leadT1ad

ঢাকায় জ্বলছে না গ্যাসের চুলা, ভিড় রেস্তোরাঁয়

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ৫৭
গ্যাসসংকটে রাজধানীর অনেক অঞ্চলে সারা দিন চুলা জ্বলে না। স্ট্রিম গ্রাফিক

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাসসংকট দেখা দিয়েছে। দৈনিক কয়েক ঘণ্টা গ্যাস পাওয়া যায়। তা-ও সেটা গভীর রাতে। ফলে, বাসাবাড়িতে রান্না ঘিরে বিপাকে পড়েছেন রাজধানীর সাধারণ মানুষ। কিনে খেতে হচ্ছে রেস্তোরাঁ থেকে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্যাস না থাকায় অনেকে রান্না বন্ধ করেছেন। অনেকে এলপিজি সিলিন্ডার বা ইনডাকশন চুলা ব্যবহার করছেন। আবার বাড়তি দামে সিলিন্ডারও কিনতে হচ্ছে।

রাজধানীর মুহাম্মদপুর এলাকায় থাকেন মাজেদা মুজিব। বেশ কিছুদিন ধরেই গ্যাসসংকটে ভুগছেন তিনি। স্ট্রিমকে এই নারী বলেন, ‘ভোর থেকে সারা দিন গ্যাস থাকে না। বিকেলে গ্যাস আসা শুরু করলেও চাপ থাকে খুব কম। এই গ্যাসে শুধু চা বনানো যায়। গ্যাস পাওয়া যায় রাত ১০টার পর। ফলে সারা দিন রান্না করতে পারি না।’

মাজেদা মুজিব আরও বলেন, ‘রান্না করতে হয় রাতে, অথবা ফজরের আগে। সেই রান্না সারা দিন খেতে হয়। বাসার বড়রা সেই রান্না খেতে পারলেও বাচ্চারা সেটা পছন্দ করে না। এ ছাড়া, শীতের মধ্যে গরম পানিও গরম করা যায় না।’

মিরপুর ১১ নম্বরের বাউনিয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা বীথি আক্তার। এক মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাসের চুলায়া রান্না করতে পারছেন না তিনি। ফলে বাধ্য হয়ে মাটির চুলা ব্যবহার করা শুরু করেছেন।

স্ট্রিমকে বীথি বলেন, ‘গ্যাস আসে মাঝরাতে। তখন ঘুমাব নাকি রান্না করব? আবার ভোরে চলে যায়। আমাদের রান্না, খাওয়াদাওয়া একেবারে বন্ধ অবস্থায় আছে। বাধ্য হয়ে এখন মাটির চুলা ব্যবহার করতে হচ্ছে।’

বীথি আরও বলেন, ‘সিলিন্ডার গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। তা-ও মানা যেত, যদি সিলিন্ডার পাওয়া যেত। দোকানে এখন সিলিন্ডারেরও সংকট চলছে।’

কেরানীগঞ্জ থানার খেজুরবাগ এলাকায় থাকেন মো. আমান। তিনিও একই সমস্যায় ভুগছেন। স্ট্রিমকে আমান বলেন, ‘ঢাকা সিটির ভেতরে একটু-আধটু গ্যাস পাওয়া যায় শুনেছি। কিন্তু এখানে একদমই নেই। এই অবস্থায় বাসায় রান্না বন্ধ রয়েছে। বেশির ভাগ সময় রেস্তোরাঁ থেকে কিনে খেতে হচ্ছে।’

এদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ করা গেছে। বিভিন্ন গাড়ির চালক স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, নিয়মিতভাবে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। চাপ কম থাকায় দুই-তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ফলে ডিউটি টাইম বাড়ছে কিন্তু আয় কমছে।

সামাদুল ইসলাম নামে এক সিনএনজিচালিত অটোরিকশাচালক স্ট্রিমকে বলেন, ‘গ্যাস নিতে গেলেই ভয় লাগে। যখনই যাই, গিয়ে দেখি লম্বা সিরিয়াল। এমন সময়ে ভাড়া মারব নাকি গ্যাস নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকব, সেটাই বুঝতে পারি না।’

এসব বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান স্ট্রিমকে বলেন, ‘পেট্রো বাংলাকে আমরা গ্যাসের যে চাহিদার কথা জানিয়েছি, তার থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম পাচ্ছি। এ দিকে পেট্রোবাংলা এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের প্রধান প্রায়োরিটি হলো বিদ্যুৎ, সার ও শিল্পকারখানা। যেহেতু আমার গ্যাস কম আছে আছে, ফলে ওদেরকে আগে গ্যাস দিয়ে যতটুকু বাকি থাকে, সেগুলো আমরা ঢাকায় বা আবাসিক লাইনে দিচ্ছি।’

শীত এলেই গ্যাস সংকট তীব্র হয়ে উঠে কেন প্রশ্ন করলে সাইদুল হাসান বলেন, ‘শীতে এলে গ্যাসের পরিমাণ একটু কম থাকে। কারণ, শীতকালে আমরা বিদ্যুৎকে কম গ্যাস দিই। আমরা এলএনজি আমদানিটাও কমায়ে দিই। এ ছাড়া গরমকালের তুলনায় শীতে লোকাল এবং এলএনজি মিলে গ্যাসের প্রোডাকশনও কম হয়।’

ফিলিং স্টেশনের ব্যাপারে সাইদুল বলেন, ‘ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য আমাদের আলাদা কোনো লাইন নেই। ফিলিং স্টেশনের জন্য আমাদের প্রায়োরিটিও নেই। প্রায়োরিটির পরে যেগুলো থাকবে সেগুলো আমরা সরবরাহ করছি। যদি ফিলিং স্টেশনে লো প্রেশার হয়, আমাদের কিছু করার থাকে না।’

বিষয়:

গ্যাস
Ad 300x250

সম্পর্কিত