জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

কার ভাগে কত সংরক্ষিত আসন, উচ্চকক্ষে কী হাল

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩: ১৬
জাতীয় সংসদ ভবন। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন সবার নজর উচ্চকক্ষ গঠনের দিকে। জাতীয় নির্বাচনের প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে বিএনপি ও জামায়াতই উচ্চকক্ষে প্রধান শক্তি হবে।

গণভোটে অনুমোদিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী ১০০ আসনের এই উচ্চকক্ষে সদস্য নির্বাচন হবে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাত্র পাঁচটি দলের মধ্যেই এই ১০০ আসন ভাগ হবে।

জুলাই সনদের ১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১ শতাংশ না পেলে কোনো দল উচ্চকক্ষে আসন পাবে না। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫১টি প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে মাত্র ৫টি দল এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। বাকি ৪৫টি দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১ শতাংশের নিচে ভোট পাওয়ায় উচ্চকক্ষে তাঁদের কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকার সম্ভাবনা নেই। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজেদের জোট গড়ে তুললে এই হিসাব পাল্টে যেতে পারে। ওই দলগুলোর ভোট হিসাব থেকে বাদ যাওয়ায় ৫ দলের মধ্যে আসন সংখ্যা প্রাপ্ত ভোটের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।

নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পাওয়া বিএনপি উচ্চকক্ষে সর্বোচ্চ আসন পেতে যাচ্ছে। ছোট দলগুলোর ভোট বাদ দিয়ে পুনরায় হিসাব করলে ১০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি অন্তত ৫৫টি বা তার বেশি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর জন্য উচ্চকক্ষে অন্তত ৩৫টি বা তার বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ নিম্নকক্ষের মতো উচ্চকক্ষেও এই দুটি দলই চালকের আসনে থাকবে।

জুলাই সনদের পদ্ধতি কার্যকর হলে ৩ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উচ্চকক্ষে অন্তত ৩ থেকে ৪টি আসন পেতে পারে। একইভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (২.৭০ শতাংশ) ২ থেকে ৩টি আসন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (২ শতাংশের বেশি) ২-৩টি আসনে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে।

২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টিতে জয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তবে বিএনপি তাদের ইশতেহারের ৮ নম্বর দফা অনুযায়ী উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তারা চায় ‘আসন সংখ্যার অনুপাতে’ (নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের ভিত্তিতে) উচ্চকক্ষে প্রতিনিধি পাঠাতে, যেখানে রাজনীতিবিদদের চেয়ে বিশেষজ্ঞ বা ‘এক্সপার্ট’দের প্রাধান্য দেওয়া হবে। এ ছাড়া ইশতেহারের ১২ নম্বর দফায় বিএনপি বলেছে, উচ্চকক্ষ কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিল সর্বোচ্চ এক মাসের বেশি আটকে রাখতে পারবে না, যেখানে গণভোটের প্রস্তাবে এই সময়সীমা ছিল দুই মাস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমানে বিএনপি এবং গণভোট—উভয় পক্ষই একধরনের ‘বৈধতা’ পেয়েছে। জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে তাদের ইশতেহার সমর্থন করেছে, আবার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলে জুলাই সনদের প্রস্তাবনাও অনুমোদন করেছে। এটি একটি সাংঘর্ষিক অবস্থান।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ অবশ্য এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি যেমন জনআকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছিল, এবারও তারা গণভোটের রায়কে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধান বের করবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত