leadT1ad

নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা পাচ্ছে না সেনাবাহিনী

প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২: ৪৯
সেনাবাহিনীর টহল। সংগৃহীত ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা পাচ্ছেন না বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অতীতের জাতীয় নির্বাচনগুলোয় সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করলেও তাদের হাতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার বা বিচারিক ক্ষমতা ছিল না।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ পরিপত্রে সামরিক বাহিনীকে যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা বলবৎ রাখার কথা বলা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও উৎসবমুখর করার পূর্বশর্ত হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মোতায়েন রয়েছে, যা নির্বাচনের সময়ও অব্যাহত থাকবে। সরকার কর্তৃক সামরিক বাহিনীকে যে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বাহিনী ও সংস্থার প্রধান/প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কমিশনের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে কমিশনের দিকনির্দেশনা প্রদান করা হলো।

উল্লেখ্য, গত ২০ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাক-নির্বাচনী প্রস্তুতিসভায় নির্বাচনে সেনাবাহিনীর আরও কার্যকর ভূমিকা পালনে বিচারিক ক্ষমতা চাওয়া হয়। ইসি সূত্র বলেছে, সেনাবাহিনীকে ইতিমধ্যে সরকার কর্তৃক ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করা হলে নির্বাচনে সেনাবাহিনী আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে—এমনটাই মনে করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা তাদের কোনো বিচারিক ক্ষমতা দিইনি এবং দিচ্ছিও না। তাদের যে এক্সিকিউটিভ (নির্বাহী) ক্ষমতা আগে থেকেই ছিল, সেটাই বহাল আছে। নির্বাচন কমিশন কোনো নতুন ক্ষমতা তাদের হাতে দেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘সরকার আগে থেকেই কিছু নির্দিষ্ট ধারার মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কিছু প্রশাসনিক বা এক্সিকিউটিভ ক্ষমতা দিয়ে এসেছে। যেমন—কোনো ব্যক্তি বেআইনিভাবে আটক (কনফাইনড) থাকলে তাকে উদ্ধার করা, নিজের সামনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা, অস্ত্র বা সহিংসতার আশঙ্কা থাকলে জরুরি তল্লাশি চালানো, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করা, মব ভায়োলেন্স বা অবৈধ গণজমায়েত—এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।’

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘কোনো বিচারিক বা জুডিশিয়াল ক্ষমতা তাদের দেওয়া হয়নি, দেওয়ার আইনগত সুযোগও নেই। নতুন করে কোনো জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রিয়াল বা বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে না, ভবিষ্যতেও হবে না।’

গত ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫ (২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অধীন অপরাধগুলো আমলে নিতে পারবেন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

এই ক্ষমতাগুলো ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগে যেভাবে প্রয়োগ করতে পারতেন, এখনো সেভাবেই করতে পারবেন জানিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘সরকার যে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষমতা দিয়েছে, সেটি ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে। অর্থাৎ বর্তমানে যে ক্ষমতা আছে, সেটিই কন্টিনিউ করবে—এর বাইরে নতুন কোনো ক্ষমতা যোগ হচ্ছে না। আগে যেভাবে তারা আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে বিষয়টি থানায় পাঠাতে পারতেন, এখনো ঠিক সেভাবেই পারবেন। কিন্তু বিচারিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই।’

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘কোনো বিচারিক বা জুডিশিয়াল ক্ষমতা তাদের দেওয়া হয়নি, দেওয়ার আইনগত সুযোগও নেই। নতুন করে কোনো জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রিয়াল বা বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে না, ভবিষ্যতেও হবে না।’

ত্রয়োদশ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর ফলে কমিশন চাইলে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব দিতে পারবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে ৫ দিনের জন্য। তবে শুধুমাত্র আনসার বাহিনী এক দিন বেশি দায়িত্ব পালন করবে।

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ রেখে ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের আগে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোটের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আনসার ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোটের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৭ লাখের বেশি সদস্য এবার ভোটের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সংখ্যাই হবে সাড়ে ৫ লাখের মতো। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি। এছাড়া পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড থাকবে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত