ই-সিগারেট বন্ধে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ২৩: ৫২
হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সব ধরনের ই-সিগারেট নিষিদ্ধ এবং বাজার ও অনলাইন থেকে এসব পণ্য অপসারণের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অনলাইন ও খুচরা দোকান থেকে দ্রুত এই পণ্যগুলো অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (২৯ জুন) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। এর আগে দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত তিন কর্মী—সাইফুদ্দিন আহমেদ, এ কে এম মাসুদ এবং হেলাল আহমেদ। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ।

জারিকৃত রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে—ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস), ইলেকট্রনিক নন-নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনএনডিএস) এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি)-এর মতো পণ্যগুলো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না। রিটে উল্লেখ করা হয়, এসব পণ্য মানবজীবন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং তা সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এই মামলায় স্বাস্থ্য সচিব, শ্রম সচিব, অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

শুনানি শেষে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী তামাকের পাশাপাশি ই-সিগারেট ও ভ্যাপিংসহ নতুন কিছু নিকোটিন পণ্য জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করছে। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার আইন সংশোধন করে এসব পণ্য নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে সেই নিষিদ্ধকরণ সম্পর্কিত ধারাটি বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে একটি আইনি শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। এটি শিশু ও তরুণদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।’

ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ই-সিগারেটকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করলেও রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে এটিকে বাজারজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের এই রিট আবেদন করা হয়েছে।

বিষয়:

হাইকোর্ট
Ad 300x250

সম্পর্কিত