leadT1ad

হাইকোর্টে সোহেল-স্বপ্নার ডেথ রেফারেন্সের নথি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ২০: ৪৮
ডেথ রেফারেন্সসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি লাল কাপড়ে মুড়ে হাইকোর্টের আদান-প্রদান শাখায় পাঠানো হয়। ছবি: ফোকাসবাংলা

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য পুরো নথি হাইকোর্টে এসেছে। মঙ্গলবার (৮ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য নথি পাঠানোর আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, ৬৯ পৃষ্ঠা রায়ের কপি, তিন পৃষ্ঠা ডেথ রেফারেন্সসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি লাল কাপড়ে মুড়ে উচ্চ আদালতের আদান-প্রদান শাখায় পাঠানো হয়। বেলা ৪টার দিকে এই আলোচিত মামলার নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছে।

গত ৭ জুন আলোচিত এই মামলার রায়ে বিচারক মাসরুর সালেকীন প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি সোহেলকে ৫ লাখ এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে বুঝিয়ে দিতে রায়ে বলা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। রায় ঘোষণার পর বিচারিক আদালত থেকে দ্রুত মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। সঙ্গে দণ্ডিতদের আপিল যুক্ত করে ক্রমানুসারে সাজিয়ে যে ভলিউম বা বই তৈরি করা হয়, তাকে পেপারবুক বলা হয়। হাইকোর্ট এই পেপারবুকের ভিত্তিতেই আপিল ও ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা রামিসা হত্যা মামলার রায়ের রেফারেন্স আসার অপেক্ষায় ছিলাম। নথিটি হাইকোর্ট বিভাগের আদান-প্রদান শাখা গ্রহণ করেছে। আমি সংশ্লিষ্টদের যত দ্রুত সম্ভব, পেপারবুক তৈরি এবং সেটি হওয়ার পর আমাকে জানাতে বলেছি।

দুই কর্মদিবসের মধ্যে পেপারবুকের কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা আগামী রোববার থেকে প্রধান বিচারপতি যে নতুন বেঞ্চ গঠন করেছেন, সেখানে মামলাটি শুনানির জন্য উদ্যোগ নেব। আমি আশা করছি, পরবর্তী দুই কর্মদিবসের মধ্যে হয়তো পেপারবুকের কাজ সম্পন্ন হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ রকম নির্মম হত্যাকাণ্ডে নিম্ন আদালত মূল আসামি ও তার স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মানুষের প্রত্যাশা যত দ্রুত সম্ভব রায়টি বাস্তবায়ন হবে। আর এজন্যই ডেথ রেফারেন্সের নথি দ্রুততার সঙ্গে শুনানি ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, দণ্ডিতরা জেল আপিল করতে পারেন, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। তাদের আইনি সুযোগ দিতে হবে। আমি আগেই বলেছি– এই মামলার আপিল শুনানি হাইকোর্টের যে বেঞ্চে হবে, আমরা কোনো দিন বিলম্ব ঘটাব না, কোনো মুলতবি গ্রহণ করব না।

গত ১৯ মে ঢাকার পল্লবীতে ভাড়াবাসায় সোহেল-স্বপ্না দম্পতির ঘর থেকে রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন শিশুর বাবা। এরপর ২০ মে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন দুই আসামি।

এই নৃশংস ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। গত ১ জুন বিচার শুরুর পর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্ক শেষ হয় ৪ জুন। সবমিলে ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় নিম্ন আদালতে এই মামলার রায় হলো।

Ad 300x250

সম্পর্কিত