প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর ফলপ্রসূ: মাহদী আমিন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। সোমবার সফর সমাপ্তির আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই সফর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্তের সূচনা।

তিনি বলেন, মাত্র ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ সফরে যে আলোচনা, সমঝোতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তা আগামী দিনে দুই দেশের জন্য বহুমাত্রিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

মাহদী আমিন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম এই বিদেশ সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সুসংহত হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেছেন। প্রচলিত ধারার বিপরীতে তিনি খুব ছোট একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি আজ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি পৃথক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

মাহদী আমিন জানান, অফিশিয়াল ডেলিগেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন ২৩ জন। যার মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার ১০ জন। তা ছাড়া অতি অত্যাবশ্যকীয় কিছু সাপোর্ট স্টাফ, যেমন সিকিউরিটি, প্রটোকল ও মিডিয়াসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কয়েকজন এসেছেন।

তিনি বলেন, স্বল্পসময়ের এই সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। প্রথমে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ‍্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খোলামেলা আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। পরবর্তীতে ডেলিগেশন পর্যায়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

মাহদী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন তারেক রহমান।

মোট ৯টি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ‍্যে দুই দেশের সম্মতিতে ৩৩ টি পয়েন্টে একটি যৌথ বিবৃতি ইস‍্যু করা হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।

মাহদী আমিন বলেন, দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসা খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে দুই দেশ একসাথে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। হালাল শিল্প ও ব্যবসা খাতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে হালাল পণ্য, সনদ প্রদান ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।

আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে, বিশেষ করে প্রযুক্তি পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, দুই দেশের সরকারপ্রধান শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণে একমত পোষণ করেন। একই সঙ্গে কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় সরকারপ্রধান।

এছাড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার, সামরিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় দেশ একমত হন। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কীভাবে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একমত হয়েছে। বিশেষ করে এলএনজি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কীভাবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনকভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা যায় এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মালয়েশিয়া কীভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা। এছাড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সন্ত্রাস দমনে দুইটি ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ বিনিময় করা হয়েছে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার পাঁচটি বৃহৎ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পার্ডুয়া এবং এমএমসি পোর্ট।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

Ad 300x250

সম্পর্কিত