প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে তামাকপণ্য আরও সহজলভ্য হবে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ২১: ০০
আত্মা ও প্রজ্ঞার জেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন। সংগৃহীত ছবি

প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি ও নিত্যপণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য অধিক সহজলভ্য ও সস্তা হবে। এতে তামাকপণ্যের ব্যবহার ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের (আত্মা) বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তামাকবিরোধী নেতৃবৃন্দ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তাঁরা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর কমানো, সুনির্দিষ্ট শুল্কের প্রচলনের আবেদন জানান। এছাড়া সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে কোম্পানিগুলোর অন্যায্য মুনাফা বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।

সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে জনগণের মাথাপিছু আয় ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং নিত্যপণ্যের দাম ৩০ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অথচ সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশ দখলে থাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বা শলাকা প্রতি ২০ পয়সা।

অন্যদিকে মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের দাম যথাক্রমে ১৫, ১৪ দশমিক ২৯ এবং ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ বাড়ানো হলেও করহার অপরিবর্তিত রাখায় বর্ধিত মূল্য তামাক কোম্পানির পকেটে চলে যাবে।

সম্মেলনে জানানো হয়, প্রিমিয়াম স্তরের প্রতি প্যাকেটের দাম ২৫ টাকা বাড়ানো হলেও ৪ দশমিক ২৫ টাকা কোম্পানি পাবে। অথচ একই জিনিস কর বৃদ্ধির মাধ্যমে করলে পুরো টাকাই সরকারি কোষাগারে জমা হতো।

এছাড়া বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম অপরিবর্তিত রেখে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর ওপর নামমাত্র শুল্কায়নে নতুন আপদ কার্যত আইনসিদ্ধ করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, ‘সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে সব স্তরে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা পাবে।’

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।’

সম্মেলনে ২০ শলাকা ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির অভিন্ন মূল্য ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ গ্রামে যথাক্রমে ৬০ টাকা ও ৩০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের দাবি জানানো হয়।

সম্মেলনে জানানো হয়, তাঁদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ধূমপান হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সরকারের ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৪ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব হবে।

আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মো. মনির হোসেন লিটন, আয়েশা সুহায়মা রব, মর্তুজা হায়দার লিটন, মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ ও দাবিগুলো তুলে ধরেন প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার।

Ad 300x250

সম্পর্কিত