চুয়াডাঙ্গার রেলবাজার ওভারপাস

এক বছরের কাজ হয়নি চার বছরেও, ব্যয় বেড়েছে ৪০%

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের রেলবাজার এলাকায় রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ-প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকায় তীব্র ভোগান্তিতে পড়ছেন চার জেলার বাসিন্দারা। ছবি : স্ট্রিম

যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের রেলবাজার এলাকায় ২০২৩ সালে একটি রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। এক বছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে তা শেষ হয়নি তিন বছরেও। এরই মধ্যে দুই দফায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৪০ শতাংশ। বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকায় যানজট নিরসনের প্রকল্পই উল্টো সৃষ্টি করছে তীব্র যানজট।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী বছরের জুনে শেষ হবে পুরো কাজ। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ায় আগামী বছরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলবাজার এলাকায় ৭৪৮ মিটার দীর্ঘ ওভারপাসটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালে। ৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওভারপাসটির কাজ ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু

কাজ চলাকালে র‌্যাম্পের আয়তন বাড়ানো, জমির মূল্য বৃদ্ধি ও রেলগেটের নকশায় ত্রুটি দেখা দেয়। পরে সংশোধন করা হয় নকশা। এতে প্রায় ১১ কোটি টাকা খরচ বাড়িয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় ৭৫ কোটি টাকা করা হয়। সঙ্গে প্রকল্প শেষের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে করা হয় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত।

বর্ধিত সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় চলতি বছর আবারও প্রকল্পের কাজের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোয় প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এতে প্রায় ৪০ শতাংশ খরচ বেড়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন হয়ে খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও পার্বতীপুর রুটে ৩০-৩৫টি মালবাহী, আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন চলাচল করে। এ জন্য ৩০-৪০ মিনিট পর রেলক্রসিংয়ে সিগন্যাল দিতে হয়। প্রতিবার ট্রেন যাওয়ার সময় ১০ মিনিট হিসেবে অন্তত ৫ ঘণ্টা ক্রসিংটি বন্ধ রাখতে হয়।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের ওপর দিয়ে যাওয়া চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার গাড়ি যাতায়াত করে। দিনে ট্রেন যাতায়াতের জন্য রেলক্রসিং বন্ধ রাখলে দুই পাশের সড়কের তীব্র যানজট দেখা যায়।

সরেজমিনে নির্মাণাধীন রেল ওভারপাস এলাকায় দেখা গেছে, ওভারপাস নির্মাণাধীন থাকায় নিচের সড়কটিও দীর্ঘদিন সংস্কার করা হচ্ছে না। এতে খানাখন্দে ভরে গেছে রাস্তা। ওভারপাসের নির্মাণ কাজের ধুলোবালিতে একাকার হয়ে যায় ওই এলাকা। বৃষ্টি হলে কাদা পানিতে লেপ্টে থাকে পুরো সড়ক।

স্থানীয় বাসিন্দা রওশন আলী বলেন, প্রতিদিন ধুলাবালি, যানজট আর বিকল্প রাস্তার দুরবস্থার কারণে আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

আরেক বাসিন্দা রনি বিশ্বাস বলেন, ট্রেন চলাচলের জন্য দিনে অনেক সময় রেলগেট বন্ধ থাকে। এতে শহরের যানচলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বৃষ্টি হলে এই ওভারপাস সড়কে কাদা পানিতে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

ইজিবাইকচালক ফরিদ হোসেন বলেন, সেই কবে থেকে দেখছি ওভারপাস নির্মাণের কাজ হচ্ছে, এখনো হচ্ছেই। প্রতিদিনই এই রাস্তায় যাতায়াতে খুব ভোগান্তি হয়।

রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে গত বছরের শেষের দিকে জেলা শহরে মানববন্ধন করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে অংশ নেওয়া সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) জেলা সভাপতি মানিক আকবর স্ট্রিমকে বলেন, একটা ভালো কাজে যে এত দুর্ভোগ হতে পারে জানা ছিল না। ওভারপাস নির্মাণাধীন এলাকায় অনেকগুলো দোকানপাট ভাঙতে হয়েছে, এতে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন অনেকে। ওভারপাস নির্মাণের সঙ্গে নিচের সড়কটিও মেরামতের দাবি জানান তিনি।

ওভারপাস নির্মাণের কাজ করছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রজেক্ট ম্যানেজার নাজির আহমেদ মোবাইল ফোনে স্ট্রিমকে বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ ও ব্যয় বৃদ্ধির জটিলতায় ওভারপাসটি নির্মাণে সময় লাগছে। এসব কারণেই এক বছরের প্রকল্প ৪ বছরেও শেষ করা যাচ্ছে না। তবে তৃতীয় ধাপের মেয়াদের মধ্যে কাজটি শেষ করার চেষ্টা করছি।

চুয়াডাঙ্গার সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, কিছু জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ ছিল। ইতোমধ্যে ওভারপাসের পাশে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চেষ্টা করছি যাতে আগামী বছরের মধ্যে ওভারপাসটি চালু করা যায়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত