১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে জুয়া আইন পাস

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ২০: ৩৩
সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।

বিলটি পাসের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিদ্যমান “দ্য পাবলিক গাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭” দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো। এর ফলে ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ভিত্তিক জুয়া প্রতিরোধে আগের আইনি কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। এ কারণেই কঠোর সাজার বিধান রেখে নতুন আইনটি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, নতুন এই আইনে অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল ওয়ালেট ও ঘোস্ট সিমের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ স্থানান্তর, বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ বা চ্যানেল পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ছাড়া জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার এবং ‘স্পনসরশিপ’-এর ক্ষেত্রেও কঠোর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধসমূহকে আমলযোগ্য এবং অজামিনযোগ্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এসব অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট-এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের ভোট গ্রহণ করলে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত