জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

কক্সবাজার হাসপাতালে নিখোঁজ, চার দিন পর লিফটের নিচে নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কক্সবাজার

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে মরদেহ উদ্ধার হওয়া কহিনুর আক্তার। সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে নিখোঁজ এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ লিফটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের চার দিন পর শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত কহিনুর আক্তার (৩২) জেলার উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী।

এ সব তথ্য জানিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

কহিনুরের স্বজনরা জানান, গত বুধবার (৩ মার্চ) অসুস্থ ৭ বছর বয়সী মেয়ের চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি। পরে মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ওই দিন বিকেল থেকে হঠাৎ তিনি নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিহতের ভাশুরের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চার দিন ধরে তাঁর চাচিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি র‍্যাব ও পুলিশকেও জানানো হয়েছিল। শনিবার হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিখোঁজ হওয়ার দিন কহিনুরকে হাসপাতালের চারতলার লিফটে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এরপর তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ‘লিফটে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে, না কি অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি এই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেবাগ্রহীতারা অভিযোগ করছেন, চার দিন ধরে একটি মরদেহ লিফটের নিচে পড়ে থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা টের পায়নি, যা চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার পরিচয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘এই ঘটনার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। লিফটের নিয়মিত ত্রুটি যাচাই ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এমন ঘটনা ঘটত না। সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

নারীর মৃত্যু ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিংঞোর ব্যক্তিগত ফোনে একাধিকবার করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শান্তনু ঘোষ বলেন, ‘লিফটের নিচ থেকে গন্ধ পেয়ে, সেখানে চেক করতে গিয়ে লাশের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে পুলিশে খবর দিলে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।’

সম্পর্কিত