কক্সবাজার সৈকতে হঠাৎ টর্নেডো, পর্যটকসহ আহত ২০

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কক্সবাজার

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে টর্নেডোটি স্থলভাগে মিনিটখানেক স্থায়ী ছিল। স্ট্রিম ছবি

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে টর্নেডো আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে হঠাৎ সৈকতের সুগন্ধা ও সি-গাল পয়েন্টে মিনিটখানেক স্থায়ী এই ঘূর্ণিঝড় হয়। এতে পর্যটকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, সাগরপারে দেখা দেওয়া ঘূর্ণি বাতাসটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো। এই ধরনের টর্নেডো স্বল্পসময় স্থায়ী হলেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এর ঘূর্ণির কবলে পড়লে প্রাণহানি হতে পারে।

তিনি বলেন, টর্নেডোর মূল ঘূর্ণি বা ফানেল অংশের সংস্পর্শে এলে মানুষ কিংবা বিভিন্ন বস্তু বাতাসে প্রায় ১০০ ফুট পর্যন্ত ওপরে উঠে যেতে পারে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই এমন পরিস্থিতিতে কৌতূহলেও টর্নেডোর কাছাকাছি অবস্থান করা উচিত নয়।

আব্দুল হান্নান আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টর্নেডো দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে এটি তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশেও অতীতে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী টর্নেডো হয়েছে। সাধারণত গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রবণতা বেশি থাকলেও, অনুকূল আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বছরের অন্য সময়েও টর্নেডো হয়।

এই ধরনের টর্নেডো স্পর্শকৃত বস্তু ও মানুষকে অনেক উঁচুতে তুলে ছুড়ে ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। আব্দুল হান্নান, আবহাওয়াবিদ

সৈকতের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর সমুদ্রে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থানের পর একটি টর্নেডো উপকূলের দিকে আসে। ঘূর্ণায়মান বাতাস ধীরে ধীরে বালুচরের দিকে এসে সুগন্ধা ও সি-গাল পয়েন্টে আঘাত হানে। ঝড়ের তীব্রতায় সৈকতে পর্যটকদের ব্যবহারের জন্য রাখা কমপক্ষে ২০টি চেয়ার ও ছাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আতঙ্কে অবস্থানরত পর্যটকেরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন। দ্রুত সতর্কতা জারি করে পানিতে থাকা পর্যটকদের নিরাপদে তীরে আনেন লাইফ গার্ডের সদস্যরা।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম জানান, টর্নেডোর আঘাতে সৈকতে পর্যটকদের ব্যবহারের জন্য রাখা ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা ভেঙে যায়। আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে সৈকত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে টর্নেডো আঘাত হানলে পর্যটকেরা ছোটাছুটি করেন। স্ট্রিম ছবি
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে টর্নেডো আঘাত হানলে পর্যটকেরা ছোটাছুটি করেন। স্ট্রিম ছবি

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সুমন রহমান বলেন, টর্নেডোটি স্বল্প সময় স্থায়ী হলেও, গতি ছিল প্রবল। কয়েক মিনিটের মধ্যে সৈকতের পরিবেশ এলোমেলো করে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পর্যটকেরা ধীরে ধীরে সৈকতে ফিরে আসেন। ক্ষতিগ্রস্ত চেয়ার ও ছাতাগুলো মেরামত করে স্থাপন করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দায়িত্বরত সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী জয়নাল আবেদীন ভূট্টো জানান, শুক্রবার কলাতলী পয়েন্টের সোজা গভীর সমুদ্রে টর্নেডোটির সৃষ্টি হয়। এটি প্রায় ২০ মিনিট সমুদ্রের ওপর অবস্থান করে। এ সময় সৈকতে থাকা অসংখ্য পর্যটক বিরল এই দৃশ্য উপভোগ এবং অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।

তিনি বলেন, টর্নেডোটি ধীরে ধীরে উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে লাইফ গার্ড সদস্যরা পানিতে থাকা পর্যটকদের নিরাপদে উঠে আসার জন্য বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক করেন। তবে শুরুতে অনেক পর্যটক সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব দেননি। পরে তাদের পানি থেকে উঠিয়ে আনা হয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত