leadT1ad

নিখোঁজের ১৮ দিন পর ব্যবসায়ীর লাশ মিলল পদ্মায়

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ২২
পদ্মার চর থেকে লাশ উদ্ধার। স্ট্রিম ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিখোঁজের ১৮ দিন পর পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় মিলেছে এক গরু ব্যবসায়ীর লাশ। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মিডিল চর নামক এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত আহাদ আলী ওরফে কাজল (৩৪) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চাকপাড়া গ্রামের প্রয়াত আলতাফ হোসেনের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২ জানুয়ারি রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন আহাদ আলী। পরে ৮ জানুয়ারি তাঁর স্ত্রী লিসা বেগম অপহরণ ও গুমের অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। এতে অন্যতম আসামি করা হয় চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর আলী ও জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম মেম্বারকে।

এজাহারে বলা হয়, গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চরবাগডাঙ্গা বাজারে আলম ও নাজমুল হুদা নামের দুজনের সঙ্গে আহাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরদিন রাত সোয়া ৯টার দিকে আহাদের মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। কোথাও যেতে বলা হলে অসুস্থতার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হবেন না বলে জানান আহাদ।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এর কিছুক্ষণ পর হাসেম আলী নামের একজন মোটরসাইকেল নিয়ে আহাদের বাড়ি যান। তিনি আহাদকে জানান, আগের দিনের বিষয়টি মীমাংসা করা হবে। এজন্য ওমর আলী, নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন আলমের বাড়িতে বসে আছেন। পরে হাসেমের সঙ্গে যান আহাদ। এরপর আর তিনি বাড়ি ফেরেননি।

এদিকে অভিযোগ দেওয়ার পরপরই আসামিপক্ষ মামলা প্রত্যাহার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে। তারা দাবি করে, গত ৩ জানুয়ারি স্থানীয় নাড়ুখাকি এলাকায় পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির পর আহাদ নিখোঁজ হন। কিন্তু তদন্ত ছাড়াই পুলিশ অপহরণ ও গুমের মামলা নিয়েছে। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এবং তদন্ত ছাড়াই মামলা নেওয়ার অভিযোগে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় জেলা পুলিশ।

এরপর মঙ্গলবার পদ্মা নদীতে আহাদের লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে থাকা আহাদের ভাই শওকত আলী দাবি করেন, তাঁর ভাইকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে গুম করা হয়েছিল। এরপর হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সুরতহাল তৈরির সময় মরদেহের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া আহাদের দাঁত ভাঙা ছিল।

অবশ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি নূরে আলম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, সুরতহালে কী পেলাম তা পরে জানানো হবে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ওসি জানান, আহাদকে গুমের মামলায় কামরুজ্জামান বাচ্চু নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত