leadT1ad

সংখ্যালঘু-সম্পর্কিত ৬৪৫ ঘটনার ৭১টি সাম্প্রদায়িক: প্রেস উইং

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩: ৩৮

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে সংখ্যালঘুদের আক্রান্ত হওয়ার পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে পুলিশ। গত এক বছরে মোট ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে ৭১টিতে সাম্প্রদায়িক উপাদান পাওয়া গেছে। বাকি ৫৭৪টি সাধারণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের এফআইআর, জিডি ও চার্জশিট বিশ্লেষণ করে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রদায়িক উপাদানযুক্ত ৭১টি ঘটনার মধ্যে প্রধানত ধর্মীয় উপাসনালয় ও প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয় ছিল। এর মধ্যে মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ৩৮টি এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ৮টি। এছাড়া ১টি হত্যাকাণ্ড এবং ১টি চুরির ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিমা ভাঙার হুমকি, ফেসবুক পোস্ট ও উপাসনালয়ের ক্ষতিসহ ‘অন্যান্য’ ক্যাটাগরিতে ২৩টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ৫০টি মামলা করেছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার জেরে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক উপাদান নেই এমন ৫৭৪টি ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে জমি, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭২টি অস্বাভাবিক মৃত্যু ও ১০৬টি চুরির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ৫৮টি ধর্ষণ, ৫১টি প্রতিবেশী বিরোধ ও ২৬টি পূর্বশত্রুতার ঘটনা ঘটেছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটেছে ২৩টি ঘটনা।

সাধারণ অপরাধের এসব ঘটনায় ৩৯০টি নিয়মিত মামলা ও ১৫৪টি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এসব ঘটনায় মোট ৪৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজিসহ অন্য ঘটনাতেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিটি অপরাধই গুরুতর এবং এর জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে সংখ্যালঘু ভুক্তভোগীদের অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং সামাজিক কারণে ঘটেছে। সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ভ্রান্ত তথ্য প্রতিরোধ ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপে সহায়তা করবে।

জাতীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতি বছর সহিংস অপরাধে গড়ে ৩ হাজার ৫০০ মানুষ মারা যান। এই সহিংসতা সব সম্প্রদায়কেই প্রভাবিত করে। তবে উন্নত পুলিশিং ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ পুনর্ব্যক্ত করেছে, বাংলাদেশ সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের দেশ। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, উপাসনালয়ের সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকার অপরাধ কমিয়ে আনতে এবং আইনের আওতায় সবার জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত