪৭৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ৬৫ টন। এবার প্রতি বিঘায় ২২ থেকে ২৪ মণ পর্যন্ত ধান উৎপাদন হয়েছে বলে জানান কৃষকরা।
কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর প্রতি বিঘা জমিতে বোরো আবাদে চাষ বাবদ ১ হাজার ৬০০ টাকা ও চারা রোপণ বাবদ আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেই সঙ্গে সেচ খরচ বাবদ এলাকা ভেদে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা, ৩৫-৪৫ কেজি ইউরিয়া সার ১ হাজার ২০০, ২০ কেজি ডিএপি সার ৬০০, ১৫ কেজি এমওপি সার ৩০০, ৪ ডোজ কীটনাশক প্রয়োগে ২ হাজার, দেড় থেকে ২ কেজি জিংক ৩৭৫-৫০০ টাকা খরচ হয়। পরে ধান কাটা বাবদ মাড়াই মেশিনে ৫-৬ হাজার টাকা ও শ্রমিক দিয়ে ৭ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এতে মোট খরচের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮-২০ হাজার টাকা।
বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, জেলার রাণীনগরের আবাদপুকুর হাটে গুটি স্বর্ণা ধান প্রতি মণ ১ হাজার ১৬০ টাকা, স্বর্ণা-৫ ধান ১ হাজার ২১০ টাকা, মিনিকেট ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং কাটারি ধান ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, জেলার মহাদেবপুরের চকগৌরি হাটে জিরাশাইল ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সুফলতা ধান ১ হাজার ২৬০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়।
কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারিভাবে ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। নয়তো ভবিষ্যতে অনেক কৃষক ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।
জেলার রাণীনগর উপজেলার ভেনলা গ্রামের কৃষক প্রদীব কুমার বলেন, ‘বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। কিন্তু সব ধরনের ধামের দাম এবছর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কমেছে। প্রকারভেদে প্রতিমণ ধান ১,৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হলে আমরা পুষিয়ে নিতে পারতাম। নয়তো আগামীতে অন্য কিছু ভাবতে হবে।’
বাসদ নওগাঁ জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও কৃষক নেতা কমরেড জয়নাল আবেদীন মুকুল বলেন, বর্তমানে ধানের দাম কম। তাই ধান বিক্রি করে যা লাভ হচ্ছে, তা দিয়ে কৃষকদের সংসার ও পরবর্তী আবাদে ব্যয়ের সংকুলান হচ্ছে না। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পায় সেদিকে সরকারের নজর দিতে হবে। নইলে ধানের আবাদ থেকে অনেক প্রান্তিক কৃষক মুখ ফিরিয়ে নেবে। এতে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, অনেক কৃষক ধান কাটার পরপরই বিক্রি করে দেন, ফলে কাঙ্ক্ষিত মূল্য পান না। বাজারে ভালো দাম পেতে হলে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ধানগুলো কিছুদিন নিজ সংরক্ষণে রেখে বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যায়। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষি বিভাগ বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
.png)

সাতক্ষীরার তালায় চিকিৎসক দেখানোর কথা বলে নিয়ে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে দুই যুবক ও তাদের সহযোগী এক নারীর বিরুদ্ধে তালা থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী।
৩ মিনিট আগে-9002dc.jpeg)
সংসারের অভাব দূর করার লক্ষ্যে সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে চাকরি নিয়েছিলেন গাইবান্ধার রানা মিয়া (২৩) ও খোকন মিয়া (২৬)। কিন্তু শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে গ্যাস বিষক্রিয়ার ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। দুজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে গেল দুটি পরিবারের স্বচ্ছলতায় ফেরার আশা।
২০ মিনিট আগে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। ভোজে গরুর নাম ‘বাকশাল’ রেখে জবাই করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে হওয়া এ আয়োজন ঘিরে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জের নিউ চাষাড়ায় মাদক কারবারিদের ধরতে অভিযানে গিয়ে গুলি ও ইট-পাটকেল হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এতে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চিহ্নিত মাদক কারবারি জসিম ও তাঁর সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর ফতুল্লা থানার নিউ চাষাঢ়া ইসদাইর রেলল
১ ঘণ্টা আগে