leadT1ad

অস্তিত্বহীন মৎস্য খামার দেখিয়ে বিপুল সম্পদ অর্জন: সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ৫৩
সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

মৎস্য খাতের আয়ের আড়ালে ৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাবে ২৩ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এসব অভিযোগে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে তাঁর প্রদর্শিত মৎস্য খাতের আয়ের সপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ মেলেনি। বাস্তবেও কোনো খামারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) কমিশন এই অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দেয়। এর আগে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ করবর্ষের আগে শরীফ আহমেদের সঞ্চয় ছিল মাত্র ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তবে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত তিনি ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৩ হাজার ১৮ টাকা আয় দেখান। এর মধ্যে শুধু মৎস্য খাত থেকেই ৪ কোটি ৪৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৫৩ টাকা আয়ের দাবি করেন তিনি। তবে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে মৎস্য চাষের কোনো অস্তিত্ব পাননি। এই আয়ের সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্রও নেই। ফলে ৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকাকে অবৈধ আয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে দুদক।

দুদকের হিসাব অনুযায়ী, মৎস্য খাতের ভুয়া আয় বাদ দিলে তাঁর বৈধ আয় দাঁড়ায় ২ কোটি ৫৫ লাখ ১৯ হাজার ৫৬৫ টাকা। একই সময়ে তাঁর পারিবারিক ব্যয় ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৮১ টাকা। সেই হিসাবে খরচ বাদে তাঁর নিট বৈধ সঞ্চয় থাকার কথা ১ কোটি ৩১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮৪ টাকা।

তবে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, শরীফ আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৪ কোটি ৫৫ লাখ ১৮ হাজার ৫৮১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এসব সম্পদ তিনি নিজের ভোগদখলে রেখেছেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শরীফ আহমেদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ১২টি হিসাব রয়েছে। এসব হিসাবের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তের সময় ওই সব হিসাবে ২৩ কোটি ৮ লাখ ২৩ হাজার ৪০৯ টাকা জমা পড়ার তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া ১৯ কোটি ৬০ লাখ ৫৮ হাজার ৪০৭ টাকা উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আয়ের উৎসের সঙ্গে মিল না থাকায় এসব লেনদেনকে অর্থপাচার আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে দুদক। অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকা লেনদেনের জন্যই ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন ও অর্থপাচার আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান।

Ad 300x250

সম্পর্কিত