২৫ কোটি গাছ রোপণে কাজ পাবেন সাড়ে ৩ লাখ মানুষ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ১৯: ১৫
স্ট্রিম গ্রাফিক

আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ সব কথা বলেন।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষার এই কার্যক্রমে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ বা ‘একটি শিশু একটি গাছ’ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ ও এর রক্ষণাবেক্ষণে সরাসরি যুক্ত করা হবে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন সবুজায়ন বাড়বে, অন্যদিকে শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি হবে।

প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর লক্ষ্যমাত্রা

শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিতে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর বিষয়ে বাজেটে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ ছাড়া সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বন রক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

এসব বনের ৫০ শতাংশকে ‘কার্বন ট্রেডিং’ বা আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী, যা পরিবেশ রক্ষায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিশ্চিত করবে।

পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট পেশ করার সময় তিনি বলেন, আগামী ৭ বছরের মধ্যে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। ব্যারেজটি নির্মিত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি সুফল পাবেন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ও নদী ব্যবস্থাপনায় ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের বিষয়েও নিজের বক্তব্যে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান সরকার কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীল একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

সম্পর্কিত