স্ট্রিম প্রতিবেদক

চোখ বাঁধা, হাতে হাতকড়া, মাথায় যমটুপি। ছুটন্ত মাইক্রোবাসে বসে হুমকি—‘যা জিজ্ঞাসা করব সত্য বলতে হবে, অন্যথায় ক্রসফায়ার দিয়ে লাশ গুম করে ফেলব।’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে ২০১৮ সালে নিজের গুম হওয়ার ও জীবন্ত কবরে বন্দিজীবনের এভাবেই বর্ণনা দিয়েছেন ৭১ বছর বয়সী ইকবাল চৌধুরী।
সোমবার (২ মার্চ) জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এই ভুক্তভোগী।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
পেশায় শিক্ষক ও ব্যবসায়ী ইকবাল চৌধুরী আদালতকে জানান, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিডিআর ও শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, গুম-খুন ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ নিয়ে তিনি ফেসবুকে লেখালেখি করতেন।
এর জের ধরে ২০১৮ সালের ৭ মে রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধের বাসায় সাদা পোশাকধারী সাত-আটজন লোক হাজির হন। স্ত্রী লায়লা আঞ্জুমান দরজা খুললে তারা ইকবালের খোঁজ করেন। তিনি সামনে এলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে কিছু তথ্য জানার কথা বলে ধমকের সুরে তাকে তাদের অফিসে যেতে বলা হয়।
সাক্ষী জানান, পঞ্চম তলা থেকে নিচে নামানোর পর কালো গ্লাসের সাদা রঙের মাইক্রোবাসে ডিবির পোশাক পরা দুজন তাকে জোর করে গাড়িতে তোলেন। গাড়িতে ওঠার পরই তার চোখ বাঁধা হয়, যমটুপি ও হাতকড়া পরানো হয়। এ সময় তাকে সত্য না বললে ক্রসফায়ার করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
গাড়িটি ২০-৩০ মিনিট চলার পর একটি গেটে প্রবেশ করে। সেখানে তাকে ৮-১০ ফুটের একটি পলেস্তারাবিহীন, এবড়োখেবড়ো দেয়ালের কক্ষে রাখা হয়। কক্ষটিতে থাকা ছোট চৌকিতে তেলচিটচিটে বালিশ ও পুরোনো ময়লা চাদর বিছানো ছিল। মাথার ওপর ২৪ ঘণ্টা জ্বলত একটি বাতি, আর সামনের দেয়ালে থাকা বড় এগজস্ট ফ্যানে প্রচণ্ড শব্দ হতো।
লোহার শিক ও কাঠের দরজা বন্ধ করে দেওয়ার পর চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন ইকবাল চৌধুরী। জবানবন্দি দেওয়ার একপর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, তার মনে হচ্ছিল তিনি একটি জীবন্ত কবরে আছেন।
সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও শাইখ মাহদী।
মামলার ১৩ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন তিনজন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন মেয়াদে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
বাকি পলাতক আসামিরা হলেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক। গত ১৮ ডিসেম্বর এই ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

চোখ বাঁধা, হাতে হাতকড়া, মাথায় যমটুপি। ছুটন্ত মাইক্রোবাসে বসে হুমকি—‘যা জিজ্ঞাসা করব সত্য বলতে হবে, অন্যথায় ক্রসফায়ার দিয়ে লাশ গুম করে ফেলব।’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে ২০১৮ সালে নিজের গুম হওয়ার ও জীবন্ত কবরে বন্দিজীবনের এভাবেই বর্ণনা দিয়েছেন ৭১ বছর বয়সী ইকবাল চৌধুরী।
সোমবার (২ মার্চ) জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এই ভুক্তভোগী।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
পেশায় শিক্ষক ও ব্যবসায়ী ইকবাল চৌধুরী আদালতকে জানান, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিডিআর ও শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, গুম-খুন ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ নিয়ে তিনি ফেসবুকে লেখালেখি করতেন।
এর জের ধরে ২০১৮ সালের ৭ মে রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধের বাসায় সাদা পোশাকধারী সাত-আটজন লোক হাজির হন। স্ত্রী লায়লা আঞ্জুমান দরজা খুললে তারা ইকবালের খোঁজ করেন। তিনি সামনে এলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে কিছু তথ্য জানার কথা বলে ধমকের সুরে তাকে তাদের অফিসে যেতে বলা হয়।
সাক্ষী জানান, পঞ্চম তলা থেকে নিচে নামানোর পর কালো গ্লাসের সাদা রঙের মাইক্রোবাসে ডিবির পোশাক পরা দুজন তাকে জোর করে গাড়িতে তোলেন। গাড়িতে ওঠার পরই তার চোখ বাঁধা হয়, যমটুপি ও হাতকড়া পরানো হয়। এ সময় তাকে সত্য না বললে ক্রসফায়ার করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
গাড়িটি ২০-৩০ মিনিট চলার পর একটি গেটে প্রবেশ করে। সেখানে তাকে ৮-১০ ফুটের একটি পলেস্তারাবিহীন, এবড়োখেবড়ো দেয়ালের কক্ষে রাখা হয়। কক্ষটিতে থাকা ছোট চৌকিতে তেলচিটচিটে বালিশ ও পুরোনো ময়লা চাদর বিছানো ছিল। মাথার ওপর ২৪ ঘণ্টা জ্বলত একটি বাতি, আর সামনের দেয়ালে থাকা বড় এগজস্ট ফ্যানে প্রচণ্ড শব্দ হতো।
লোহার শিক ও কাঠের দরজা বন্ধ করে দেওয়ার পর চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন ইকবাল চৌধুরী। জবানবন্দি দেওয়ার একপর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, তার মনে হচ্ছিল তিনি একটি জীবন্ত কবরে আছেন।
সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও শাইখ মাহদী।
মামলার ১৩ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন তিনজন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন মেয়াদে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
বাকি পলাতক আসামিরা হলেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক। গত ১৮ ডিসেম্বর এই ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
২ ঘণ্টা আগে
সুপারভাইজারের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে ফিরবেন নিজের ডেরায়। কিন্তু সেই পাঁচ মিনিট আর ফুরায়নি । ইরানের ছোঁড়া একটি ড্রোনের খণ্ডাংশ কেড়ে নেয় সন্দ্বীপের এই প্রবাসী শ্রমিকের প্রাণ।
২ ঘণ্টা আগে
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সালেহ আহমদ (৫৫) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গত শনিবার রাতে ইফতারের পর এই ঘটনা ঘটে।
২ ঘণ্টা আগে
কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
৩ ঘণ্টা আগে