leadT1ad

অনলাইনে পণ্য বিক্রিতে ভ্যাটের নতুন নির্দেশনা এনবিআরের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ১৭: ৪০
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। স্ট্রিম গ্রাফিক

অনলাইনে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আদায়সংক্রান্ত একটি নতুন দিকনির্দেশনা জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর ফলে অনলাইন খুচরা বিক্রেতাদের জন্য ‘উপকরণ-উৎপাদ সহগ’ দাখিলের বাধ্যবাধকতা দূর করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসের ভ্যাট সংক্রান্ত নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে। অনলাইনে খুচরা বিক্রয় ও মার্কেটপ্লেসের সংজ্ঞা স্পষ্টীকরণসংক্রান্ত নতুন সাধারণ আদেশে ‘অনলাইনে পণ্য বিক্রয়’ সেবা কোডের আওতায় দুটি বিষয়কে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে:

অনলাইনে খুচরা বিক্রয়: ইলেকট্রনিক নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে সেই সব পণ্য বা সেবার ক্রয়-বিক্রি, যা ইতোমধ্যে কোনো প্রস্তুতকারক, সেবাদাতা বা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভ্যাট পরিশোধপূর্বক কেনা হয়েছে এবং পরবর্তীতে খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে ক্রেতার কাছে সরবরাহ করা হবে। এ ক্ষেত্রে অনলাইন খুচরা বিক্রেতার নিজস্ব কোনো বিক্রয়কেন্দ্র বা শো-রুম থাকবে না।

মার্কেটপ্লেস: এটি এমন একটি ডিজিটাল কমার্স প্ল্যাটফর্ম যেখানে একাধিক বিক্রেতা তাঁদের পণ্য বা সেবার তথ্য প্রদর্শন করেন এবং ওই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তা সরবরাহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে মার্কেটপ্লেস পরিচালনাকারী ব্যক্তি নিজে কোনো পণ্য ক্রয় বা বিক্রি করবেন না এবং তাঁদের কোনো নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র থাকবে না।

অনলাইন খুচরা বিক্রেতাদের জন্য নিয়মাবলি

ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনলাইন খুচরা বিক্রেতারা বিভিন্ন উৎস থেকে ভ্যাট পরিশোধিত এবং ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য সংগ্রহ করে চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে বিক্রি করেন।

দ্বৈত কর পরিহার: খুচরা বিক্রেতারা যদি মূল উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারীর কাছ থেকে ভ্যাট পরিশোধপূর্বক পণ্য সংগ্রহ করে একই মূল্যে ভোক্তার কাছে সরবরাহ করেন, তবে পুনরায় সম্পূর্ণ পণ্যমূল্যের ওপর ভ্যাট দিতে হবে না। দ্বৈত কর পরিহারের এই সুবিধা পেতে কর পরিশোধের প্রমাণপত্র হিসেবে মূসক (মূল্য সংযোজন কর) চালানপত্র বা ট্রেজারি চালানের কপি প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকতে হবে।

ভ্যাটের হার ও রেয়াত: অনলাইনে খুচরা বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান চাইলে ১৫ শতাংশ হারেও ভ্যাট পরিশোধ করতে পারে।

‘মূসক-৪.৩’ দাখিলে অব্যাহতি: সাধারণত পণ্য সরবরাহের পূর্বে ‘উপকরণ-উৎপাদ সহগ’ বা মূসক-৪ দশমিক ৩ দাখিল করা বাধ্যতামূলক হলেও, অনলাইন খুচরা বিক্রেতাদের পণ্যের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য অত্যধিক হওয়ায় এটি তাঁদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সার্বিক বিবেচনায়, অনলাইন খুচরা বিক্রেতাদের জন্য পণ্য বিক্রয় সেবার বিপরীতে উপকরণ-উৎপাদ সহগ (মূসক-৪ দশমিক ৩) দাখিল বাধ্যতামূলক নয় বলে আদেশে জানানো হয়েছে।

ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসের জন্য কর নির্দেশনা

মার্কেটপ্লেসগুলো মূলত ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে কেনাকাটা সম্পাদনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং তাদের নিজস্ব কোনো পণ্যের মালিকানা থাকে না।

কমিশনের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট: মার্কেটপ্লেসগুলোর প্রাপ্ত সেবামূল্য বা কমিশন ফি-এর ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য হবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যেও ভ্যাট: প্রথম তফসিলভুক্ত ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য যেমন—শাকসবজি, মাছ, ডাল, চাল, মাংস ইত্যাদি ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও যদি মার্কেটপ্লেস কোনো কমিশন বা সেবামূল্য পায়, তবে ওই সেবামূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে।

চালান সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা নেই: মার্কেটপ্লেস পরিচালনাকারীরা সরাসরি পণ্য ক্রয়-বিক্রি না করায় তাঁদের অনলাইন মার্কেটপ্লেসে মূসক চালানপত্র বা ট্রেজারি চালানের কপি সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কর্মকর্তার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ক্রেতা বা বিক্রেতার লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য দিতে তাঁরা আইনত বাধ্য থাকবেন।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য ও বিশেষ শর্ত

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথম তফসিলভুক্ত ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য সরবরাহ করা হলেও, ‘অনলাইনে পণ্য বিক্রয়’ সেবাটি ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত নয়। তাই যেকোনো পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত কমিশন বা সেবামূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য হবে।

তবে শর্ত হচ্ছে, অনলাইনে পণ্য বিক্রয়কারী কর্তৃক সংগৃহীত পণ্য বা সেবার বিপরীতে যদি সরবরাহ গ্রহণ পর্যায়ে প্রযোজ্য ভ্যাট পরিশোধ করা না হয়ে থাকে, তবে ক্রেতার কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট পণ্য বা সেবার নির্ধারিত হারে এবং অনলাইন সার্ভিস চার্জসহ আদায় করতে হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত