মা ও তিন মেয়ে খুন

‘বাঁচাও বাঁচাও’ শুনে যান প্রতিবেশী, রক্ষা করতে না পারায় আক্ষেপ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ১৪: ১২
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তাঁর তিন মেয়ে। সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হত্যার শিকার মা ও তিন মেয়ের বাসা থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ শব্দ পেয়েছিলেন প্রতিবেশী আফরোজা বেগম রানী। ছুটেও যান। তবে কাউকে রক্ষা করতে পারেননি। সেই আক্ষেপে পুড়ছেন এই নারী।

আফরোজা বেগম স্ট্রিমকে জানান, বাঁচাও বাঁচাও শুনে হত্যার শিকার শাহিনুর বেগমের (৩৮) বাসার জানালায় গিয়ে ডাকেন। তবে কারও সাড়া পাননি। এর মধ্যে শব্দও থেমে যায়। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর দেখেন একজন রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছে। মনে করেন, শাহিনুরের ছেলে সিফাত৷ তখন সিফাতের নাম ধরে ডাকেন। এবারও কেউ সাড়া দেয়নি।

তিনি বলেন, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে একটু সরতেই জানালা বন্ধ করার শব্দ পান। ফিরে তাকাতে দেখেন প্যান্ট হাতে এক যুবক। তাকে ওই বাসায় আসার কারণ জানতে চাইলে বলেন, পাইপলাইন ঠিক করতে এসেছেন। তবে প্যান্ট হাতে থাকায় আফরোজার সন্দেহ হয়। পরে তিনি বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে প্রতিবেশীদের খবর দেন।

আফরোজা আরও বলেন, এরপর সবাই গিয়ে বাসায় ঢুকে দেখেন মেঝে রক্তে ভেসে যাচ্ছে। এর মধ্যে ওই যুবক বাসার ছাদে উঠে যান। পরে স্থানীয়দের মারধরে ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘একে একে চারটি তাজা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ঘাতক। আমি তো একটা মানুষকেও বাঁচাতে পারলাম না। পাশের মানুষগুলোকে বাঁচাতে পারলাম না।’

গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার নদীর পাড় এলাকায় আমির হোসেন মাস্টারের ভবনের ভাড়াটিয়া শাহিনুর ও তাঁর ৩ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বাইরে কাজে যাওয়ায় বেঁচে গেছে শুধু ১৫ বছরের ছেলে সিফাত। শাহিনুরদের বাড়ি কুমিল্লায়। এ ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের (২৮) বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে। ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা অন্তরও ওই ভবনের ভাড়াটিয়া ছিলেন।

আফরোজা বলেন, শাহিনুর ভালোমানুষ ছিলেন। তার ছেলে-মেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী। তাঁর স্বামী কামাল হোসেন হাঁড়িপাতিল ফেরি করে বিক্রি করতেন। ২০১৯ সালে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে তিনি মারা যান। এরপর শাহিনুর অনেক কষ্টে সন্তানদের বড় করছিলেন।

তিনি আরও বলেন, শাহিনুরের বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছে। ছেলে সিফাত রায়পুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার পাশাপাশি পাশের একটি দোকানে কাজ করত। মেঝো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯) মার্চেন্টস একাডেমিতে পড়ত। এখন সিফাত ছাড়া কেউ বেঁচে রইল না।

নিহত অন্তরের বিষয়ে আফরোজা বলেন, ‘লোকটাকে আমি চিনি না। কখনও দেখিনি। এই প্রথমই দেখলাম। ঘটনার পরই শুনেছি সেও নাকি ওই ভবনে ভাড়া থাকত।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত