আইসিইউতে হাতকড়া পরা সেই মনির খানের মুক্তি মিলল মৃত্যুতে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বরিশাল

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২১: ৪৯
পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মনির খান। সংগৃহীত ছবি

গলায় শ্বাসনালিতে মোটা পাইপ, নাকে অক্সিজেনের নল দেওয়া অচেতন এক রোগীর হাতে পুলিশের হাতকড়া পড়া একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক সপ্তাহ আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ওই ছবিটি পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ওরফে মনির খানের (৪৮)। দীর্ঘদিন কারাবন্দী অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে তিনি হাসপাতালেই তিনি মারা গেছে।

মনির খান বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পটুয়াখালী জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় একটি হত্যা মামলায় মনির খান ও তাঁর স্ত্রী সামলা খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ঢাকাসহ বিভিন্ন মামলায় মনিরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এতে প্রায় ১১ মাস কারাগারে ছিলেন তিনি। এছাড়া তাঁর স্ত্রী তিনটি মামলায় প্রায় ছয় মাস কারাবন্দী থাকার পর জামিনে মুক্তি আছেন। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

মনির খানের আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৪ জুন থেকে ঢামেক হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। ভর্তির দুই দিন পরই তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর আর তাঁর জ্ঞান ফেরেনি। প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত আজ হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ৯ জুন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। প্রথমে তাঁকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢামেক হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর।

আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছড়িয়ে পড়া ছবিটি স্বামীর বলে নিশ্চিত করেছিলেন স্ত্রী সালমা জাহান। তবে হাসপাতালের ভেতরের ছবি কীভাবে বাইরে এল, তা তিনি জানেন না। তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও প্রায় এক মাস তাঁর স্বামীর হাতে হাতকড়া ছিল। চিকিৎসকের কাছ থেকে রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন জানার পর তাঁদের অনুরোধে পুলিশ হাতকড়া খুলে দেয়।

মনির খানের আইনজীবী এইচ এম সারোয়ার হোসেন জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন মামলায় তিনি একের পর এক জামিন পাচ্ছিলেন। তবে আইসিইউতে থাকা অবস্থায়ও নতুন মামলায় তাঁকে আদালতে তলব করা হয়েছিল। পরে ৩০ জুনের ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে একটি মামলায় জামিন মিললেও অন্য মামলাগুলোয় তিনি কারামুক্ত হতে পারেননি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত