ঈদের দিন সারা দেশে থেমে থেমে রোদ–বৃষ্টি

ঈদের দিন ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। তবে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ‘রিয়েল ফিল’ বা অনুভূত তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ১১: ৩৬
স্ট্রিম গ্রাফিক

আগামী ২৮ মে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। তবে কোরবানির এই আনন্দের দিনে বাগড়া দিতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থার তথ্য বলছে, ঈদের দিন দেশের বড় একটি অংশে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, ঈদের দিন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে কোনো কোনো এলাকায় মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম থাকতে পারে। এসব বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত মেঘলা থাকার সম্ভাবনা বেশি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘সারা বাংলাদেশেই বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে; কোথাও একটু কম, কোথাও একটু বেশি। তবে এই বৃষ্টি সারাদিনব্যাপী হবে না। আকাশ মেঘলা থাকতে পারে, আবার যেকোনো এক সময় বৃষ্টি হয়ে গ্যাপ দিয়ে আবারও হতে পারে। অর্থাৎ টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। রোদ, মেঘ ও বৃষ্টি—তিনটা মিলিয়েই আবহাওয়া থাকবে।’

ঢাকায় গরম ও অস্বস্তি

বৃষ্টি হলেও স্বস্তির খবর নেই তাপমাত্রায়। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা ওয়েদার ডট কম, আকুওয়েদার, ভেন্টুস্কাইয়ের তথ্য বলছে, ঈদের দিন ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। তবে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ‘রিয়েল ফিল’ বা অনুভূত তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ফলে পশু কোরবানি এবং মাংস গুছানোর সময় প্রচণ্ড গরমে নাভিশ্বাস উঠতে পারে নগরবাসীর।

ওইদিন ঢাকায় সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১২ মিনিটে। ভেন্টুস্কাইয়ের আবহাওয়া মানচিত্র বলছে, ঢাকায় সকালের দিকে আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বজ্রবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা (৭০ শতাংশ) রয়েছে। ফলে ঈদের জামাতে যাওয়ার সময় ছাতা সঙ্গে রাখা জরুরি হতে পারে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির বেগ কিছুটা কমলেও দুপুরের পর আবারও ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

গরম ও অস্বস্তির বিষয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘বৃষ্টির কারণে ভ্যাপসা গরম থাকার একটা আশঙ্কা রয়েছে। যেহেতু বৃষ্টি হবে, আবার রোদ উঠবে, আবার মেঘলা থাকবে—সব মিলিয়ে ভ্যাপসা গরমটা একটু বেশি অনুভূত হবে। তবে আপাতত বিশেষ কোনো সতর্কবার্তা নেই।’

প্রস্তুতি ও সতর্কতা

তীব্র দাবদাহ না থাকলেও আলট্রাভায়োলেট ইনডেক্স ১০-এর ঘরে থাকার সম্ভাবনা আছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সময় কড়া রোদে কাজ না করার এবং প্রচুর পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ ছাড়া কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ না করলে বৃষ্টির পানিতে তা ছড়িয়ে পড়ে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হওয়ার প্রাক্কালে মে মাসের শেষে এমন বৃষ্টি ও বজ্রপাত স্বাভাবিক। তবে উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ কিছুটা বেশি থাকতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে পশু পরিবহনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

সম্পর্কিত