leadT1ad

বাজেট গণবিরোধী বলা ব্যক্তিরা জনগণের বন্ধু নন: প্রধানমন্ত্রী

Multiple Authors
স্ট্রিম প্রতিবেদক ও স্ট্রিম সংবাদদাতা
মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলছে, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না। এই দলগুলো দেশে অশান্তি সৃষ্টি করলে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মতো প্রয়োজনীয় কার্যক্রম করতে পারব না। জনগণকে তাদের বিষয়ে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, যারা বিভ্রান্ত ছড়াতে চান, এরা আবার কি বলে জানেন? এরা বলেন– ফ্যামিলি কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশে বলছি– চা শ্রমিকদের ঘর নির্মাণে ২ লাখ, সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য ১০ হাজার, চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার করে টাকা দেওয়া হলো। এগুলো আগে কখনো কোনো সরকার দিয়েছিল? দেয়নি। এটি জনগণের অর্থ।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি ১৭ বছর ধরে কীভাবে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়েছিল। জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে একটি দল বিদেশে পাচার করেছিল। যারা বলে কোথা থেকে আসবে, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই– জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না আমরা। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। ইনশাআল্লাহ, টাকার কোনো অভাব হবে না।

তারেক রহমান বলেন, আমি নির্বাচনের আগে হবিগঞ্জের জনসভার মঞ্চ থেকে বলেছিলাম– বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে চা বাগানে যেসব মায়েরা কাজ করে, তাদের ফ্যামিলি কার্ড দেব। আজ আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। হ্যাঁ, আমরা হয়ত আজ সবাইকে দিতে পারিনি। কিন্তু ইনশাআল্লাহ, আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সব নারী চা শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব।

তিনি বলেন, যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে এবং জনগণের অর্থ এখনো বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব। আমরা সবাই চোখ-কান খোলা রাখলে এদেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ কেউ পাচার করতে পারবে না।

সরকারের আগামী এক বছরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ৪০ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রমুখ।

এর আগে বিমানযোগে সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মৌলভীবাজার শহরে এবং ১টার দিকে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। জেলা শহরকে নতুন সাজে সাজানো হয়। সরকারি স্থাপনা পরিষ্কার ও রঙ করে চাকচিক্য বাড়ানো হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত