জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

জীবননগরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ১

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ১৩: ১৩
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত হাফিজুর রহমানের লাশের পাশে স্বজনও জামায়াতের নেতারা। স্ট্রিম ছবি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে স্থানীয় জামায়াত নেতার ভাই হাফিজুর রহমানের (৫০) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। জামায়াতের ওই নেতার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

জীবননগর পৌর যুব জামায়াতের সভাপতি আরিফ জোয়াদ্দার রাত ২টার দিকে জানান, শনিবার সন্ধ্যায় হাসাদাহের ঘটনায় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের বড় ভাই ও ঢাকা জুয়েলার্সের মালিক হাফিজুর রহমান মারা গেছেন। মফিজুর রহমানের অবস্থাও সংকটাপন্ন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে এলাকায় ফেরেন চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের দুই সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল ও রুহুল আমিন। পরে বিক্ষোভও করে দলটি।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সুটিয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক মো. সোহাগের সঙ্গে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসানের পূর্ব বিরোধ ছিল। বিষয়টি মীমাংসায় রাতে হাসাদাহ বাজারে দু’পক্ষের বসার কথা ছিল। তবে সন্ধ্যার দিকে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির পর সংঘর্ষ শুরু হয়।

এতে জামায়াতের মফিজুর রহমান, তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান, খায়রুল ইসলাম ও হাপু নামে চারজন এবং বিএনপির মেহেদী হাসান, তার বাবা জসিম উদ্দিন ও তৌফিক হোসেন নামে আরেকজন আহত হন।

আহত মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমি বাজার করতে গিয়েছিলাম। ওই সময় আব্বা ফোন করে বলেন, জামায়াতের লোকজন বাড়িতে আক্রমণ করেছে। এসে দেখি আমার আব্বাকে মারধর করা হচ্ছে। ওই সময় সোহাগ এসে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আমার মুখে কোপ দেয়। আমাদের বাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।’

তার বাবা জসিম উদ্দীন বলেন, ‘আমি মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন ইসরাইল হুজুর বেশ কয়েকজনকে নিয়ে “নারায়ে তাকবির” স্লোগান দিয়ে হামলা শুরু করে। পরে সুটিয়া গ্রামের এক ছেলে ও সোহাগ মারধর করে। আমার ছেলে এলে তাকেও মারধর করা হয়। তাদের হাতে রাম দা, হকিস্টিক ও চাইনিজ কুড়াল ছিল।’

হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আখতারুজ্জামান বলেন, ‘জামায়াতের তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দলীয় সিদ্ধান্তের পর মামলা করা হবে।’

এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত