দোকানকর্মীর গায়ে হালিম ছুড়ে মারার অভিযোগ জাকসু নেতার বিরুদ্ধে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ৫৯
জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হুসনে মুবারক। সংগৃহীত ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) খাবারের দোকানে কথাকাটাকাটির জেরে এক কর্মীর গায়ে হালিম ছুড়ে মারা এবং আরেকজনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হুসনে মুবারকের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে ক্যাম্পাসের বটতলা এলাকার ‘হাবীব ভাইয়ের দোকানে’ (‘বামের দোকান’ নামে পরিচিত) এই ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, হালিমে মাছি পাওয়া নিয়ে বিতণ্ডার একপর্যায়ে জাকসু নেতা হুসনে মুবারক ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানমালিক হাবীবের ছেলে সাহাবুদ্দিনের দিকে হালিম ছুড়ে মারেন। এর আগে তিনি দোকানের অন্য এক কর্মচারী বিল্লালের থুতনি চেপে ধরে তাঁকে জোর করে মাছিযুক্ত হালিম খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগী সাহাবুদ্দিন জানান, 'জাকসুর ওই নেতাসহ দুজন খেতে এসেছিলেন। হালিমে একটি মাছি পাওয়ায় তিনি চিৎকার শুরু করেন। আমার মামা বিল্লালের মুখ চেপে ধরে তাঁকে ওই হালিম খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। মামা সরে গেলে তিনি হালিমের বাটিটি আমার দিকে ছুড়ে মারেন, যা আমার গায়ে পড়ে।'

অভিযোগের বিষয়ে জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হুসনে মুবারক বলেন, 'আমি সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে খাবারে মাছি দেখে প্রতিবাদস্বরূপ বাটিটি ছুড়ে মেরেছি। তাঁকে শারীরিকভাবে কোনো আঘাত করিনি। খাবারের মান নিশ্চিত করা শুধু জাকসুর একার পক্ষে সম্ভব নয়। কোথাও সমস্যা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত বলে আমি মনে করি।'

এদিকে নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী মেহেরাব তূর্য বলেন, 'শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হয়ে প্রশাসনের মতো আচরণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। জাকসু প্রতিনিধির কাজ হলো সমস্যাগুলো প্রশাসনকে জানানো এবং সমাধানে চাপ দেওয়া, নিজে বিচার করা নয়।'

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইযান আহমেদ অর্ক বলেন, মুবারক যা করেছেন তা মোটেই ছাত্রসুলভ নয়। তাঁর আচরণে একধরনের ‘মাস্তানি’ দেখা গেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি ও সহাবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সার্বিক বিষয়ে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, 'অভিযোগ প্রমাণিত হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

সম্পর্কিত