রাষ্ট্র পুনর্গঠনে এসডিজি পুনর্গঠন ভূমিকা রাখবে: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৪৩
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

রাষ্ট্র পুনর্গঠনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরের কৌশলগত কাঠামো ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় এসডিজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো: নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের শাসনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে ভঙ্গুরতা তৈরি হয়েছে। এখন সেই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পালা। এ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় এসডিজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘের এসডিজির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

সরকারের নতুন কাঠামোয় সামাজিক সুরক্ষাকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে ই-হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান তিনি।

ক্রীড়া কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের সহায়তা নেটওয়ার্ক পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে বিস্তৃত করা হচ্ছে। চলতি মেয়াদের মধ্যেই সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তার কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এলডিসি থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখতে সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন’—এই তিন স্তরের কৌশল গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সুসংহত রোডম্যাপের আওতায় নেওয়া হবে।

গ্রাম থেকে এসডিজি বাস্তবায়নের পরীক্ষা

এসডিজির স্থানীয় বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দিয়ে প্রথমবারের মতো তিনটি গ্রামকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

গ্রামগুলো হলো রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর।

এসব গ্রামে একসঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুলের পোশাক, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, নীল অর্থনীতিভিত্তিক কর্মসংস্থান, ‘এক গ্রাম-এক পণ্য’, বৃক্ষরোপণ ও খাল খননের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিবর্তে একটি গ্রামের অর্থনীতি, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে সমন্বিতভাবে উন্নয়নের মডেল তৈরি করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সফল হলে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য গ্রামেও এ মডেল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক সুরক্ষা, মানবসম্পদ, পরিবেশ ও সুশাসনের সঙ্গে যুক্ত করার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে এসডিজি বাস্তবায়নে সরকার একা সফল হতে পারবে না বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

তিন দিনের সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত