স্ট্রিম ডেস্ক

২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে পা রেখেছিলেন। গন্তব্য ছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল দীর্ঘ পথচলা, যা দুই দশক পর এসে পৌঁছেছে ১০০ দেশ ভ্রমণের মাইলফলকে। আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়ায় পা রেখে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসু তানভীর অপু।
তানভীর অপু স্ট্রিমকে জানান, ১০০তম দেশ ভ্রমণের এই অর্জনকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে একটি বিশেষ মুহূর্ত। জাম্বিয়ায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভ্রমণজীবনের সবচেয়ে বড় দুই অনুপ্রেরণা পাখিবিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশের প্রথম অ্যান্টার্কটিকা এবং উত্তর মেরু অভিযাত্রী ইনাম আল হক এবং উত্তর মেরু ও অ্যান্টার্কটিকা অভিযাত্রী ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
দুই দশকের এই বিশ্বভ্রমণ থেকে তানভীর অপুর সবচেয়ে বড় উপলব্ধিও মানুষকে নিয়েই। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীটা একটা দেশ, মানুষেরাই পৃথিবীটাকে বিভিন্ন সীমারেখা বিভক্ত করেছে।’

তানভীর অপুর পায়ের ছাপ পড়েছে পৃথিবীর সাতটি মহাদেশে। উত্তর মেরুর কাছাকাছি নরওয়ের হ্যামারফেস্ট থেকে শুরু করে পৃথিবীর দক্ষিণতম শহর আর্জেন্টিনার উশুইয়া। আবার সেখান থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা, সবই তাঁর ভ্রমণ মানচিত্রের অংশ। ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকাই ছিল তাঁর সবচেয়ে দীর্ঘ ও বিস্তৃত সফরের অঞ্চল।
২০ বছরের যাত্রায় তিনি ঘুরেছেন পৃথিবীর ১০০৩টি শহর। তানভীর অপু জানান, ‘বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও পর্যটননগরী আমার দেখার সুযোগ হয়েছে।’
সড়কপথেও তানভীর অপু ভ্রমণ করেছেন প্রায় আড়াই লাখ কিলোমিটার। কোথাও ইতিহাস তাঁকে টেনেছে, কোথাও প্রকৃতি। কিউবার সান্তা ক্লারায় চে গুয়েভারার সমাধি, মিশরের পিরামিড, জেরুজালেমের প্রাচীন নগরী, আফ্রিকার সেরেঙ্গেটি ও এনগোরোঙ্গোরো ক্রেটারের বন্যপ্রাণী কিংবা ইকুয়েডরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের জীববৈচিত্র্য। প্রতিটি স্থান তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

কিন্তু এতসব বিখ্যাত গন্তব্যের কথা বলতে গিয়ে তানভীর অপু বারবার ফিরে আসেন মানুষের প্রসঙ্গে। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা এবং জীবনধারার সঙ্গে একাত্ম হওয়া এক পরম পাওয়া। এই দীর্ঘ যাত্রায় মানবসভ্যতার বৈচিত্র্য ও প্রকৃতির অসীম মহিমা উপলব্ধি করেছি। পৃথিবীর নানা দেশের সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য, জীবনধারা এবং মানুষের গল্প আমাকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করেছে।’
তানভীর অপুর কথায়, ১০০ দেশ ভ্রমণের সবচেয়ে বড় অর্জন পৃথিবীকে নতুন চোখে দেখা। ভিন্ন ভাষায় কথা বললেও সবার আনন্দ, দুঃখ, ভালোবাসা ও স্বপ্নের অনুভূতি প্রায় একই।
তানভীর অপু বলেন, ‘এই দীর্ঘ যাত্রাপথে আমি শুধু দেশ দেখিনি। মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং স্বপ্ন নিজের চোখে দেখেছি। প্রতিটি দেশ আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে, নতুন গল্প উপহার দিয়েছে।’

তানভীর অপুর মতে, ভ্রমণ মানুষকে বিনয়ী করে। যত বেশি পৃথিবী দেখা যায়, তত বেশি বোঝা যায়—এখনও কত কিছু অজানা রয়ে গেছে। আর্কটিকের নীরবতা, আফ্রিকার বিস্তীর্ণ সাভানা, ইউরোপের শতবর্ষী নগর কিংবা লাতিন আমেরিকার পাহাড়ি জনপদ—প্রতিটি সফর তাঁকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।
১০০ দেশ ঘোরার পর ভ্রমণের সংজ্ঞা কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ভ্রমণ করা উচিত নিজের মনের আনন্দের জন্য এবং আনন্দে বেঁচে থাকার জন্য।’ ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর ভাবনা একই রকম সরল। ‘সুন্দর এই পৃথিবীর যতদূর পারা যায় আলতো করে ছুঁয়ে দেখতে চাই।’
দিল্লিতে শুরু হওয়া সাধারণ বিদেশ সফর আজ ১০০ দেশে পৌঁছেছে। কিন্তু তানভীর অপুর কাছে এই অর্জন এখনো নতুন পথের শুরু। কারণ তাঁর বিশ্বাস, পৃথিবীর মানচিত্রে এখনও অসংখ্য সীমান্তের ওপারে অপেক্ষা করছে নতুন মানুষ, নতুন সংস্কৃতি, নতুন গল্প। আর সেই গল্পের টানেই আবারও তিনি পথে বেরিয়ে পড়বেন।

২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে পা রেখেছিলেন। গন্তব্য ছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল দীর্ঘ পথচলা, যা দুই দশক পর এসে পৌঁছেছে ১০০ দেশ ভ্রমণের মাইলফলকে। আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়ায় পা রেখে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসু তানভীর অপু।
তানভীর অপু স্ট্রিমকে জানান, ১০০তম দেশ ভ্রমণের এই অর্জনকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে একটি বিশেষ মুহূর্ত। জাম্বিয়ায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভ্রমণজীবনের সবচেয়ে বড় দুই অনুপ্রেরণা পাখিবিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশের প্রথম অ্যান্টার্কটিকা এবং উত্তর মেরু অভিযাত্রী ইনাম আল হক এবং উত্তর মেরু ও অ্যান্টার্কটিকা অভিযাত্রী ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
দুই দশকের এই বিশ্বভ্রমণ থেকে তানভীর অপুর সবচেয়ে বড় উপলব্ধিও মানুষকে নিয়েই। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীটা একটা দেশ, মানুষেরাই পৃথিবীটাকে বিভিন্ন সীমারেখা বিভক্ত করেছে।’

তানভীর অপুর পায়ের ছাপ পড়েছে পৃথিবীর সাতটি মহাদেশে। উত্তর মেরুর কাছাকাছি নরওয়ের হ্যামারফেস্ট থেকে শুরু করে পৃথিবীর দক্ষিণতম শহর আর্জেন্টিনার উশুইয়া। আবার সেখান থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা, সবই তাঁর ভ্রমণ মানচিত্রের অংশ। ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকাই ছিল তাঁর সবচেয়ে দীর্ঘ ও বিস্তৃত সফরের অঞ্চল।
২০ বছরের যাত্রায় তিনি ঘুরেছেন পৃথিবীর ১০০৩টি শহর। তানভীর অপু জানান, ‘বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও পর্যটননগরী আমার দেখার সুযোগ হয়েছে।’
সড়কপথেও তানভীর অপু ভ্রমণ করেছেন প্রায় আড়াই লাখ কিলোমিটার। কোথাও ইতিহাস তাঁকে টেনেছে, কোথাও প্রকৃতি। কিউবার সান্তা ক্লারায় চে গুয়েভারার সমাধি, মিশরের পিরামিড, জেরুজালেমের প্রাচীন নগরী, আফ্রিকার সেরেঙ্গেটি ও এনগোরোঙ্গোরো ক্রেটারের বন্যপ্রাণী কিংবা ইকুয়েডরের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের জীববৈচিত্র্য। প্রতিটি স্থান তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

কিন্তু এতসব বিখ্যাত গন্তব্যের কথা বলতে গিয়ে তানভীর অপু বারবার ফিরে আসেন মানুষের প্রসঙ্গে। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা এবং জীবনধারার সঙ্গে একাত্ম হওয়া এক পরম পাওয়া। এই দীর্ঘ যাত্রায় মানবসভ্যতার বৈচিত্র্য ও প্রকৃতির অসীম মহিমা উপলব্ধি করেছি। পৃথিবীর নানা দেশের সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য, জীবনধারা এবং মানুষের গল্প আমাকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করেছে।’
তানভীর অপুর কথায়, ১০০ দেশ ভ্রমণের সবচেয়ে বড় অর্জন পৃথিবীকে নতুন চোখে দেখা। ভিন্ন ভাষায় কথা বললেও সবার আনন্দ, দুঃখ, ভালোবাসা ও স্বপ্নের অনুভূতি প্রায় একই।
তানভীর অপু বলেন, ‘এই দীর্ঘ যাত্রাপথে আমি শুধু দেশ দেখিনি। মানুষের জীবন, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং স্বপ্ন নিজের চোখে দেখেছি। প্রতিটি দেশ আমাকে নতুন কিছু শিখিয়েছে, নতুন গল্প উপহার দিয়েছে।’

তানভীর অপুর মতে, ভ্রমণ মানুষকে বিনয়ী করে। যত বেশি পৃথিবী দেখা যায়, তত বেশি বোঝা যায়—এখনও কত কিছু অজানা রয়ে গেছে। আর্কটিকের নীরবতা, আফ্রিকার বিস্তীর্ণ সাভানা, ইউরোপের শতবর্ষী নগর কিংবা লাতিন আমেরিকার পাহাড়ি জনপদ—প্রতিটি সফর তাঁকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।
১০০ দেশ ঘোরার পর ভ্রমণের সংজ্ঞা কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ভ্রমণ করা উচিত নিজের মনের আনন্দের জন্য এবং আনন্দে বেঁচে থাকার জন্য।’ ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর ভাবনা একই রকম সরল। ‘সুন্দর এই পৃথিবীর যতদূর পারা যায় আলতো করে ছুঁয়ে দেখতে চাই।’
দিল্লিতে শুরু হওয়া সাধারণ বিদেশ সফর আজ ১০০ দেশে পৌঁছেছে। কিন্তু তানভীর অপুর কাছে এই অর্জন এখনো নতুন পথের শুরু। কারণ তাঁর বিশ্বাস, পৃথিবীর মানচিত্রে এখনও অসংখ্য সীমান্তের ওপারে অপেক্ষা করছে নতুন মানুষ, নতুন সংস্কৃতি, নতুন গল্প। আর সেই গল্পের টানেই আবারও তিনি পথে বেরিয়ে পড়বেন।
.png)

ফরহাদ মজহার কবি, দার্শনিক, রাজনীতি বিশ্লেষকসহ বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত। যাপন থেকে শুরু করে চিন্তা ও তৎপরতায় রাজনীতি, সাহিত্য, দর্শন, কাব্য ও কৃষির উদ্যোগে প্রতিনিয়ত নিজেকেই নিজে অতিক্রম করছেন তিনি। ‘আমাকে তুমি দাঁড় করিয়ে দিয়েছ বিপ্লবের সামনে’, ‘অকস্মাৎ রপ্তানিমুখী নারীমেশিন’, ‘এবাদতনামা’ প্রভৃতি তাঁর উল
১৮ ঘণ্টা আগে
১৪৯২ সালের ২ জানুয়ারি। জিব্রাল্টার প্রণালির পাশ ঘেঁষে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালা। এরই পাদদেশের শহর গ্রানাডার আকাশেই অস্ত যায় মুসলিম আন্দালুসের আট শতকের গৌরবময় ইতিহাসের শেষ সূর্য।
০৭ আগস্ট ২০২৬
স্ট্রিম: ‘চিহ্ন’ পত্রিকার ২৫ বছরের যাত্রায় ফিরে তাকালে আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কী বলে মনে হয়? শহীদ ইকবাল: অর্জন তো কোট-আনকোট (‘’)। আমরা কাজের নেশা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। নিশ্চয়ই ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আমাদের জার্নিটা একটা প্রভাবশালী শক্তি। সামগ্রিক অবদান তো সেভাবে দেখা যাবে না। তবে বড় অর্জনের
০৭ আগস্ট ২০২৬
‘গতকল্য বৃহস্পতিবার বেলা ১২.১৩ মিঃ সময় বিশ্ববরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলিকাতা জোড়াসাঁকোস্থিত বাসভবনে মহাপ্রয়াণ করিয়াছেন। মৃত্যুকালে তাঁহার বয়স ৮০ বৎসর ৩ মাস হইয়াছিল।
০৬ আগস্ট ২০২৬