leadT1ad

সংসদে শিবির নেতা জিশানকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি, হট্টগোল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১৭: ৩৫
জাতীয় সংসদের অধিবেশন। সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জিশান মিয়াকে নিয়ে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে এটি বাতিল করার দাবি জানান বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এ সময় সংসদে উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল একাধিকবার হট্টগোল থামানোর চেষ্টা করলেও প্রায় ১১ মিনিট ধরে চলে এই হট্টগোল। ডেপুটি স্পিকার কোনো কিছুই রেকর্ড হয়নি জানিয়ে হট্টগোল বন্ধ করেন।

সংসদে জিসানকে নিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জিশান মিয়া মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করলে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে জিশান মিয়া প্রধান ভিকটিম মেয়েটিকে জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে এবং ভ্রূণ নষ্ট না করলে ভিকটিমকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।

তিনি আরও বলেন, গত ১১ জুন তারিখ রাত সাড়ে আটটায় বিয়ে না করার টালবাহানায় জিশান নিজেই আত্মগোপন করে তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ রাসেল আহমেদের মাধ্যমে দাউদকান্দি থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন। নিখোঁজ জিডির অনুসন্ধানকালীন কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানা এলাকায় স্থানীয় লোকজন ও লাকসাম থানা পুলিশের মাধ্যমে আত্মগোপনে থাকা জিশান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু এই বিষয়ে অনেকেই ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তার নিখোঁজের বিষয়টি অন্যভাবে বর্ণনা করে সরকারকে দায়ী করতে চেয়েছিল এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের পরে সেটা আমরা মনে করলাম এই ঘটনা জাতির সামনে প্রকাশ করা দরকার। তাই আমি এই মহান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে এটা প্রকাশ করলাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্পিকারকে বলেন, ‘প্রথমে বলা হয়েছিল যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে একটি বিবৃতি দেবেন এবং সেই হিসাবেই আমরা উনাকে এলাউ করেছি। আমরা এটাকে এগ্রি করেছি এবং উনি যে বিবৃতিটা দিয়েছেন এটা অত্যন্ত একটি উল্লেখযোগ্য এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ পুলিশের সফলতা। আমরা পুলিশকে এজন্য ধন্যবাদ জানাই। সেই হিসেবে আমরা তালি দিয়েছিলাম কারণ আমরা এটার সাথে একমত, আমরা তার (বেনোজীর) বিচার চাই।’

তিনি আরো বলেন, কিন্তু এই সুযোগ নিয়ে উনি একটি দলকে কেন্দ্র করে পরবর্তী পর্যায়ের যে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিরোধী দলীয় উপনেতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মাননীয় উপনেতা আমি একটু আপনাকে যদি বইটা সামনে থাকে আমি একটু পড়ে শোনাতে চাই। একটু দয়া করে যদি ধৈর্য ধরতেন। ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেয়ার পর এই ব্যাপারে কোনো কোশ্চেন করা যায় না।’

উপনেতা বলেন, ‘আমি ৩০০ বিধিতে কোশ্চেন করছি না, উনি তো পরবর্তী যে বক্তব্যটা দিলেন।’

এরপরই শুরু হয় হট্টগোল। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা দাড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো শুরু করে।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সবাই যদি কথা বলেন তাহলে উনাকে উপনেতা কেন বানিয়েছেন? দয়া করে বসেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখানে কি কোনো প্লট তৈরি হচ্ছে? সেটা আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এটা মনে হচ্ছে যে উনারা একটা প্লট তৈরি করার জন্যে পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই লাইনে আলোচনা করে এই কাজটি করছে। এই ঘটনায় কোনটা সঠিক এখনো এটা ডিসাইডেড হয়নি। এটার কোনো স্টেটমেন্ট আসেনি। আমি এই বক্তব্যকে কন্ডেম করি এবং কোনো দলকে এভাবে পার্লামেন্টে দায়ী করবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমি মনে করি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটা উইথড্র করা উচিত অথবা এটাকে এক্সপাঞ্জ করা উচিত।’

এ সময় স্বরাষ্টমন্ত্রী কথা বলতে চাইলে স্পিকার তাঁকে ফ্লোর না দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তিনি সকল সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সবাই বসেন দয়া করে। মাননীয় বিরোধী দলীয় উপনেতা আপনি বসেন। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনিও বসেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ আসলে এটা আমাদের দেশের সর্বোচ্চ জায়গা। আমরা সবাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিব। আপনি যে কথাটা বললেন অনেক কথা বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে। কথা শুরু করলে আমরা অনেকেই অনেক কথা বলতেই থাকি। আপনি যা বললেন সর্বশেষ এক্সপাঞ্জ করার জন্য আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব যদি সংসদীয় রীতিনীতির বাইরে কিছু হয়ে থাকে সেটা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা কোনো বিতর্কে যেতে চাচ্ছি না।

Ad 300x250

সম্পর্কিত