শ্রমিকের মর্যাদা ও কল্যাণেই সম্ভব স্বনির্ভর বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৪৭
বালাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত হলেই সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষ দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি আর অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন। শ্রমিকের পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি। তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা সরকারের প্রধান অঙ্গীকার।

তারেক রহমান আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের দুটো হাত রাষ্ট্র এবং সমাজের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের চাবিকাঠি। শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের কল্যাণের কথা ভেবেই শহিদ জিয়া নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর প্রবর্তিত নীতি ও সংস্কার শ্রমিক কল্যাণের ভিতকে শক্তিশালী করেছে। বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে, শ্রমবাজার তৈরি করেছিলেন জিয়াউর রহমান। সেই প্রবাসী শ্রমিকরা বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি।

বিএনপি সরকার যতবার ক্ষমতায় এসেছে, শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের কল্যাণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৯টি কনভেনশন এবং একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকার শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্যেই বিগত ঈদুল ফিতরে দেশের সব শ্রমিকের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করেছে সরকার। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনা করে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করতেও সরকার বদ্ধপরিকর। প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষাসহ নানাবিধ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত হলেই সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গঠনে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী দেশ-বিদেশে কর্মরত সব শ্রমজীবী মানুষকে শুভেচ্ছা জানান। ১৮৮৬ সালের মে মাসে শিকাগোর হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে লড়াই করা শহিদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তিনি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত