করছাড় সীমিত হলেও ব্যবসা সহজ করার আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৭: ৩৯
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

আসন্ন জাতীয় বাজেটে আয়কর ও মূল্য সংযোজন করের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বড় ধরনের ছাড় দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, দেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব ধরনের বাধা ধাপে ধাপে দূর করা হবে।

আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় বাজেটের আগে ব্যবসায়ী ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় পরামর্শমূলক বৈঠক।

অর্থমন্ত্রী বলেন, 'ব্যবসা করতে যত বাধা আছে, আমরা সব বাধা সরিয়ে দিতে চাই। বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধিই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে।' তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে এবং তাঁদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল বা চার্জ বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি যৌক্তিক নয়। বন্দর ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও ব্যবসার পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের আগামী তিন মাসের মধ্যে তাঁদের সমস্যাগুলো জানাতে আহ্বান জানিয়ে তিনি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতই প্রধান চালিকাশক্তি। তাই এই খাতের বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাক খাত ভালো করলেও অন্যান্য অনেক খাত পিছিয়ে রয়েছে। এসব খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে গার্মেন্টস খাতের মতোই সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজি সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। এই সমস্যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আইএমএফের কাছে সময় চাওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, দুই বছরের একটি সময়সীমা পেলে এরপর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি পাবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরকারকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি বড় আকারের বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এতে অপ্রয়োজনীয় বড় প্রকল্পের পরিবর্তে কার্যকর অবকাঠামো খাতে গুণগত বিনিয়োগে জোর দেওয়া হবে এবং উৎপাদনশীল ব্যয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সভায় এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংগঠনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যক্তির জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা, নারী ও প্রবীণদের জন্য সাড়ে ৫ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। সংগঠনের প্রশাসক মো. আব্দুর রহিমা খান বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে করদাতাদের ওপর চাপ কমাতে এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহিমা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, করছাড় সীমিত হলেও ব্যবসা সহজীকরণে সরকারের জোরালো অবস্থান বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সম্পর্কিত