লাশ নিয়ে বাড়ির পথে মাকে ফোন, ‘আইসিইউ ফাঁকা’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ০৫
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের সঙ্গে উদ্বিগ্ন স্বজন। স্ট্রিম ছবি
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের সঙ্গে উদ্বিগ্ন স্বজন। স্ট্রিম ছবি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় তারা হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যায়।

মৃতদের মধ্যে তিন শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) ভর্তি ছিল। আরেকজন ছিল পিআইসিইউর জন্য অপেক্ষায়।

মারা যাওয়া চার শিশু হলো– কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সুইট রানার ছেলে সামিউল (৬ মাস), কুষ্টিয়া সদরের সাধন শেখের ছেলে সাইফান (৯ মাস), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের রাফিউল্লাহর মেয়ে তাসফিয়া (১ মাস) ও পাবনার বেড়ার ইয়াকুব আলীর মেয়ে নেহা (২ মাস)।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাইফান, নেহা ও তাসফিয়ার মৃত্যু হয় বুধবার। আর সামিউল মারা গেছে বৃহস্পতিবার সকালে।

নেহার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে পাবনায় গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় হাসপাতালের আইসিইউ থেকে ফোন করে তার মাকে বলা হয়, পিআইসিইউ ফাঁকা হয়েছে। সিরিয়াল অনুযায়ী এখন আপনার রোগী এটি পাবে। দ্রুত রোগীকে নিয়ে আসুন।

শিশু নেহার খালা মতিয়া খাতুন স্ট্রিমকে বলেছেন, হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে আমার বোন চামেলী খাতুনের কান্না আরও বেড়ে যায়। কারণ, আমরা কয়েক দিন ধরে চেষ্টা করছিলাম আইসিইউর জন্য।

তিনি জানান, জন্মের পর থেকেই ঠান্ডাজনিত অসুখে ভুগছিল নেহা। ঈদুল ফিতরের দিন তার শরীরে হাম দেখা দেয়। এরপর ২৩ মার্চ তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশু বিভাগের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছিল।

মতিয়া খাতুন বলেন, মঙ্গলবার থেকে নেহার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তখন চিকিৎসক তাঁকে পিআইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরিবার সিরিয়াল দিলে নেহার সিরিয়াল পড়ে ১২ নম্বর। পিআইসিইউর জন্য অপেক্ষাধীন থাকা অবস্থায় বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। এরপর মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে নেহার মা চামেলী খাতুনকে কল করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত মেয়েকে পিআইসিইউতে আনতে বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ফোন পেয়ে আমার বোন কোনো কথা বলতে পারেননি। হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন। তখন আমি ফোনটি নিয়ে তাদের জানাই– পিআইসিইউতে শয্যা না পেয়ে নেহা দুপুরে মারা গেছে। আমরা এখন মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছি।’

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৭ জন ভর্তি হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ২৪ জন।

বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৩২ জন। হামের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৪৭৯ রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে মোট ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত