সংসদে দাবির ছড়াছড়ি

‘দরপত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত, কাজ পাচ্ছেন স্বৈরাচারেরা’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ২২: ৩৩
সংসদ অধিবেশন। ছবি: সংগৃহীত

সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় সদস্যরা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন। কারও বক্তব্যে উঠে এসেছে স্বাস্থ্যখাতের জনবল সংকট। কেউ বলেছেন, মাদক ও অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সব বরাদ্দ বৃথা যাবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সংসদ অধিবেশনে আবার কারও অভিযোগ, দরপত্রে অভিজ্ঞতার শর্তের কারণে নতুনরা কেউ কাজ পাচ্ছেন না। ঘুরেফিরে স্বৈরাচারের লোকজনই প্রকল্প বাগিয়ে নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্যখাতে পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে যশোর-২ আসনের সদস্য মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, স্বাস্থ্যখাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা জনবল। অনেক স্বাস্থ্যকর্মী তাদের গ্রাম বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকেন না। আমাদের ৮০ হাজার পদ এই মুহূর্তে খালি। কেন আমাদের এত পদ খালি?

তিনি বলেন, এর উত্তর হলো স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় শিক্ষিত বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকের অভাব। আমাদের এই অভাব পূরণ করতে গেলে পরিকল্পিতভাবে এবং বাজেটে সেভাবে অর্থায়ন করে আমাদের জনবল তৈরি করতে হবে।

মাদকবিরোধী এবং অনলাইন জুয়াবিরোধী সেল গঠনের দাবি জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, আমরা মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে যেখানে যা বরাদ্দ দেওয়া হোক, সব বৃথা যাবে। আমার দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সেলের মতো মাদকবিরোধী এবং অনলাইন জুয়াবিরোধী সেল গঠন করা হয়। একইসঙ্গে সেলগুলোতে যেনো পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়।

দরপত্রের জটিলতা নিরসনের দাবি জানিয়ে বগুড়া-৩ আসনের সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার বলেন, আমাদের দেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দরপত্র অনেক আগে হয়। কিন্তু কাজ শুরু হয় বৃষ্টি-বাদলের সময়। এই কারণে আমরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আবার দরপত্রের মধ্যে ১০-১৫ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত থাকছে। এতে স্বৈরাচার আমলে যারা কাজ পাইছে, শুধু তারাই কাজ পাবেন। নতুন কেউ কাজ পাবেন না। এই ব্যবস্থা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।

মৎস ও চিংড়ি খাতে বরাদ্দের দাবি জানিয়ে খুলনা-১ আসনের সদস্য আমির এজাজ খান বলেন, মৎস ও চিংড়ি খাত এই অঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণ। তাই মৎসও চিংড়িখাতের চাষিদের জন্য সহজ ঋণ, আধুনিক প্রযুক্তি, সংরক্ষণ সুবিধা ও রপ্তানি সহায়তা বৃদ্ধি করা দরকার।

শিক্ষা গবেষণায় বরাদ্দের দাবি জানিয়ে যশোর-৪ আসনের সদস্য গোলাম রসুল বলেন, বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বেশি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গবেষণা খাতে কোনো সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই। আজ আধুনিক যুগে, প্রযুক্তির যুগে আমরা গবেষণা খাতে বরাদ্দ না রাখলে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যুবকরা হারিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গায় গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি– এই খাতে বাজেট না থাকার কারণে অনেক অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তানেরা ঝরে পড়ছে। এ জন্য আমি চাই, গবেষণায় সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ দেওয়া হোক।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত