র্যাবের বদলে এসআরবি, ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’
স্ট্রিম প্রতিবেদকঢাকা

র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন বাহিনী গঠনের প্রস্তাবে জাতীয় সংসদে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, র্যাবের জনবল, স্থাপনা, লজিস্টিক, ক্ষমতা ও সম্পদ অপরিবর্তিত রেখে শুধু নাম পরিবর্তন করে এসআরবি গঠন করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, একটি দক্ষ ও বিশেষায়িত বাহিনীর বিরুদ্ধে তারা নন। তবে প্রশিক্ষণ, জবাবদিহি ও কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত না করে শুধু নাম পরিবর্তন করলে উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
তিনি বলেন, ‘র্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি, দায়-দায়িত্ব সরাসরি এসআরবি নামের নতুন বাহিনীর কাছে চলে যাবে। অর্থাৎ শুধু সাইনবোর্ডটাই পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন বোতলে পুরোনো মদ।’
র্যাবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে নাজিবুর রহমান বলেন, ২০১৪ সালের নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের পর তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া র্যাবকে ‘কিলিং স্কোয়াড’ আখ্যায়িত করে বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন। ২০১৯ সালেও তিনি র্যাবকে ‘ক্যানসার’ আখ্যা দিয়ে বিলুপ্তির দাবি করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছেও বিএনপি র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও গুম কমিশনও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল বলে দাবি করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসআরবি বিল সাধারণ কোনো বিল নয়। র্যাবের কিছু ইতিবাচক ভূমিকা থাকলেও বাহিনীটির নেতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশ-বিদেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। র্যাবের হাতে ভুক্তভোগী অনেক মানুষ রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
র্যাব বিলুপ্ত করে একই ধরনের আরেকটি বাহিনী গঠনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘র্যাবের জনবল, স্থাপনা, লজিস্টিক ও ক্ষমতা অপরিবর্তিত রেখে শুধু নাম পরিবর্তন করে এসআরবি গঠন করা হলে জনগণ তা স্বাভাবিকভাবে নেবে না।’
বিলটি আরও আলোচনা ও গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান শফিকুর রহমান। তিনি প্রশ্ন রাখেন, র্যাব সদস্যদের শুধু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর, একই স্থাপনা ও লজিস্টিক রেখে এবং একই ক্ষমতা বহাল রেখে নতুন বাহিনী গঠন করা হলে মৌলিক পরিবর্তনটা কোথায়?
তিনি আরও বলেন, র্যাবের হাতে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নতুন বাহিনী গঠনের আগে স্বাধীন জবাবদিহি, কার্যকর তদারকি, প্রশিক্ষণ ও মানবাধিকার সুরক্ষার কাঠামো নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
.png)
-028855-256x144.webp)





