leadT1ad

র‍্যাব সদস্য নিহত

র‌্যাব কর্মকর্তাকে হত্যা: জঙ্গল সলিমপুরের পথে পথে চেকপোস্ট

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

জঙ্গল সলিমপুরের অভিযান চালাবে যৌথবাহিনী, সব পথে চেকপোস্ট। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক র‍্যাব সদস্য নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার ঘটনায় ওই এলাকায় অভিযান চালাবে যৌথবাহিনী। তার আগে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের ‘ছিন্নমূল জনপদ’ এলাকার সব প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে স্ট্রিমকে নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব–৭-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা মোজাফফর বলেন, ‘আমাদের সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালানোর পর আমরা দ্রুত পুরো এলাকা ঘিরে ফেলি। যেন কেউ পালাতে না পারে, এ জন্য সব প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ চেকপোস্ট দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। যৌথবাহিনীর অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। তবে কখন অভিযান শুরু হবে, তা বলা যাচ্ছে না।’

এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ‘ছিন্নমূল জনপদ’ এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে হামলা শিকার হন র‌্যাব সদস্যরা। সেখানে র‌্যাব–৭-এর প্রতিনিধিত্বকারী বিজিবির নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেব মারধরে নিহত হন। আহত হন তাঁর সঙ্গে থাকা র‌্যাবের আরও দুই সদস্য ও এক সোর্স। হামলায় গুরুতর আহত তিনজনকে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

‘বাবা, তুমি এখন যেয়ো না’

নিহত র‌্যাব সদস্য আব্দুল মোতালেবের বাড়ি কুমিল্লার কোটবাজারে। আট ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। লেখাপড়া শেষে বিজিবিতে যোগ দেন। গত দুই বছর র‍্যাব-এ কাজ করেছেন। সর্বশেষ গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে এসেছিল। তাঁর মেয়ে বলেছিল, ‘বাবা, তুমি এখন যেয়ো না।’ মেয়ের কথা না শুনেই তিনি কাজে যোগ দেন বলে জানান আব্দুল মোতালেবের ভাই জাকির হোসেন ভূঁইয়া।

জাকির হোসেন বলেন, ‘গতকাল অভিযানে যাওয়ার পর সন্ত্রাসীদের গুলিতে সে শহীদ হয়েছে। একজন সামরিক কর্মকর্তারও নিরাপত্তা নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, যারা হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যেন কোনো মায়ের মুখ যেন খালি না হয়। কোনো মেয়ে যেন তার বাবাকে না হারায়। স্ত্রী যেন স্বামীহারা না হয়।’

আব্দুল মোতালেবের মেজো ভাই মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাই অনেক ভালো মানুষ ছিল। সে সরকারি চাকরি করলেও সমাজের মানুষের সঙ্গে মিশে সামাজিক কাজ করত। ছোট ভাইকে হারিয়ে আমরা এখন দিশাহারা। তাঁর ছেলেমেয়েরা এতিম হয়ে গেছে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত