হল দখলের অভিযোগ এনে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে শিবিরের মানববন্ধন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ২০: ৫২
রাবিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মানববন্ধন। স্ট্রিম ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হলের সিট দখলের অভিযোগ এনে প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এই কর্মসূচিতে সিট বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন দাবি জানানো হয়।

দাবিগুলো হলো, আবাসিক হলের বর্তমান বরাদ্দ বাতিল করে শূন্য সিটের তালিকা প্রকাশ, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সিট বরাদ্দ ও ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশ এবং সিট ব্যবস্থাপনা ডিজিটালে ওয়েবসাইট চালু করা।

ছাত্রদলের উদ্দেশ্যে মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজিব বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজনীতি করুন। তবে ছাত্রলীগের মতো সিট দখল, সিট বাণিজ্য বা টেন্ডারবাজির রাজনীতি ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস-পরিবেশ কোনো সংগঠনের কারণেই নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করার মাধ্যমে সিট বাণিজ্য ও গেস্টরুম সংস্কৃতির অবসান হয়েছিল। কিন্তু ছাত্রদল আবার সেটি ফিরিয়ে এনেছে। ছাত্রদল পরিচয়ে ছাত্রত্ব শেষ এবং প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব বন্ধ না করলে ছাত্রলীগের মতোই অপমানিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলাম বিবৃতিতে বলেছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ, দালিলিক উপাত্ত ও ভুক্তভোগীর পরিচয় ব্যতিরেকে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপচেষ্টা। আমরা এই ধরনের ভিত্তিহীন মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তাঁরা বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণসহ উপস্থাপন করা উচিত। সামাজিক মাধ্যমে গুজব ও মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ এবং রাজনৈতিক সহাবস্থান বিনষ্টের অপচেষ্টা থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত কর্মসূচির মাধ্যমে সব অপপ্রচারের সমুচিত জবাব দিতে বাধ্য হবে।

জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান জানান, তাদের কাছে এই ধরনের অভিযোগ এখনো কেউ করেনি। নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রশাসন অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত