পুশইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবে চাপ পড়ছে এ দেশে: তথ্য উপদেষ্টা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ১৮: ৫২
সংগৃহীত ছবি

সীমান্ত দিয়ে ভারতের পুশইন (ঠেলে পাঠানো) চেষ্টাকে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি মনে করেন না যে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য ভারত সরকার এটি করছে। তবে এর চাপ আমাদের ওপর কিছুটা পড়ছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের বা পিআইডির সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব কথা জানান।

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইনের বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশে যেটা করার চেষ্টা করছে... আমরা নিশ্চয়ই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ফলো করেছি। সেখানে নির্বাচনে এটি একটি ইস্যু ছিল। এটি তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যাপার, যেটার খানিকটা চাপ আমাদের ওপর আসছে। আমি এভাবে মনে করি না যে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো ধরনের টেনশন তৈরির জন্য ভারত সরকার এটি করছে। পশ্চিমবঙ্গে যে নতুন সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি ছিল এটি।’

তিনি বলেন, ‘তাদের এক ধরনের রাজনীতি আছে, সেটারই এক ধরনের বহিঃপ্রকাশ এটি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে নতুন যে সরকার এসেছে, তার সঙ্গে ভারত সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যখন কথাবার্তা বলেছি, আমার নিজেরও কিছু কথাবার্তা হয়েছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূস সরকারের সঙ্গে যে ধরনের পরিস্থিতি ছিল, সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে চান। দুই দেশই সেটা চায়। সেজন্য আমি মনে করি, সংকটটা যেটা প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, এর একটি সমাধান দ্রুত হবে।’

উপদেষ্টা আরও যোগ করেন, ‘এটি কোনোভাবেই তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা বা বাংলাদেশকে চাপে রাখার জন্য করছে বলে আমি মনে করি না।’

হামে শিশুমৃত্যুর বিষয়ে এখনও কোনো তদন্ত কমিটি বা কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘ইনফ্যাক্ট, এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি নিজেও কথা বলেছি। আমি মন্ত্রণালয় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। মন্ত্রণালয় আপনাদের যেটা জানিয়েছে, আমি আপাতত সেটুকুই কনভে করতে পারি। কারণ মন্ত্রণালয়ের অবস্থান সেটাই। তাঁর ওই বক্তব্যটা আমি দেখেছি, যখন তদন্ত কমিটির কথা এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে এই অসুস্থতাটা নিয়ে তারা চেষ্টা করছেন, এটাকে কত সফলভাবে ভালোভাবে ম্যানেজ করা যায়। সেটা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে এলেই তারা তদন্ত কমিটি করবেন। সুতরাং মন্ত্রণালয়ের এই অবস্থানটাই আমি আপনাদের জানিয়ে দিলাম।’

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবেও এই খবরটা আবার নেব। তদন্ত কমিটি হয়নি, হলে নিশ্চয়ই আপনারা জানতেন। সরকার কিন্তু এটা বলেনি যে তদন্ত কমিটি করবে না।’

বিভিন্ন জায়গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে এবং কোথাও মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘ব্যবস্থা যদি না নেওয়া হতো বা সরকার যদি অ্যালার্ট না থাকত, তাহলে এই প্রবণতা আরও বেশি হতো। আমরা একটি কথা বারবার বলছি, একটি দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও আইন ভঙ্গের প্রবণতা থাকে। এটি সব দেশেই আছে, আর আমাদের মতো দেশে তো আরও বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের ব্যাপারে যারা নিষিদ্ধ আছে, আপনারা খেয়াল করবেন যে সরকারের এই বদনামও আওয়ামী গোষ্ঠী রূপান্তর করেছে যে, ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে ফর দ্য টাইম বিয়িং। সেটার যে অধ্যাদেশ ছিল, সেটাকে এই সরকার আইনে পরিণত করেছে। তার মানে সরকার চাইছে তাদের কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকুক।’

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটার (অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করা) সমালোচনাও অনেকে করছেন। তার মানে সরকারের ইনটেনশনটা আমি জানিয়ে দিলাম যে, সরকার চাইছে এটি বহাল থাকুক। সেটার বিরুদ্ধে কখনো কখনো কোনো কোনো ঘটনা ঘটছে। সেটার নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই সিরিয়াস থাকবে। আর আপনি যেটা বললেন, খুব বড় পরিসরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে করার চেষ্টা হয়েছে—এই প্রবণতা বন্ধ করার জন্য সরকার কাজ করবে।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত