এমএসএফের প্রতিবেদন

জুনে ‘মব সহিংসতায়’ নিহত ৩৩, কারা হেফাজতে ৯

জুনে নদী, সড়ক, রেললাইন ও ফসলি জমিতে পড়ে থাকা অবস্থায় ৬৫টি অজ্ঞাত ও নামীয় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৫৩।

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ২২: ২৪
মব সহিংসতা। স্ট্রিম গ্রাফিক

‘মব’- এর মাধ্যমে দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা চলছেই। জুনেও এই ধরনের ঘটনায় ৩৩ জন নিহত এবং ১২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। মে মাসে ‘মব সহিংসতায়’ ৩২ জন নিহত হলেও, আহত ছিল ৭১। এক মাসের ব্যবধানে আহত বেড়েছে প্রায় ৭৭ শতাংশ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সংগঠনটি জানায়, দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও নিজস্ব অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে তারা এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

এমএসএফের তথ্যে, জুনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এক এবং কারা হেফাজতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছেন তিনজন।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার সংখ্যা তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, জুনে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতির দিকে গেছে এবং অধিকতর অস্থিতিশীল রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, গণহারে গ্রেপ্তার, অজ্ঞাতপরিচয়ের লাশ উদ্ধার এবং সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি– এসব সূচকে উদ্বেগজনক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা গেছে। এটি আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলায় মে মাসে ৬৫ জন গ্রেপ্তার ছিল। জুনে সাতগুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭৩ জন, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা দমনমূলক ব্যবস্থার সম্ভাবনার সংকেত দেয় এবং বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

জুনে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩০৩ জন আহত ও দলীয় সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়েছে উল্লেখ করে এমএসএফ বলেছে, রাজনৈতিক সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দলীয় ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলা, উভয় ক্ষেত্রেই হতাহতের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হওয়া থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই সহিংস ও অনিরাপদ হয়ে উঠছে।

জুনে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন ৬ জন, গ্রেপ্তার হয়েছেন অনলাইন পোর্টালের তিন সাংবাদিক। এমএসএফের তথ্যে, জুনে নদী, সড়ক, রেললাইন ও ফসলি জমিতে পড়ে থাকা অবস্থায় ৬৫টি অজ্ঞাত ও নামীয় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৫৩।

এমএসএফ জানায়, জুনে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে ৬ জন নিহত এবং তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। জুনে ভারত থেকে ৪২৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়, যার ফলে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের জীবন যাপন করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্তে সহিংসতা কিছু ক্ষেত্রে কমলেও ভারত থেকে পুশইনের চেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একটি বড় মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে। এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এমএসএফ বলেছে, জুনে ৩৪৮ নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুনে মৃত ৯ জন, জীবিত দুজনসহ মোট ১১ নবজাতককে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এই মাসে মাদক কারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত