আজ অলস দিবস
অলসতার জন্যও যে একটা দিন থাকতে পারে, তা শুনে হয়তো অবাক লাগছে! সারাদিন কাজের চাপ, ব্যস্ততা আর ‘প্রোডাক্টিভ’ থাকার দৌড়ে আমরা বিশ্রাম নেওয়াকেও অনেক সময় অপরাধ মনে করি। কিন্তু সত্যিই কি সব অলসতা খারাপ? বরং কিছু অভ্যাস, যেগুলোকে আমরা অলসতা ভাবি, সেগুলোই হতে পারে বুদ্ধিমত্তার ইঙ্গিত।
স্ট্রিম ডেস্ক

আমাদের বেশিরভাগের মনে ‘বুদ্ধিমান’ মানুষ বলতে একটা নির্দিষ্ট ছবি আছে। আমরা ভাবি, তিনি খুব পরিপাটি, গোছানো ও চটপটে হবেন। সব কাজ থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয়। সময় মেনে চলবেন, দ্রুত মেইলের উত্তর দেবেন এবং চাপের মধ্যেও ভালো কাজ করবেন।
তবে গবেষকরা বলছেন, বুদ্ধিমান মানুষের এই রূপটি সবসময় এমন না-ও হতে পারে। প্রকৃত বুদ্ধিমানেরা জানেন তাঁদের মানসিক, শারীরিক ও আবেগীয় শক্তি সীমিত। তাই নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স ধরে রাখতে তাঁরা অনেক সময় এই শক্তি বাঁচিয়ে চলেন। একে আমরা অনেক সময় ‘অলসতা’ ভেবে ভুল করি। কিন্তু গবেষকেরা বলছেন, এসব অলসতা আসলে ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগতে পারে। বুদ্ধিমান মানুষ কেন কঠিন পরিশ্রম এড়িয়ে চলবেন? পরিশ্রমই তো সাফল্যের চাবিকাঠি! কিন্তু বিষয়টি একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়, কঠিন পরিশ্রম এড়িয়ে চলা মানেই কাজের প্রতি অনীহা নয়। বরং অপ্রয়োজনীয় খাটুনি কমিয়ে কীভাবে সহজে কাজটি করা যায়, সেটি খুঁজে বের করা।
সহজ কোনো উপায় খোঁজা, প্রযুক্তি ব্যবহার করা বা কোনো কাজ অটোমেট করে নেওয়াকে আমরা অনেক সময় ফাঁকিবাজি ভাবি। কম পরিশ্রমের পথ বেছে নেওয়াকেও নেতিবাচকভাবে দেখি। কিন্তু আসলে এটি এক ধরনের দক্ষতা। বুদ্ধি খাটাতে না পারলে কঠিন কাজকে সহজ করার পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।
২০০৯ সালে ‘নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড বায়োবিহেভিওরাল রিভিউস’ জার্নালে একটি গবেষণায় মস্তিষ্কের বিশেষ কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বলা হয় ‘নিউরাল এফিশিয়েন্সি হাইপোথিসিস অফ ইন্টেলিজেন্স’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষের মস্তিষ্ক সাধারণত অন্যদের চেয়ে কম সক্রিয় হতে পারে। জটিল মানসিক কাজ করার সময়ও এমনটা ঘটে। কেউ কেউ একে কাজের প্রতি উদাসীনতা ভাবতে পারেন। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, তাঁদের মস্তিষ্ক বাকিদের তুলনায় বেশি গোছানো।
সহজ করে বললে, একজন মানুষ যে কাজটি করতে অনেক সময় ও শক্তি খরচ করছেন, বুদ্ধিমান ব্যক্তি হয়তো সেটিই কম সময়ে ও কম পরিশ্রমে করে ফেলছেন। বাইরে থেকে মনে হতে পারে, তিনি খুব একটা চেষ্টা করেননি। কিন্তু বাস্তবে তিনি শুরুতেই সহজ ও কার্যকর পথটি খুঁজে নিয়েছেন। যাকে আমরা অলসতা বলি, তা আসলে ‘সিস্টেম-লেভেল থিংকিং’। কম খেটে বেশি ফল পাওয়ার চেষ্টা। এ ধরনের চিন্তায় শুধু কতটা পরিশ্রম করা হলো, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; শেষ পর্যন্ত কতটা ভালো ফল পাওয়া গেল, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা বা দিনের বেলা একটু ঘুমিয়ে নেওয়াকে আমরা অনেক সময় অলসতার লক্ষণ মনে করি। কিন্তু স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে অন্য কথা।
২০১৫ সালে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়। সেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং ঘুমের ধরনের সম্পর্ক পরীক্ষা করা হয়েছিল। বিশেষ করে দুপুরের ঘুমের সময় মস্তিষ্কের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা হয়। ঘুমের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে মস্তিষ্কে এক ধরনের দ্রুত বৈদ্যুতিক তরঙ্গ দেখা যায়। এগুলোকে বলা হয় ‘স্লিপ স্পিন্ডলস’। স্মৃতি ধরে রাখা এবং নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রে এই তরঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষকেরা দেখেছেন, বুদ্ধিমান মানুষের ঘুমের সময় এই ‘স্লিপ স্পিন্ডলস’ তুলনামূলক বেশি সময় ধরে থাকতে পারে। অর্থাৎ তাঁদের ঘুমের ধরন কিছুটা আলাদা হতে পারে। ছোট্ট দুপুরের ঘুমের সময়ও মস্তিষ্কের এই প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে।
আমরা সাধারণত ভাবি, সফল মানুষ মানেই যিনি রাত জেগে কাজ করেন, ঘুম কমান এবং সবসময় ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় উল্টো। অনেক বুদ্ধিমান মানুষ ঘুমকে গুরুত্ব দেন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেন। কারণ ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেয় না, মস্তিষ্ককেও গুছিয়ে নিতে সাহায্য করে।
স্মৃতি ধরে রাখা, মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সৃজনশীলভাবে সমস্যা সমাধান কিংবা কঠিন বিষয় নিয়ে ভাবার ক্ষমতার সঙ্গেও ঘুমের সম্পর্ক রয়েছে। ঘুমের অভাব হলে মনোযোগ কমে যেতে পারে, সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই কেউ রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে গেলে তাঁকে আরামপ্রিয় ভাবার দরকার নেই। সকালে একটু দেরি করে উঠলেও বা দুপুরে ছোট্ট একটা ন্যাপ নিলেও তাঁকে অলস বলা ঠিক নয়। হয়তো তিনি অলসতা করছেন না, বরং নিজের মস্তিষ্ককে ভালোভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দিচ্ছেন।
আমাদের সমাজে যিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে চট করে মুখ খোলেন, তাঁকে সাহসী ভাবা হয়। প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়ে বুদ্ধিদীপ্ত জবাব দেওয়াকে আমরা প্রশংসা করি। বিপরীতে, যিনি ঝামেলা দেখলে এড়িয়ে যান, তাঁকে নিরুৎসাহী মনে করা হয়।
কিন্তু সব বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না দেখানো মানেই উদাসীনতা নয়। বরং অনেক সময় এটি হতে পারে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার বা ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’-এর লক্ষণ।
২০২৫ সালে ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন পাবলিক হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, উচ্চ আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষেরা সাধারণত মানসিক চাপ সামলাতে দক্ষ হন। তাঁরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকেন। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, এর পেছনে কাজ করে ‘সাইকোলজিক্যাল ডিটাচমেন্ট’ বা মানসিক বিচ্ছিন্নতা। যেকোনো চাপ সৃষ্টিকারী বিষয় থেকে নিজেকে মানসিকভাবে দূরে রাখার ক্ষমতাই এটি। এই ক্ষমতা মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
ধরুন, অফিসে দুই সহকর্মী বসের কাছ থেকে হালকা সমালোচনা শুনলেন। প্রথমজন সেই কথা নিয়ে সারাদিন ভাবলেন। রাগ করলেন, মন খারাপ করলেন, বারবার বস কী বলেছেন তা মনে করলেন। এমনকি মনে মনে বসকে কী জবাব দেওয়া উচিত ছিল, সেটাও ভাবতে থাকলেন। অন্যজন কথাটি শান্তভাবে শুনলেন। সমালোচনার মধ্যে কাজের প্রয়োজনীয় কথাগুলো গ্রহণ করলেন। এরপর বাকি বিষয়গুলো মাথা থেকে সরিয়ে নিজের কাজে মন দিলেন।
বাইরে থেকে মনে হতে পারে, দ্বিতীয় ব্যক্তি হয়তো বিষয়টিকে গুরুত্বই দেননি। কিন্তু আসলে তিনি বুঝেছেন, কোন বিষয়টি নিয়ে ভাবা দরকার আর কোনটি ছেড়ে দেওয়া ভালো।
বুদ্ধিমান মানুষ সব সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে চান না। তাঁরা জানেন, প্রতিটি বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাতে গেলে নিজের সময় ও মানসিক শক্তি নষ্ট হয়। তাই তাঁরা বেছে নেন কোন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, আর কোনটি ছেড়ে দেওয়া যায়। সবকিছুতে জড়ানো নয়, কোথায় জড়ানো দরকার সেটি বুঝতে পারাও বুদ্ধিমত্তা।

আমাদের বেশিরভাগের মনে ‘বুদ্ধিমান’ মানুষ বলতে একটা নির্দিষ্ট ছবি আছে। আমরা ভাবি, তিনি খুব পরিপাটি, গোছানো ও চটপটে হবেন। সব কাজ থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয়। সময় মেনে চলবেন, দ্রুত মেইলের উত্তর দেবেন এবং চাপের মধ্যেও ভালো কাজ করবেন।
তবে গবেষকরা বলছেন, বুদ্ধিমান মানুষের এই রূপটি সবসময় এমন না-ও হতে পারে। প্রকৃত বুদ্ধিমানেরা জানেন তাঁদের মানসিক, শারীরিক ও আবেগীয় শক্তি সীমিত। তাই নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স ধরে রাখতে তাঁরা অনেক সময় এই শক্তি বাঁচিয়ে চলেন। একে আমরা অনেক সময় ‘অলসতা’ ভেবে ভুল করি। কিন্তু গবেষকেরা বলছেন, এসব অলসতা আসলে ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগতে পারে। বুদ্ধিমান মানুষ কেন কঠিন পরিশ্রম এড়িয়ে চলবেন? পরিশ্রমই তো সাফল্যের চাবিকাঠি! কিন্তু বিষয়টি একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়, কঠিন পরিশ্রম এড়িয়ে চলা মানেই কাজের প্রতি অনীহা নয়। বরং অপ্রয়োজনীয় খাটুনি কমিয়ে কীভাবে সহজে কাজটি করা যায়, সেটি খুঁজে বের করা।
সহজ কোনো উপায় খোঁজা, প্রযুক্তি ব্যবহার করা বা কোনো কাজ অটোমেট করে নেওয়াকে আমরা অনেক সময় ফাঁকিবাজি ভাবি। কম পরিশ্রমের পথ বেছে নেওয়াকেও নেতিবাচকভাবে দেখি। কিন্তু আসলে এটি এক ধরনের দক্ষতা। বুদ্ধি খাটাতে না পারলে কঠিন কাজকে সহজ করার পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।
২০০৯ সালে ‘নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড বায়োবিহেভিওরাল রিভিউস’ জার্নালে একটি গবেষণায় মস্তিষ্কের বিশেষ কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বলা হয় ‘নিউরাল এফিশিয়েন্সি হাইপোথিসিস অফ ইন্টেলিজেন্স’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষের মস্তিষ্ক সাধারণত অন্যদের চেয়ে কম সক্রিয় হতে পারে। জটিল মানসিক কাজ করার সময়ও এমনটা ঘটে। কেউ কেউ একে কাজের প্রতি উদাসীনতা ভাবতে পারেন। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, তাঁদের মস্তিষ্ক বাকিদের তুলনায় বেশি গোছানো।
সহজ করে বললে, একজন মানুষ যে কাজটি করতে অনেক সময় ও শক্তি খরচ করছেন, বুদ্ধিমান ব্যক্তি হয়তো সেটিই কম সময়ে ও কম পরিশ্রমে করে ফেলছেন। বাইরে থেকে মনে হতে পারে, তিনি খুব একটা চেষ্টা করেননি। কিন্তু বাস্তবে তিনি শুরুতেই সহজ ও কার্যকর পথটি খুঁজে নিয়েছেন। যাকে আমরা অলসতা বলি, তা আসলে ‘সিস্টেম-লেভেল থিংকিং’। কম খেটে বেশি ফল পাওয়ার চেষ্টা। এ ধরনের চিন্তায় শুধু কতটা পরিশ্রম করা হলো, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; শেষ পর্যন্ত কতটা ভালো ফল পাওয়া গেল, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা বা দিনের বেলা একটু ঘুমিয়ে নেওয়াকে আমরা অনেক সময় অলসতার লক্ষণ মনে করি। কিন্তু স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে অন্য কথা।
২০১৫ সালে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়। সেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং ঘুমের ধরনের সম্পর্ক পরীক্ষা করা হয়েছিল। বিশেষ করে দুপুরের ঘুমের সময় মস্তিষ্কের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা হয়। ঘুমের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে মস্তিষ্কে এক ধরনের দ্রুত বৈদ্যুতিক তরঙ্গ দেখা যায়। এগুলোকে বলা হয় ‘স্লিপ স্পিন্ডলস’। স্মৃতি ধরে রাখা এবং নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রে এই তরঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষকেরা দেখেছেন, বুদ্ধিমান মানুষের ঘুমের সময় এই ‘স্লিপ স্পিন্ডলস’ তুলনামূলক বেশি সময় ধরে থাকতে পারে। অর্থাৎ তাঁদের ঘুমের ধরন কিছুটা আলাদা হতে পারে। ছোট্ট দুপুরের ঘুমের সময়ও মস্তিষ্কের এই প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে।
আমরা সাধারণত ভাবি, সফল মানুষ মানেই যিনি রাত জেগে কাজ করেন, ঘুম কমান এবং সবসময় ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় উল্টো। অনেক বুদ্ধিমান মানুষ ঘুমকে গুরুত্ব দেন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেন। কারণ ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেয় না, মস্তিষ্ককেও গুছিয়ে নিতে সাহায্য করে।
স্মৃতি ধরে রাখা, মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সৃজনশীলভাবে সমস্যা সমাধান কিংবা কঠিন বিষয় নিয়ে ভাবার ক্ষমতার সঙ্গেও ঘুমের সম্পর্ক রয়েছে। ঘুমের অভাব হলে মনোযোগ কমে যেতে পারে, সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই কেউ রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে গেলে তাঁকে আরামপ্রিয় ভাবার দরকার নেই। সকালে একটু দেরি করে উঠলেও বা দুপুরে ছোট্ট একটা ন্যাপ নিলেও তাঁকে অলস বলা ঠিক নয়। হয়তো তিনি অলসতা করছেন না, বরং নিজের মস্তিষ্ককে ভালোভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দিচ্ছেন।
আমাদের সমাজে যিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে চট করে মুখ খোলেন, তাঁকে সাহসী ভাবা হয়। প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়ে বুদ্ধিদীপ্ত জবাব দেওয়াকে আমরা প্রশংসা করি। বিপরীতে, যিনি ঝামেলা দেখলে এড়িয়ে যান, তাঁকে নিরুৎসাহী মনে করা হয়।
কিন্তু সব বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না দেখানো মানেই উদাসীনতা নয়। বরং অনেক সময় এটি হতে পারে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার বা ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’-এর লক্ষণ।
২০২৫ সালে ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন পাবলিক হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, উচ্চ আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষেরা সাধারণত মানসিক চাপ সামলাতে দক্ষ হন। তাঁরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকেন। গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, এর পেছনে কাজ করে ‘সাইকোলজিক্যাল ডিটাচমেন্ট’ বা মানসিক বিচ্ছিন্নতা। যেকোনো চাপ সৃষ্টিকারী বিষয় থেকে নিজেকে মানসিকভাবে দূরে রাখার ক্ষমতাই এটি। এই ক্ষমতা মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
ধরুন, অফিসে দুই সহকর্মী বসের কাছ থেকে হালকা সমালোচনা শুনলেন। প্রথমজন সেই কথা নিয়ে সারাদিন ভাবলেন। রাগ করলেন, মন খারাপ করলেন, বারবার বস কী বলেছেন তা মনে করলেন। এমনকি মনে মনে বসকে কী জবাব দেওয়া উচিত ছিল, সেটাও ভাবতে থাকলেন। অন্যজন কথাটি শান্তভাবে শুনলেন। সমালোচনার মধ্যে কাজের প্রয়োজনীয় কথাগুলো গ্রহণ করলেন। এরপর বাকি বিষয়গুলো মাথা থেকে সরিয়ে নিজের কাজে মন দিলেন।
বাইরে থেকে মনে হতে পারে, দ্বিতীয় ব্যক্তি হয়তো বিষয়টিকে গুরুত্বই দেননি। কিন্তু আসলে তিনি বুঝেছেন, কোন বিষয়টি নিয়ে ভাবা দরকার আর কোনটি ছেড়ে দেওয়া ভালো।
বুদ্ধিমান মানুষ সব সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে চান না। তাঁরা জানেন, প্রতিটি বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাতে গেলে নিজের সময় ও মানসিক শক্তি নষ্ট হয়। তাই তাঁরা বেছে নেন কোন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, আর কোনটি ছেড়ে দেওয়া যায়। সবকিছুতে জড়ানো নয়, কোথায় জড়ানো দরকার সেটি বুঝতে পারাও বুদ্ধিমত্তা।
.png)

শিল্পপ্রেমীদের কাছে ‘চিত্রার লাল মিয়া’ নামে পরিচিত বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মদিন আজ (১০ আগস্ট)। তাঁর তুলিতে সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ও জীবনগাথা উঠে এসেছিল এক অনন্য উচ্চতায়। সেই শিল্পকর্মগুলো কোথায়, কেমন আছে এখন?
১ ঘণ্টা আগে
চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি ও স্কাল্পচার পার্ক। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘আর্ট মিউজিয়ামে চক্কর’। আজ প্রকাশিত হলো এর চতুর্থ পর্ব। চোখ রাখুন প্রতি রোববার বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
১ দিন আগে
প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো ঢাকা নগরীও এমন অসংখ্য পরিবর্তনের সাক্ষী। একসময় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নবাব কিংবা সমাজের উচ্চবিত্তরা ঢাকায় আসেন। তাঁদের সঙ্গে আসেন নানা ধরনের কারিগর, শিল্পী ও পেশাজীবীরাও। ফলে কলকাতা ও উত্তর ভারতের অনেক পেশা একসময় ঢাকায় প্রচলিত ছিল। সময়ের আবর্তে সেই পেশাগুলোর অধিকাংশই হারিয়ে
০৯ আগস্ট ২০২৬
আজ রোববার (৯ আগস্ট) ফরহাদ মজহারের ৮০তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালে নোয়াখালীতে তাঁর জন্ম। তিনি ঢাকা ও নিউইয়র্কে ওষুধশাস্ত্র (ফার্মাসি) ও অর্থনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। জন্মদিনকে সামনে রেখে ফরহাদ মজহারের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি ও বিবিধ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ইকতিজা আহসান।
০৯ আগস্ট ২০২৬