স্বাস্থ্য সচিবের দেখা পাননি আদ্-দ্বীনের বিদেশি শিক্ষার্থীরা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সচিবালয়ের সামনে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিদেশি শিক্ষার্থীরা। সংগৃহীত ছবি

সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সচিবের সাক্ষাৎ পাননি আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিদেশি শিক্ষার্থীরা। হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় ইন্টার্নশিপ ও পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তাঁরা।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ২৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থী সচিবালয়ে আসেন। সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা তাঁদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথা জানান। হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় তাঁরা আইনি জটিলতা ও পেশাগত সংকটের মুখে পড়েছেন বলে জানান।

এক বিদেশি শিক্ষার্থী বলেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় আমাদের ভবিষ্যৎ ও পেশাগত জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, যে মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করা হয়, সেই মেডিকেল কলেজের হাসপাতালেই ইন্টার্নশিপ করতে হয়। না হলে নিজ দেশে ফিরে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হওয়া সম্ভব হবে না।’

শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁরা সমস্যার কথা জানাতে স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। এর আগে গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মহাপরিচালক বা ডিজি-র সঙ্গেও কথা বলতে ব্যর্থ হন তাঁরা। পরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

সাক্ষাতের সুযোগ না পেলেও আশার আলো দেখছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বলেন, ‘আমরা আশা করছি আমাদের এই মানবিক সংকটের যৌক্তিক সমাধান হবে। বিদেশ থেকে অনেক অর্থ ব্যয় করে এ দেশে পড়তে এসেছি। বড় ধরনের অনিশ্চয়তা নিয়ে দেশে ফিরতে চাই না।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে অবশ্যই সাক্ষাৎ করা যাবে। এখানে ব্যর্থ হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু তাঁরা যখন এসেছেন, তখন আমি অফিসে ছিলাম না। আমি অন্য একটা সরকারি কাজে বাইরে ছিলাম।’

বর্তমানে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন ভারতীয় ও একজন মালদ্বীপের নাগরিকসহ মোট ৩১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ করছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ইন্টার্ন শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে তিন শতাধিক।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর কারণ জানতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরে নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত