leadT1ad

নিজ অর্থে জামায়াত এমপিকে ওভেন-পর্দা দেওয়ার প্রস্তাব পার্থর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

জাতীয় সংসদে কথা বলছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। স্ক্রিনশট নেওয়া ছবি

জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা চেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মিজানুর রহমান। বুধবার বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় অংশ নিয়ে তিনি এগুলো চান। তবে এর মধ্যে মাইক্রোওভেন ও পর্দা নিজ অর্থে দেওয়ার প্রস্তাব দেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই প্রস্তাব দেন। এ সময় তাঁর প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানান সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার গত সংসদ শুধু গণতন্ত্রকে হত্যা করেনি, সংসদের সংস্কৃতিকেও সাংঘাতিকভাবে নষ্ট করেছে। আমরা দেখেছি এখানে গান হয়েছে, অন্য কিছু হয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে সরাসরি ওইদিকে না গেলেও কিছু কিছু জায়গায় কিন্তু আমরা ওইদিকে চলে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার গতকাল পার্লামেন্ট থেকে যাওয়ার পরে আমি অনেক ফোন পাই এবং অনেক পত্রিকা নিউজ করে জামায়াতের এমপির চাহিদা ওয়াশিংমেশিন, মাইক্রোওভেন এবং পর্দা। এটা আমাকে অনেক লজ্জা দেয় এবং আমি মনে করি এই সংসদকে অনেক লজ্জা দেয় যে একটা সংসদ সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে যেখানে জনগণের কথা বলবে, জনগণের দাবির কথা বলবে সেখানে তিনি ওয়াশিং মেশিন পেলো না মাইক্রোওভেন পেলো না পর্দা পেলো সে ব্যাপারে কথা বলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে আবার বলা হয় আমরা গাড়ি নিব না, আমরা প্লট নিবো না। তাহলে আমার কাছে মনে হয় আসলেই যদি গাড়ির আর প্লট ওনারা বাদ দিল তখন ওনাদের বুকের ওপর কত বড় পাথর চাপা দিয়ে বাদ দিতে হলো যে মাইক্রোওভেন আর ওয়াশিংমেশিনের জন্য এই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে।’

নিজ অর্থায়নে মাইক্রোওভেন-পর্দা কিনে দেওয়ার প্রস্তাব জানিয়ে সরকারি জোটের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার ভাই যেহেতু মাইক্রোওভেন, পর্দা ও ওয়াশিংমেশিন চেয়েছেন, সেহেতু আমি আমার পক্ষ থেকে ওনার জন্য পর্দা আর মাইক্রোওভেন দিতে চাই এবং প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে চাই যদি ওয়াশিংমেশিনটা উনি দেয় তাহলে তার সংসারটা আমরা গুছিয়ে দিতে পারতাম।’

আন্দালিব রহমান পার্থ এই প্রস্তাব দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তাঁকে থামিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পার্থের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মাননীয় সদস্য এটা পয়েন্ট অব অর্ডারের মধ্যে পড়ে না। দ্বিতীয়ত যে সদস্য এটা বলেছেন সে বাজেট সেশনের ওপরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন। বাজেট সেশন এমন একটি সেশন সেখানে অনেক বিষয়ে বক্তব্য রাখা যায়। তাছাড়া একজন সদস্য তাঁর সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি এটা সংসদে না বললেও ভালো হতো কিন্তু এটা বলে এমন কোন অপরাধও তিনি করেননি।’

স্পিকার আরও বলেন, আমাদের হাউজ কমিটি আছে সেখানে আমরা সংসদ সদস্যদের আসবাবপত্র ইত্যাদি আমরা দিয়ে থাকি। সে হিসেবে তিনি সকল সদস্যের জন্য চেয়েছেন। সুতরাং এটা এমন কোন গ্রহীত অপরাধ হয়নি। তবে আমি মনে করি না বললেই ভালো হতো। এতে জনমনে অন্য ধরনের ধারনা হতে পারে।’

স্পিকারের বক্তব্যের পরেও কথা বলতে চান ডা. শফিকুর রহমান। তখন তাঁকে একাধিকবার কথা না বলার জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি রাজি হননি। এরপর তাকে সুযোগ দিলে তিনি বলেন, ‘মাননীয় সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে যে কথাগুলো বলেছেন, আপনি তো প্রথমে নাখচ করে দিয়েছেন যে এটা পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় না। একজন সদস্য তিনি সবার জন্য একটা বিষয় চেয়েছেন। আপনি ঠিক বলেছেন এটা হাউজে না বলে এটার জন্য একটা কমিটি আছে সেখানে বললেই হতো। কিন্তু তিনি এটাকে সূত্র ধরে আবার গাড়ি, বাড়ি সব নিয়ে এলেন। আবার নিজের থেকে অফারও দিয়ে দিলেন আমি সব দিয়ে দিব। ওনার কাছে চাইছে নাকি কেউ যে উনি দিবেন। আমার মনে হয় আমাদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত যে এখানে আমরা কেউ কারো সম্মানের আঘাত করবো না। আমরা আশা করব যে আগামীতে এগুলোর প্রতি আরও যত্নশীল হব।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত