সেই আফগান নাগরিকের মরদেহ সাড়ে ৪ মাস পর গেল নিজ দেশে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৩৮
আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদী। সংগৃহীত ছবি
আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদী। সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহ সীমান্ত নদীতে উদ্ধার হওয়া আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ সাড়ে ৪ মাস পর নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে পরিবার। প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার ভাই ইমাল মোহাম্মদীর কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল কর্মকর্তা ফারহানা তাসনিম, ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহেশপুর থানার উপ-পরিদর্শক টিপু সুলতান, নিহতের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মাসুম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নিহতের স্বজনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মরদেহটি হস্তান্তরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়।

ভাইয়ের মরদেহ গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইমাল মোহাম্মদী। তিনি বলেন, অসুস্থ মায়ের ইচ্ছাতেই আমার ভাইয়ের নিথর দেহটি নিজের দেশে নিয়ে যাচ্ছি, এটাই আমাদের জন্য পরম সান্ত্বনা। বাংলাদেশ সরকার ও ঝিনাইদহের স্থানীয় প্রশাসন আমাদের যে সহযোগিতা করেছে, তার জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ।

নিহতের বাংলাদেশি আইনজীবী মাহমুদুল হাসান জানান, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং আইনি সকল প্রক্রিয়া শেষে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় সাংবাদিকদের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ছিল।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান বলেন, যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মরদেহটি নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

এর আগে ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুরের পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতের ছবি ছড়িয়ে পড়লে তা হাসমত মোহাম্মদীর স্বজনদের নজরে পড়ে। পরে তারা মরদেহ নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত