বুলবুল সিদ্দিকী
-2d6530.jpeg)
কীভাবে একাডেমিক প্রবন্ধ লিখতে হয়, অন্যের লেখার উদ্ধৃতি বা সাইটেশন কীভাবে দিতে হয় কিংবা রেফারেন্স সাজানোর নিয়ম কী—বিষয়গুলো নিয়ে শ্রেণিকক্ষে আমাদের শিক্ষকদের খুব একটা নির্দেশনা দিতে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। এ বিষয়ে যতটা শিখেছি তার সবটাই শেষ বর্ষে গিয়ে ডিসার্টেশন বা গবেষণা করতে গিয়ে। সেটাও ছিল অপ্রতুল। নিজের সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই বর্তমানে আমি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।
তবে বর্তমানে আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কি না, তা আমার জানা নেই।
ঘাটতিটি যে কত প্রকট ছিল, তা বুঝতে পারি আরও পরে—যখন উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। সেখানে আমার প্রথম লিখিত অ্যাসাইনমেন্ট দেখে শিক্ষক এবং সেই প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক জুলিয়া ও’কনেল ডেভিডসন আমাকে তাঁর অফিসে ডেকে নিয়ে বলেছিলেন—"তুমি যদি এভাবে লিখতে থাকো, তবে পাস করতে পারবে না।" কথাটা শুনে আমার মাথায় যেন বাজ পড়ে। দিনটির কথা এখনো আমার স্পষ্ট মনে আছে। শিক্ষকের কক্ষ থেকে বেরিয়ে সারাটা দিন রাজ্যের হতাশা আর অস্থিরতা নিয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো শহরজুড়ে হেঁটে বেড়িয়েছিলাম; গভীর রাতে ফিরেছিলাম বাসায়।
তবে এই চরম হতাশার মাঝেও আশার বিষয় ছিল। কয়েকদিন পর তিনি নিজেই আমাকে তাঁর কক্ষে ডেকে নেন এবং পাশে বসিয়ে হাতে-কলমে শেখাতে শুরু করেন—কীভাবে লিখতে হয় এবং সাইটেশন কীভাবে ব্যবহার করতে হয়। আমার লেখার মান উন্নত করতে এবং সাইটেশনের নিয়মকানুন শেখাতে তিনি বেশ কিছুদিন আমাকে এভাবে সময় দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আমার পিএইচডির শিক্ষক অধ্যাপক জেফ্রি স্যামুয়েলও কীভাবে আরো ভাল লিখতে হয়—সে বিষয়ে বিস্তর দিক নির্দেশনা দেন।
শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শেখানোর এ ধরনের প্রক্রিয়া বোধ হয় আমাদের দেশে খুব কমই দেখতে পাওয়া যায়। এরকম চর্চা না থাকার ফলে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্লেজিয়ারিজম সম্পর্কে খুব একটা ধারণা শিক্ষার্থী অবস্থায় গড়ে ওঠে না। এর ফলে আমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় মোটা দাগে দুটি সমস্যা দেখতে পাই। একটি হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে কীভাবে একাডেমিক লেখা লিখতে হয় তা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা তৈরি হয় না; অন্যটি হলো প্লেজিয়ারিজম সম্পর্কেও তাঁদের বলতে গেলে কোনো ধারণাই গড়ে ওঠে না।
অন্যের লেখার যথাযথ স্বীকৃতি না দিয়ে ব্যবহার করা বা নিজেরই একই লেখা বা গবেষণার তথ্য একাধিক লেখায় ব্যবহার করার প্রবণতাকেই মোটা দাগে প্লেজিয়ারিজম বলা হয়। এটি একাডেমিক সততা ও নৈতিক মানদণ্ডের গুরুতর লঙ্ঘন। ফলে তরুণ শিক্ষক যারা এমন প্রশিক্ষণ নিয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন তাঁদের অনেকের মধ্যেই এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়।
কিন্তু আশঙ্কাজনক বিষয় হলো বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্লেজিয়ারিজমের ফাঁদে জড়িয়ে পড়া এবং প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ বিষয়ে উদাসীন থাকা। যা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও একটি দীর্ঘ অব্যবস্থাপনার কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে বিদেশের তথাকথিত বড় ডিগ্রি নিয়েও যখন অনেকের মধ্যে একাডেমিক লেখায় চৌর্যবৃত্তি পরিলক্ষিত হয় তখন সেটা আরো লজ্জাজনক হয়ে ওঠে। এর জন্যেই হয়তো বৈশ্বিক পরিসরে আমাদের মতো দেশের শিক্ষক ও গবেষকদের প্রকাশনার প্রতি এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা বিদ্যমান। তাদের মধ্যে সেই ঔপনিবেশিক মনস্তত্ব দৃশ্যমান যেখানে তারা ধরেই নেয় যে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে তাঁদেরই ভূমিকা পালন করতে হবে।
আর তাই লেখার মান উন্নয়ন এবং সেই সঙ্গে সততা ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ একাডেমির মতো পশ্চিমা প্ল্যাটফর্মগুলো গ্লোবাল সাউথের শিক্ষাবিদদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের অনুদান দিয়ে থাকে। এ ধরনের অনুদানের অন্যতম লক্ষ্য থাকে লেখা ও প্রকাশনার খুটিনাটি বিষয় বিশদভাবে জানা ও শেখার চেষ্টা করা। এখানে আমাদের বিশেষ করে নজর রাখতে হয় যে, লেখালেখি কেবলমাত্র একটি ক্রিয়েটিভ বিষয় নয় বরং লেখায় চৌর্যবৃত্তির বিষয়গুলোও কীভাবে এড়িয়ে চলতে হয় সে বিষয়েও আমাদের বিশদ ও যথাযথ জ্ঞান থাকা জরুরি, যেখানে আমাদের যে দুর্বলতা দৃশ্যমান।
বাংলাদেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক পিএইচডি থিসিস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে অনেক থিসিসে সাইটেশন ও লিটারেচার এর ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানের ধারে কাছেও নেই। এর ভিড়ে ভালো কাজও যে একেবারে হচ্ছে না তা নয়, তবে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। এসবের গুণগত মান নিশ্চিত করার কোনো সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা আমাদের এখানে দেখা যায় না।
এর সাথে রয়েছে লেখালিখির বৈশ্বিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রভাব। বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি নেক্সাস গড়ে উঠেছে যেখানে শিক্ষক, গবেষক ও মুদ্রণ পুঁজিবাদী একটি ব্যবস্থায় যুক্ত। যার চাপ বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেমন দেখি তেমনি আমাদের মত দুর্বল ব্যবস্থাতেও দেখি। ফলে সেটি আমাদের দেশেও এখন শিক্ষকদের মধ্যে লেখালিখির একটি উদ্যম তৈরি করতে পেরেছে। তাই আমরাও মনে করি যে নিজের জ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে হলে বা শিক্ষাবিদ হিসেবে নিজেকে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ করতে হলে লিখতে হবে। এ কারণেই বিদ্যায়তনিক জগতে একটি বিখ্যাত কথা প্রচলিত সেটি হলো, ‘পাবলিশ অর পেরিশ‘ অর্থাৎ ‘লিখ না হয় হারিয়ে যাও‘। তাই লেখালেখির প্রশ্নে কীভাবে আমরা বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছুতে পারি তার একটি প্রতিযোগিতাও আমাদের দেশের অনেক শিক্ষক ও গবেষকের মধ্যে রয়েছে। তবে এই কাজটিকে দুর থেকে দেখতে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা সহজ নয়।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, আমাদের দেশের অনেক শিক্ষাবিদ আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্বীকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করতে সংগ্রাম করেন। যদিও অনেকেই পশ্চিমা মডেলের লেখালেখি এবং বৈশ্বিক ও শীর্ষস্থানীয় জার্নালের ধারণায় বিশ্বাস করেন না বলে তারা লিখেন না কিন্তু সেই যুক্তি বর্তমান বাস্তবতায় খুব একটা খাটে না। কেউ কেউ এই নতুন ধরনের ‘রাইটিং ক্যাপিটালিজম’ এর বিস্তর সমালোচনাও করে থাকেন। তবে পশ্চিমা উচ্চশিক্ষার পুরোটাই এমন একটি পুঁজিবাদী মডেলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে শিক্ষক ও গবেষকদের লেখালেখি ও প্রকাশনার এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধ্য করছে। অনেক শিক্ষাবিদ এটিকে এক ধরনের ‘র্যাট রেস’ হিসেবে দেখেন, যা বিদ্যায়তনিক জগতের জন্য খুব ভালো নয় বলে তারা জোর দিচ্ছেন।
তবে এমন সকল সমালোচনা সত্ত্বেও বৈশ্বিক ও শীর্ষস্থানীয় জার্নালে প্রকাশনার এই ধারা এখন একটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দায়িত্বশীলতা, সততা এবং নৈতিকভাবে লেখার বিষয়টিও। ফলে লেখাকে ঘিরে প্লেজিয়ারিজম এর সেই পুরোনো চ্যালেঞ্জটি এখনো রয়ে গেছে, যা আমাদের দেশের জন্যেও প্রযোজ্য।
সাম্প্রতিক সময়ে একটি বহুল প্রচারিত বাংলা সংবাদপত্রে একটি খবর প্রকাশিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষাবিদ তাঁদের লেখায় প্লেজিয়ারিজম এর আশ্রয় নিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জার্নালগুলো সেই লেখাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়।
এমন পরিস্থিতে লেখকের সততা ও নৈতিকতার পাশাপাশি প্রকাশনা-শিল্পের ভূমিকা নিয়েও কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। এর একটি হলো, যখন আমরা শীর্ষস্থানীয় জার্নালে প্রকাশনার ‘র্যাট রেস’-এর মধ্যে আছি, তখন এসব জার্নালের কর্তৃপক্ষও কি তাড়াহুড়ো করে না? যার ফলে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে গিয়ে প্লেজিয়ারিজম শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তারাও কি দায় এড়াতে পারে? যে কারণে প্লেজিয়ারাইজড লেখাও তাঁরা ছাপিয়ে দিচ্ছে। এটি বৈশ্বিক প্রকাশনা-শিল্পের একটি বড় সীমাবদ্ধতা যা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কি শুধু শীর্ষস্থানীয় জার্নালে প্রকাশনার বিষয়, নাকি এর সঙ্গে শিক্ষাবিদদের আর্থিক সম্পৃক্ততারও কোনো সম্পর্ক রয়েছে? এই প্রসঙ্গে কিছু উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। আমি নিজেও কখনো কখনো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কিছু শিক্ষাবিদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক লেখার প্রস্তাব পাই। তার সঙ্গে লিখলে সেই ব্যক্তি দুটি প্রণোদনার কথা বলেন—একটি হলো সহজে প্রকাশনার সুযোগ এবং অন্যটি আর্থিক প্রণোদনা। কারো যদি ভালো প্রকাশনার রেকর্ড থাকে এবং তিনি কাউকে একটি ভালো জার্নালে প্রকাশ করতে সহায়তা করেন। অর্থের বিনিময়ে অনেক সময় একজন ভাল গবেষককে দিয়ে যৌথভাবে প্রকাশনার চর্চা দেখা যায়। এমন প্রেক্ষাপটে যদি সেই অভিজ্ঞ গবেষক কেবলমাত্র অর্থের জন্য যদি সঠিকভাবে তথ্য উপাত্ত কিংবা অন্যের লেখার স্বীকৃতি দেবার বিষয়টি সঠিকভাবে না নিরীক্ষা করে তাহলে সেখানে প্লেজিয়ারিজম হতে পারে।
ফলে আমরা দেখি যে বৈশ্বিক প্রকাশনা-জগতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও কখনো কখনো এমন লেখা প্রকাশ করে, যা সব সময় বিদ্যায়তনিক উৎকর্ষের মানদণ্ড পূরণ করে না বরং তথাকথিত অভিজ্ঞ গবেষকের সঙ্গে একটি জার্নালের সম্পাদকের ভাল সম্পর্কও একটি লেখা প্রকাশ করতে প্রভাবিত করতে পারে, যা লেখার নৈতিকতা ভঙ্গের সাথে যুক্ত। তবে এমন কিছু ঘটনা ঘটলেও এটিকে বিদ্যায়তনিক জগতের আদর্শ উদাহরণ বলা যায় না।
এমন নানাবিধ কারণে আমাদের উচ্চশিক্ষায় প্লেজিয়ারিজম বা চৌর্যবৃত্তি এক ধরনের নিয়মিত যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমাদের দেশে এর যথাযথ ব্যবস্থাপনা আমরা খুব কমই দেখেছি। পশ্চিমা দেশে কেউ যদি এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, তাহলে তাঁকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিক্ষকতা পেশায় তার নিয়োগ পাওয়া বলতে গেলে অসম্ভবই হয়ে পড়ে।
যখন আমাদের সমাজে এমন ব্যবস্থাপনার চর্চার অভাব রয়েছে তখন আমাদের ব্যক্তিক নৈতিকতার উপরই ভিত্তি করে চলতে হয়। কিন্তু ব্যক্তি নৈতিকতারও নানা সীমাবদ্ধতা আমরা দেখি। যেমন কোন কোন শিক্ষাবিদ সমালোচনামূলকভাবে যুক্তি দেন যে, যখন আমাদের সামাজিক পরিসরে সততা ও নৈতিক আচরণ অনুপস্থিত, তখন আমরা কীভাবে শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে এমন নৈতিক আচরণ আশা করব? আমি বুঝতে পারি, এ ধরনের বক্তব্য হতাশা থেকেই আসে। কারণ আমাদের দেশে একটি নৈতিক বিদ্যায়তনিক পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছি।
তাই বলে আমরা এই বিষয়টিকে এড়িয়েও যেতে পারি না। শিক্ষা ব্যবস্থার এসব বিষয় নিয়ে এখনই আমাদের সোচ্চার হতে হবে। তা না হলে উচ্চ শিক্ষার উন্নয়ন বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।
-2d6530.jpeg)
কীভাবে একাডেমিক প্রবন্ধ লিখতে হয়, অন্যের লেখার উদ্ধৃতি বা সাইটেশন কীভাবে দিতে হয় কিংবা রেফারেন্স সাজানোর নিয়ম কী—বিষয়গুলো নিয়ে শ্রেণিকক্ষে আমাদের শিক্ষকদের খুব একটা নির্দেশনা দিতে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। এ বিষয়ে যতটা শিখেছি তার সবটাই শেষ বর্ষে গিয়ে ডিসার্টেশন বা গবেষণা করতে গিয়ে। সেটাও ছিল অপ্রতুল। নিজের সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই বর্তমানে আমি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।
তবে বর্তমানে আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কি না, তা আমার জানা নেই।
ঘাটতিটি যে কত প্রকট ছিল, তা বুঝতে পারি আরও পরে—যখন উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। সেখানে আমার প্রথম লিখিত অ্যাসাইনমেন্ট দেখে শিক্ষক এবং সেই প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক জুলিয়া ও’কনেল ডেভিডসন আমাকে তাঁর অফিসে ডেকে নিয়ে বলেছিলেন—"তুমি যদি এভাবে লিখতে থাকো, তবে পাস করতে পারবে না।" কথাটা শুনে আমার মাথায় যেন বাজ পড়ে। দিনটির কথা এখনো আমার স্পষ্ট মনে আছে। শিক্ষকের কক্ষ থেকে বেরিয়ে সারাটা দিন রাজ্যের হতাশা আর অস্থিরতা নিয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো শহরজুড়ে হেঁটে বেড়িয়েছিলাম; গভীর রাতে ফিরেছিলাম বাসায়।
তবে এই চরম হতাশার মাঝেও আশার বিষয় ছিল। কয়েকদিন পর তিনি নিজেই আমাকে তাঁর কক্ষে ডেকে নেন এবং পাশে বসিয়ে হাতে-কলমে শেখাতে শুরু করেন—কীভাবে লিখতে হয় এবং সাইটেশন কীভাবে ব্যবহার করতে হয়। আমার লেখার মান উন্নত করতে এবং সাইটেশনের নিয়মকানুন শেখাতে তিনি বেশ কিছুদিন আমাকে এভাবে সময় দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আমার পিএইচডির শিক্ষক অধ্যাপক জেফ্রি স্যামুয়েলও কীভাবে আরো ভাল লিখতে হয়—সে বিষয়ে বিস্তর দিক নির্দেশনা দেন।
শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শেখানোর এ ধরনের প্রক্রিয়া বোধ হয় আমাদের দেশে খুব কমই দেখতে পাওয়া যায়। এরকম চর্চা না থাকার ফলে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্লেজিয়ারিজম সম্পর্কে খুব একটা ধারণা শিক্ষার্থী অবস্থায় গড়ে ওঠে না। এর ফলে আমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় মোটা দাগে দুটি সমস্যা দেখতে পাই। একটি হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে কীভাবে একাডেমিক লেখা লিখতে হয় তা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা তৈরি হয় না; অন্যটি হলো প্লেজিয়ারিজম সম্পর্কেও তাঁদের বলতে গেলে কোনো ধারণাই গড়ে ওঠে না।
অন্যের লেখার যথাযথ স্বীকৃতি না দিয়ে ব্যবহার করা বা নিজেরই একই লেখা বা গবেষণার তথ্য একাধিক লেখায় ব্যবহার করার প্রবণতাকেই মোটা দাগে প্লেজিয়ারিজম বলা হয়। এটি একাডেমিক সততা ও নৈতিক মানদণ্ডের গুরুতর লঙ্ঘন। ফলে তরুণ শিক্ষক যারা এমন প্রশিক্ষণ নিয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন তাঁদের অনেকের মধ্যেই এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়।
কিন্তু আশঙ্কাজনক বিষয় হলো বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্লেজিয়ারিজমের ফাঁদে জড়িয়ে পড়া এবং প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপ বিষয়ে উদাসীন থাকা। যা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও একটি দীর্ঘ অব্যবস্থাপনার কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে বিদেশের তথাকথিত বড় ডিগ্রি নিয়েও যখন অনেকের মধ্যে একাডেমিক লেখায় চৌর্যবৃত্তি পরিলক্ষিত হয় তখন সেটা আরো লজ্জাজনক হয়ে ওঠে। এর জন্যেই হয়তো বৈশ্বিক পরিসরে আমাদের মতো দেশের শিক্ষক ও গবেষকদের প্রকাশনার প্রতি এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা বিদ্যমান। তাদের মধ্যে সেই ঔপনিবেশিক মনস্তত্ব দৃশ্যমান যেখানে তারা ধরেই নেয় যে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে তাঁদেরই ভূমিকা পালন করতে হবে।
আর তাই লেখার মান উন্নয়ন এবং সেই সঙ্গে সততা ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ একাডেমির মতো পশ্চিমা প্ল্যাটফর্মগুলো গ্লোবাল সাউথের শিক্ষাবিদদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের অনুদান দিয়ে থাকে। এ ধরনের অনুদানের অন্যতম লক্ষ্য থাকে লেখা ও প্রকাশনার খুটিনাটি বিষয় বিশদভাবে জানা ও শেখার চেষ্টা করা। এখানে আমাদের বিশেষ করে নজর রাখতে হয় যে, লেখালেখি কেবলমাত্র একটি ক্রিয়েটিভ বিষয় নয় বরং লেখায় চৌর্যবৃত্তির বিষয়গুলোও কীভাবে এড়িয়ে চলতে হয় সে বিষয়েও আমাদের বিশদ ও যথাযথ জ্ঞান থাকা জরুরি, যেখানে আমাদের যে দুর্বলতা দৃশ্যমান।
বাংলাদেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক পিএইচডি থিসিস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে অনেক থিসিসে সাইটেশন ও লিটারেচার এর ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানের ধারে কাছেও নেই। এর ভিড়ে ভালো কাজও যে একেবারে হচ্ছে না তা নয়, তবে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। এসবের গুণগত মান নিশ্চিত করার কোনো সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা আমাদের এখানে দেখা যায় না।
এর সাথে রয়েছে লেখালিখির বৈশ্বিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রভাব। বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি নেক্সাস গড়ে উঠেছে যেখানে শিক্ষক, গবেষক ও মুদ্রণ পুঁজিবাদী একটি ব্যবস্থায় যুক্ত। যার চাপ বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেমন দেখি তেমনি আমাদের মত দুর্বল ব্যবস্থাতেও দেখি। ফলে সেটি আমাদের দেশেও এখন শিক্ষকদের মধ্যে লেখালিখির একটি উদ্যম তৈরি করতে পেরেছে। তাই আমরাও মনে করি যে নিজের জ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে হলে বা শিক্ষাবিদ হিসেবে নিজেকে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ করতে হলে লিখতে হবে। এ কারণেই বিদ্যায়তনিক জগতে একটি বিখ্যাত কথা প্রচলিত সেটি হলো, ‘পাবলিশ অর পেরিশ‘ অর্থাৎ ‘লিখ না হয় হারিয়ে যাও‘। তাই লেখালেখির প্রশ্নে কীভাবে আমরা বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছুতে পারি তার একটি প্রতিযোগিতাও আমাদের দেশের অনেক শিক্ষক ও গবেষকের মধ্যে রয়েছে। তবে এই কাজটিকে দুর থেকে দেখতে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা সহজ নয়।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, আমাদের দেশের অনেক শিক্ষাবিদ আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্বীকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করতে সংগ্রাম করেন। যদিও অনেকেই পশ্চিমা মডেলের লেখালেখি এবং বৈশ্বিক ও শীর্ষস্থানীয় জার্নালের ধারণায় বিশ্বাস করেন না বলে তারা লিখেন না কিন্তু সেই যুক্তি বর্তমান বাস্তবতায় খুব একটা খাটে না। কেউ কেউ এই নতুন ধরনের ‘রাইটিং ক্যাপিটালিজম’ এর বিস্তর সমালোচনাও করে থাকেন। তবে পশ্চিমা উচ্চশিক্ষার পুরোটাই এমন একটি পুঁজিবাদী মডেলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে শিক্ষক ও গবেষকদের লেখালেখি ও প্রকাশনার এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধ্য করছে। অনেক শিক্ষাবিদ এটিকে এক ধরনের ‘র্যাট রেস’ হিসেবে দেখেন, যা বিদ্যায়তনিক জগতের জন্য খুব ভালো নয় বলে তারা জোর দিচ্ছেন।
তবে এমন সকল সমালোচনা সত্ত্বেও বৈশ্বিক ও শীর্ষস্থানীয় জার্নালে প্রকাশনার এই ধারা এখন একটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দায়িত্বশীলতা, সততা এবং নৈতিকভাবে লেখার বিষয়টিও। ফলে লেখাকে ঘিরে প্লেজিয়ারিজম এর সেই পুরোনো চ্যালেঞ্জটি এখনো রয়ে গেছে, যা আমাদের দেশের জন্যেও প্রযোজ্য।
সাম্প্রতিক সময়ে একটি বহুল প্রচারিত বাংলা সংবাদপত্রে একটি খবর প্রকাশিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষাবিদ তাঁদের লেখায় প্লেজিয়ারিজম এর আশ্রয় নিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জার্নালগুলো সেই লেখাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়।
এমন পরিস্থিতে লেখকের সততা ও নৈতিকতার পাশাপাশি প্রকাশনা-শিল্পের ভূমিকা নিয়েও কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। এর একটি হলো, যখন আমরা শীর্ষস্থানীয় জার্নালে প্রকাশনার ‘র্যাট রেস’-এর মধ্যে আছি, তখন এসব জার্নালের কর্তৃপক্ষও কি তাড়াহুড়ো করে না? যার ফলে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে গিয়ে প্লেজিয়ারিজম শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তারাও কি দায় এড়াতে পারে? যে কারণে প্লেজিয়ারাইজড লেখাও তাঁরা ছাপিয়ে দিচ্ছে। এটি বৈশ্বিক প্রকাশনা-শিল্পের একটি বড় সীমাবদ্ধতা যা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কি শুধু শীর্ষস্থানীয় জার্নালে প্রকাশনার বিষয়, নাকি এর সঙ্গে শিক্ষাবিদদের আর্থিক সম্পৃক্ততারও কোনো সম্পর্ক রয়েছে? এই প্রসঙ্গে কিছু উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। আমি নিজেও কখনো কখনো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কিছু শিক্ষাবিদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক লেখার প্রস্তাব পাই। তার সঙ্গে লিখলে সেই ব্যক্তি দুটি প্রণোদনার কথা বলেন—একটি হলো সহজে প্রকাশনার সুযোগ এবং অন্যটি আর্থিক প্রণোদনা। কারো যদি ভালো প্রকাশনার রেকর্ড থাকে এবং তিনি কাউকে একটি ভালো জার্নালে প্রকাশ করতে সহায়তা করেন। অর্থের বিনিময়ে অনেক সময় একজন ভাল গবেষককে দিয়ে যৌথভাবে প্রকাশনার চর্চা দেখা যায়। এমন প্রেক্ষাপটে যদি সেই অভিজ্ঞ গবেষক কেবলমাত্র অর্থের জন্য যদি সঠিকভাবে তথ্য উপাত্ত কিংবা অন্যের লেখার স্বীকৃতি দেবার বিষয়টি সঠিকভাবে না নিরীক্ষা করে তাহলে সেখানে প্লেজিয়ারিজম হতে পারে।
ফলে আমরা দেখি যে বৈশ্বিক প্রকাশনা-জগতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও কখনো কখনো এমন লেখা প্রকাশ করে, যা সব সময় বিদ্যায়তনিক উৎকর্ষের মানদণ্ড পূরণ করে না বরং তথাকথিত অভিজ্ঞ গবেষকের সঙ্গে একটি জার্নালের সম্পাদকের ভাল সম্পর্কও একটি লেখা প্রকাশ করতে প্রভাবিত করতে পারে, যা লেখার নৈতিকতা ভঙ্গের সাথে যুক্ত। তবে এমন কিছু ঘটনা ঘটলেও এটিকে বিদ্যায়তনিক জগতের আদর্শ উদাহরণ বলা যায় না।
এমন নানাবিধ কারণে আমাদের উচ্চশিক্ষায় প্লেজিয়ারিজম বা চৌর্যবৃত্তি এক ধরনের নিয়মিত যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমাদের দেশে এর যথাযথ ব্যবস্থাপনা আমরা খুব কমই দেখেছি। পশ্চিমা দেশে কেউ যদি এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, তাহলে তাঁকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিক্ষকতা পেশায় তার নিয়োগ পাওয়া বলতে গেলে অসম্ভবই হয়ে পড়ে।
যখন আমাদের সমাজে এমন ব্যবস্থাপনার চর্চার অভাব রয়েছে তখন আমাদের ব্যক্তিক নৈতিকতার উপরই ভিত্তি করে চলতে হয়। কিন্তু ব্যক্তি নৈতিকতারও নানা সীমাবদ্ধতা আমরা দেখি। যেমন কোন কোন শিক্ষাবিদ সমালোচনামূলকভাবে যুক্তি দেন যে, যখন আমাদের সামাজিক পরিসরে সততা ও নৈতিক আচরণ অনুপস্থিত, তখন আমরা কীভাবে শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে এমন নৈতিক আচরণ আশা করব? আমি বুঝতে পারি, এ ধরনের বক্তব্য হতাশা থেকেই আসে। কারণ আমাদের দেশে একটি নৈতিক বিদ্যায়তনিক পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছি।
তাই বলে আমরা এই বিষয়টিকে এড়িয়েও যেতে পারি না। শিক্ষা ব্যবস্থার এসব বিষয় নিয়ে এখনই আমাদের সোচ্চার হতে হবে। তা না হলে উচ্চ শিক্ষার উন্নয়ন বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।
.png)
-29ae21.png)
ছররা বন্দুক। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে থাকা ‘কম প্রাণঘাতী’ অস্ত্র। অথচ সেই অস্ত্রের একেকটি ছররা কেড়ে নিয়েছে মানুষের চোখ, পড়াশোনা, কাজ, স্বাভাবিক জীবন। কাশ্মীরে ২০১৬ সালে আন্দোলনের সময় কয়েক মাসের মধ্যে শত শত মানুষ চোখে ছররার আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কারও চোখের দৃষ্টি আর ফেরেনি, কারও
৩ ঘণ্টা আগে
সরকারের সামনে যে বাংলাদেশ, তা জিয়াউর রহমানের সময়ের বাংলাদেশ নয়, খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময়ের বাংলাদেশও নয়। আজকের বাংলাদেশ জনসংখ্যা, অর্থনীতি, শিল্প, নগরায়ণ, প্রযুক্তি, রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের দিক থেকে অনেক বড়। একই সঙ্গে সংকটও বহুমাত্রিক।
৬ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণবিক্ষোভ, বিপ্লব, সামরিক অভ্যুত্থান, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক বিদ্রোহের মুখে বহু শাসক ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। কেউ বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন, কেউ আবার রাজনৈতিকভাবে পুনরুত্থান ঘটিয়েছেন। কিন্তু একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে গণআন্দোলনে পতন, দেশত্যাগ, বিদেশে অবস্থান
১৫ আগস্ট ২০২৬
একজন নেতার মৃত্যু একটি দলের জন্য শোকের ঘটনা। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক পরীক্ষাও। নেতা চলে যাওয়ার পর দলটি কী করে, সেটিই প্রমাণ করে সেই নেতার উত্তরাধিকার কতটা গভীর ছিল। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপিও এমন এক পরীক্ষার সামনে। জন্মদিনে দলটি তাঁকে স্মরণ করবে। শ্রদ্ধা জানাবে।