চীনের সঙ্গে ১৩ সমঝোতা স্মারক, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আরও যা হলো

তৈরি পোশাকের ভ্যালু চেইন শক্তিশালী করতে চায় চীন; বাংলাদেশে আসবে চীনা ব্যাংক; ব্রিকস ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার আশ্বাস।

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ২১: ৪১
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। ছবি: পিএমও

চীনের বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

বৈঠকে বাংলাদেশের সড়ক, সেতু, টানেল ও বন্দরের মতো অবকাঠামো উন্নয়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহযোগিতা এবং বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণসহ বহুমাত্রিক অংশীদারত্বের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, পরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের উপস্থিতিতে ১৩টি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এরমধ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এবং বাগেরহাটের মোংলায় ইকোনমিক জোন তৈরির বিষয়ও রয়েছে। এ ব্যাপারে মাহদী আমিন বলেছেন, ‘ইকোনমিক জোন দিয়ে আমরা কীভাবে নতুন চীনা ফ্যাক্টরি, চীনা প্রোডাকশন ফ্যাসিলিটি এবং তার মাধ্যমে এমপ্লয়মেন্ট জেনারেট করতে পারি, সে নিয়ে দুটো এমওইউ হয়েছে।’

মাহদী আমিন বলেন, এমওইউ’র মধ্যে রয়েছে ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন কীভাবে আমরা গ্রিন ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে প্রমোট করতে পারি, জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যানের বিষয়ে কথা হয়েছে, বাংলাদেশের এক্সপোর্ট ক্যাপাসিটি বাড়িয়ে যেন চীনে আমরা রপ্তানি বাড়াতে পারি, বিভিন্ন ডেভেলপমেন্টাল কোঅপারেশনের কথা হয়েছে, কনসেশনাল লোন অর্থাৎ বাংলাদেশে যে ঋণটা চীন থেকে যাচ্ছে সেখানে কীভাবে আমরা ইন্টারেস্ট রেট কমাতে পারি, গ্রেস পিরিয়ড বাড়াতে পারি, সেটি নিয়ে একটি এমওইউ হয়েছে।

এছাড়া গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (জিডিআই) আওতায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে চুক্তি সই হয়েছে। কৃষি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল রপ্তানি এবং বাংলাদেশে ম্যান্ডারিন ভাষা শিক্ষা চালু ও কারিগরি-বৃত্তিমূলক শিক্ষায় যৌথ অংশীদারিত্বের জন্য দুটি পৃথক স্মারক সই হয়েছে। গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক ফোরাম, রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সামনের দিনগুলোতে বেশ কয়েকটি চীনা ব্যাংক বাংলাদেশে তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে চায়। এ ছাড়া ডিজিটাল ইকোনমি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও লজিস্টিকস খাতে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বড় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই প্রকল্পের প্ল্যানিং স্টেজ থেকে শুরু করে ডিজাইন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে চীন কারিগরি সহযোগিতা দেবে। এ ছাড়া এত বড় একটি প্রজেক্টের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ‘যৌথ ফিজিবিলিটি স্টাডি’ বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সঙ্গে চীন কাজ করতে চায়।

মাহদী আমিন বলেন, চীনের উন্নত পানি নিষ্কাশন ও ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী ভাঙন রোধ ও সামগ্রিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগাতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

তিনি বলেন, বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবধান কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী নিজে থেকেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ভ্যালু চেইন ও সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে পারলে চীনা উদ্যোক্তারা সেখানে বড় বিনিয়োগ করবেন বলে জানান লি কিয়াং।

মাহদী আমিন জানান, উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট ব্রিকসে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার ব্যাপারে চীন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশ্বস্ত করেছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মিয়ানমারের সাথে আলোচনা বা ডায়ালগে চীন মধ্যস্থতা ও সহযোগিতা করবে বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে। বৈঠকে তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বলেও উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

Ad 300x250

সম্পর্কিত