গোপালগঞ্জে চলছে সাঁজোয়া মহড়া: আটক ২০
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টা থেকে জারি করা হয় কারফিউ। কারফিউ জারি থাকবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত।
স্ট্রিম প্রতিবেদকগোপালগঞ্জ

এনসিপির কর্মসূচিকে ঘিরে গোপালগঞ্জ তৈরি হয়েছিল রণক্ষেত্রে। শহরের প্রতিটি রাস্তায় রয়ে গেছে তার চিহ্ন। ভেঙে ফেলা তোরণ গেট, ব্যানার, ফেস্টুন, ইট পাটকেলসহ ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করেছে গোপালগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টা থেকে জারি করা হয় কারফিউ। কারফিউ জারি থাকবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত।
জেলা কারাগারের সামনে এখনো রয়েছে সেনাবাহিনী ও বিজিবির টিম। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে টহল দিচ্ছে পুলিশের সঙ্গে র্যাব ও আনসার বাহিনী। খুলনা থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি টিমও যুক্ত হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থায়।
কারফিউর মধ্যেও বৃহস্পতিবার সকালে শহরে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক দেখা গেছে। দোকানপাট অধিকাংশ বন্ধ থাকলেও লোকজন সীমিত পরিসরে চলাফেরা করছে।

শহরের প্রতিটি রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে গতকাল বুধবার সংঘর্ষে ছোড়া ইট-পাটকেলের ভাঙা অংশ। গতকাল জেলার বিভিন্ন সড়কে গাছ কেটে তৈরি ব্যারিকেটের গুঁড়ি পড়ে আছে এখনো। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে এনসিপি নেতাদের আগমনকে স্বাগত জানাতে তৈরি তোরণ, টাঙানো ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। সড়কে পড়ে আছে এসবের ধ্বংসাবশেষ।
এনসিপির কর্মসূচি কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) ড. মো. রুহুল আমিন সরকার বলেন, গতকাল থেকে এ পর্যন্ত গোপালগঞ্জের যৌথ অভিযানে সেনাবাহিনী ১৫ জনকে এবং পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের ঢাকা রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রেজাউল করিম মল্লিক গোপালগঞ্জ পরিদর্শন করেছেন। তিনি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে কিছু সময় অবস্থান করে ফিরে যান।
ঘটনার পূর্বাভাস থাকলেও সহিংসতার মাত্রা এতটা হবে, তা ধারণা করা যায়নি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
গোপালগঞ্জের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান, গোপালগঞ্জের সহিংসতায় জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যাঁরা অন্যায় করেছেন, তাঁদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গোপালগঞ্জে ঘটনার পূর্বাভাস থাকলেও সহিংসতার মাত্রা এতটা হবে, তা ধারণা করা যায়নি।
এসময় ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
.png)
-028855-256x144.webp)





