জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

নরসিংদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে কিশোরী হত্যার অভিযোগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নরসিংদী

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১: ০০
ছবি: স্ট্রিম গ্রাফিক

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তাঁর বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ‘প্রেমিক’সহ কয়েকজন স্থানীয় যুবকের জড়িত।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি শর্ষেখেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমেনা আক্তার (১৫) নামের ওই কিশোরীকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিবারের দাবি, আমেনার সঙ্গে স্থানীয় যুবক নুরুল ইসলাম ওরফে নুরার প্রায় চার মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলে নুরা তাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে স্থানীয়ভাবে একটি সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করা হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, আমেনার বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে তিনি স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় ১৫ দিন আগে নুরার নেতৃত্বে ৫–৬ জনের একটি দল স্থানীয় কাপড়ের কারখানার কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে আমেনাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাও স্থানীয়ভাবে মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আহমেদের মধ্যস্থতায় ‘মীমাংসা’ করা হয় বলে দাবি পরিবারের।

নিহতের বাবা আশরাফ হোসেনের অভিযোগ, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি মেয়েকে নিয়ে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকা থেকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নুরার নেতৃত্বে ৫–৬ জন যুবক তার মেয়েকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মেয়ের সন্ধান না পেয়ে তিনি বাড়ি ফিরে ইউপি সদস্যকে বিষয়টি জানান।

পরদিন সকালে স্থানীয়রা একই এলাকার একটি শর্ষেখেতে আমেনার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের মা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে নুরার সম্পর্ক ছিল। নুরাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে অস্বীকৃতি জানায়। ১৫ দিন আগে নুরা ও তার সহযোগীরা জোর করে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। এরপর থেকে তারা হুমকি দিচ্ছিল। গতকাল রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে পাঠাতে গেলে পথে তাকে তুলে নিয়ে যায়। সকালে বাড়ির পাশে তার লাশ পাওয়া গেছে। আমি মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’

মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আহমেদ বলেন, ‘গত রাতে ভুক্তভোগী পরিবার আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছিল, কিন্তু আমি বাসায় ছিলাম না। এখন যেহেতু হত্যার ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

ঘটনার পর অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ওরফে নুরা পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। তার পরিবারের সদস্যদেরও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় এবাদুল্লাহ (৩২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা সবাই ভাসমান জানিয়ে ওসি আরও বলেন, ১৫ দিন পূর্বে ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানা-পুলিশসহ কাউকে অবগত করেনি।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ না পেলেও জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকলে ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিষয়:

ধর্ষণ

সম্পর্কিত