সামরিক প্রশিক্ষণে দুর্ঘটনা: কিছু মর্মান্তিক প্রাণহানি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৪২
সামরিক প্রশিক্ষণে দুর্ঘটনা, কিছু মর্মান্তিক প্রাণহানি। স্ট্রিম গ্রাফিক
সামরিক প্রশিক্ষণে দুর্ঘটনা, কিছু মর্মান্তিক প্রাণহানি। স্ট্রিম গ্রাফিক

সামরিক বাহিনীর সদস্যদের যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিতে হয়। আর তাতে ব্যবহার করতে হয় আসল অস্ত্র, গোলাবারুদ, মর্টার, গ্রেনেড, ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান।

এসব অনুশীলনে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেও দুর্ঘটনায় সামরিক ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুই সেনাসদস্য নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হন।

প্রশিক্ষণকালে প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু তদন্তের সুপারিশের কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য সীমিত।

২০১৪: ঘাটাইলে মর্টার বিস্ফোরণে ছয়জন নিহত

প্রশিক্ষণকালীন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার অন্যতম বড় ঘটনা ঘটে ২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে।

সেদিন ঘাটাইল সেনানিবাসের মাইধারচালা ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বিজিবির বার্ষিক লাইভ ফায়ারিং অনুশীলন চলছিল। চীনের তৈরি ৮২ মিলিমিটার মর্টার দিয়ে গোলাবর্ষণের সময় একটি গোলা মর্টারের নলের ভেতরেই বিস্ফোরিত হয়। এতে দুই সেনাসদস্য ও চার বিজিবি সদস্য নিহত হন। আহত হন অন্তত ১০ বিজিবি সদস্য।

তৎকালীন বিজিবি মহাপরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের তিনটি গোলা সফলভাবে নিক্ষেপের পর চতুর্থটি নলের ভেতরে বিস্ফোরিত হয়।

একই বছর খাগড়াছড়িতে গ্রেনেড বিস্ফোরণ

ঘাটাইলের ঘটনার নয় মাসের মাথায় ২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বর খাগড়াছড়ি সেনানিবাসে প্রশিক্ষণের সময় গ্রেনেড বিস্ফোরণে দুই বিজিবি সদস্য নিহত হন। আহত হন চারজন।

সেদিন ১৬ বিজিবির প্রায় ১৫০ সদস্য নিয়মিত প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলেন। এ সময় গ্রেনেডের পিন খোলার পর্যায়ে অসাবধানতাবশত বিস্ফোরণ ঘটে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। নিহতদের একজন ছিলেন প্রশিক্ষক, অন্যজন প্রশিক্ষণার্থী। আহত চারজনের মধ্যে ছিলেন তিন বিজিবি সদস্য এবং একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল।

বিমান প্রশিক্ষণ: আকাশেও একই ঝুঁকি

সামরিক দুর্ঘটনার আরেকটি বড় ক্ষেত্র যুদ্ধবিমান পরিচালনা প্রশিক্ষণ। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ ফ্লাইটেও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার নজির রয়েছে।

২০১৮ সালের ১ জুলাই রাতে যশোরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি কে-৮ডব্লিউ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হন।

তাঁরা যশোরের বিএএফ বেস মতিউর রহমান থেকে রাতের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে উড্ডয়ন করেছিলেন। দুর্ঘটনার পর দুই পাইলটের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, খারাপ আবহাওয়া দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। ঘটনাটি তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়।

চার মাসের ব্যবধানে আরেক প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত

২০১৮ সালের ২৩ নভেম্বর টাঙ্গাইলের মধুপুরে আবারও প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় এক পাইলটের।

বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিমানটি মধুপুরের রসুলপুর এলাকায় টেলকি ফায়ারিং রেঞ্জে বিধ্বস্ত হয়। পাইলট ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আইএসপিআর জানিয়েছিল, বিমানটি একটি এয়ার এক্সারসাইজে অংশ নিচ্ছিল। দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ নিশ্চিত করা যায়নি।

২০২৪: ইয়াক-১৩০ বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত

২০২৪ সালের ৯ মে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে। প্রশিক্ষণ শেষে ঘাঁটিতে ফেরার সময় বিমানটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার কথা জানিয়েছিল আইএসপিআর।

দুই পাইলটই প্যারাসুটের সাহায্যে বিমান থেকে বেরোতে সক্ষম হন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অপর পাইলট বেঁচে যান।

হাটহাজারীতে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় নিহত দুজন

সর্বশেষ ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একজন সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত।

আইএসপিআর জানিয়েছে, আহতকে হেলিকপ্টার করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুশীলনের সময় চীনে তৈরি টাইপ-৫৯ ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত