সীতাকুণ্ড দুর্ঘটনা /জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাপার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

সীতাকুণ্ডের একটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ড। ছবি: সংগৃহীত

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় ৯ শ্রমিকের প্রাণহানির পর এই শিল্পে কর্মরতদের ও পরিবেশের সুরক্ষা বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

রোববার (১৬ আগস্ট) এক লিখিত বিবৃতিতে বাপা জানিয়েছে, জাহাজভাঙা শিল্পে অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ দূষণ ও শ্রমিকদের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সংগঠনটি আগে থেকেই সতর্ক করে আসছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে হংকং কনভেনশনে অনুমোদন দিয়েছে। সুতরাং এটি কার্যকরের রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা রয়েছে। অথচ মাঠপর্যায়ে সাধারণ ইয়ার্ডগুলোয় পরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তা মানদণ্ডের চরম লঙ্ঘন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশে আধুনিক ও গ্রিন ইয়ার্ডের (পরিবেশবান্ধব) সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে বেশিরভাগ ইয়ার্ডে এখনো সনাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে জাহাজ কাটার কাজ চলছে। এতে করে উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তুসংস্থান ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

বাপার মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ না করায় পরিবেশগত বিপর্যয় ও দূষণ ক্রমাগত বাড়ছে। উপকূলীয় পরিবেশ ও মাটি দূষিত হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, হুমকিতে পড়ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

ইয়ার্ডগুলোতে হাজার হাজার শ্রমিক উপযুক্ত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) ছাড়াই কাজ করে বিষাক্ত গ্যাস ও অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শে আসছেন উল্লেখ করে বাপা বলেছে, এর কারণে শ্রমিকরা ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া সুরক্ষিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, ইয়ার্ডে আগুন ও ভারী লোহার পাতের নিচে চাপা পড়ার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি স্থায়ী অঙ্গহানিও হয় অনেক শ্রমিকের।

বাপা জানিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে গত ১৩ বছরে চট্টগ্রামের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোয় ১৬১ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সংগঠনটির মতে, এগুলোকে নিছক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিলে ভুল হবে। এগুলো দুর্ঘটনা নয়, বরং অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড।

এর আগে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় লিকেজ থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিষক্রিয়ায় ৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

বাপা ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে। একসঙ্গে জড়িতদের শাস্তি, নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাপার