নিয়াজ আহমেদ অংশু
-0f0520.jpeg)
গীতিকারের সঙ্গে সুরকারের একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বছরের পর বছর গান তৈরির সেই অভিন্ন যাত্রায়, সৃষ্টির খোঁজে, সময়ের পরিভ্রমণে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়। সেই যাত্রাপথে সবকিছু সাফল্যের মোড়কে আসে না।
আমার কাছে তাই আইয়ুব বাচ্চুর প্রস্থান শুধু একজন রক লিজেন্ড কিংবা বাংলাদেশের রকের মহানায়কের প্রস্থান নয়। এটি যেন হৃদ্পিণ্ডের একটি টুকরো চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার মতো। তাই তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে কথা হারিয়ে ফেলি। ঠিকমতো গুছিয়ে বলতে পারি না।
যাই হোক, লেখায় ফিরে আসি।
আমার চোখে মিউজিশিয়ান মানেই তাঁর স্বতন্ত্র সাউন্ড থাকবে, গানের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য থাকবে। কারণ অনেক মিউজিশিয়ান, অনেক সুরকার শুধু গান রেখে যান। কিন্তু হাতে গোনা কয়েকজন রেখে যান তাঁদের স্বতন্ত্র সাউন্ড। যে সাউন্ড পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে, তাঁদের রেখে যাওয়া মিউজিক স্টাইল আপন উজ্জ্বলতায় প্রভাবিত করে বছরের পর বছর, দশকের পর দশক। অনস্বীকার্যভাবেই বাংলাদেশের মিউজিকে আইয়ুব বাচ্চু সেই স্বতন্ত্র ধারার গুটিকয়েক সৃষ্টিশীল মানুষের একজন।
এই কিংবদন্তির জন্মদিনে তাঁকে নিয়ে কথা বলা আসলে খুব সহজ। সেই গিটার জাদুকর, গায়ক, সুরকার, সফল মিউজিশিয়ান এবং অবিসংবদিত রক আইকন কিংবা বাংলাদেশের রক মিউজিকের ইতিহাসের অন্যতম ইনফ্লুয়েনশিয়াল ব্যক্তিত্ব। তবে একজন গীতিকার হিসেবে খুব কাছ থেকে তাঁকে দেখার কারণেই কিনা জানি না, আমার মনে হয়, তাঁকে স্মরণ করার সবচেয়ে সুন্দর পথ আসলে খুবই সাধারণ, সরল-সোজা। সেটি হচ্ছে, তাঁর সৃষ্টির কাছে, তাঁর গানগুলোর কাছে ফিরে যাওয়া।
আমার কাছে আইয়ুব বাচ্চুর সবচেয়ে বড় লিগ্যাসি তাঁর ফেলে রেখে যাওয়া কনসার্টের আলো-আঁধারির মঞ্চ, রাষ্ট্রায় স্বীকৃতি কিংবা হৃদয়কাড়া গিটার সোলো নয়। তাঁর সবচেয়ে বড় লিগ্যাসি, তাঁর রেখে যাওয়া সুর আর গান। তাঁর সৃষ্টিশীলতা কালোত্তীর্ণ বলেই রেখে যাওয়া সুর ও গান নিঃশব্দে মানুষের জীবনের আনাচে-কানাচে এখনো পথ খুঁজে নিচ্ছে—‘আমি গানে গানে আসবো ফিরে, কানে কানে দোলাবো হৃদয় তোমার সময় অসময়ে।’
রক মানে চিরন্তন, অমীমাংসিত এক অস্থিরতা। প্রেম, বিষাদ, একাকীত্ব, বিদ্রোহ, বন্ধুত্ব, হারানোর ব্যাকুলতা আর মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অদ্ভুত দীর্ঘশ্বাস। তাই বলে রক মিউজিক মানেই কিন্তু উচ্চ স্বরের চড়া নোটের গিটার, ডিস্টরশন কিংবা গিটারের বাহাদুরি দেখানোর মহড়া নয়।
রক মিউজিকের এই ধ্রুব সত্য আইয়ুব বাচ্চু খুব ভালো বুঝতেন। এ কারণেই যে মানুষের হাত দিয়ে ‘মাধবী’ কিংবা ‘জারজ সন্তান’-এর মতো হেভি রক নাম্বার এসেছে, সেই তাঁর হাত দিয়েই এসেছে ‘হাসতে দেখো’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘ফেরারি মন’, ‘ঘুমন্ত শহরে’র মতো গান। আর এই তালিকা অনেক দীর্ঘ।
গান তৈরিতে কথার কাটাছেঁড়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। আইয়ুব বাচ্চুও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তবে যুক্তাক্ষরযুক্ত কোনো শব্দ উচ্চারণে কঠিন হলেও গানের প্রয়োজনে জরুরি হলে, তিনি সে ক্ষেত্রে কখনো আপস করতেন না। তাঁর হাতে যখন কোনো লিরিক তুলে দিতাম, দেখতাম কী সাবলীলভাবে একটি সাধারণ শব্দকে তিনি সুরের ভেতরে ধারণ করতেন। আর তারপর? সেই শব্দের আবেগকে ধ্বনিতে রূপ দেওয়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল তাঁর।
এ কারণেই ‘জন্মহীন নক্ষত্র’ লেখাটি তাঁকে দেওয়ার পর আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। লেখাটি যখন গানে রূপ পেল, দেখলাম কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই তা ঠিক সেভাবেই আছে। এ জন্য আমি প্রায়ই বলি, আমি হয়তো গান লেখার চেষ্টা করতাম। বাচ্চু ভাই আমাকে হাতে-কলমে গীতিকার বানিয়ে দিয়ে গেছেন।
‘এই রাতে সব প্রেম হারিয়েছি অকারণে, নিশিব্যস্ত মানুষ হয়েছি কেমনে?’—একটি পুরো প্রজন্মের জন্য তাঁর সুর ছিল বেড়ে ওঠার অলিখিত নেপথ্যসংগীত। ক্যাসেট ফিতা, রেডিও আর পুরোনো স্পিকার ঘেঁষে সেই গান ছড়িয়ে পড়েছিল শোবার ঘরে, চায়ের দোকানে, বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে, দূরের বাসযাত্রায় আর গভীর রাতের বন্ধুদের আড্ডায়।
কত মানুষ তাঁর গানে প্রেমে পড়েছে, কত মানুষ বুকভাঙা কষ্ট সামলে নিয়েছে তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে। কত কিশোর, কত তরুণ হয়তো প্রথম গিটার হাতে তুলে নিয়েছিল শুধু আইয়ুব বাচ্চুর গিটার বাজানো দেখে। একজন রক মিউজিশিয়ানের, একজন আপাদমস্তক গিটারপাগল মানুষের এর চেয়ে বড় সার্থকতা আর কী হতে পারে?
অ্যালবাম বিক্রির সংখ্যায় নয়, কনসার্টের হিসাবেও নয়। বরং কতটা গভীরভাবে, অজান্তেই অগণিত মানুষের জীবন ও স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছিল আইয়ুব বাচ্চু আর তাঁর গান। তাতেই বোধহয় তাঁর অমরত্ব।
‘আমি ভাড়াখাটা গিটারের ভাড়াটে প্রেমিক,
প্রতিটি রাতে স্বপ্ন দেখি,
একদিন সব আমারি হবে,
আজ না হলেও কালতো ঠিকই।’
এখন ভাবলে অবাক লাগতে পারে, শুধু এলআরবি ও নিজের সোলো অ্যালবাম মিলিয়েই বাচ্চু ভাই প্রায় তিনশোর কাছাকাছি গান করে গেছেন। এর বাইরে মিক্সড অ্যালবাম, বিভিন্ন শিল্পীর সোলো প্রজেক্ট এবং অন্যান্য কাজ ধরলে সংখ্যাটা হাজারেরও বেশি হবে। এ প্রজন্মের অনেকেই হয়তো ভাববে, কীভাবে সম্ভব? কিন্তু যারা বিভিন্ন সময়ে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের কাছে এই সংখ্যা খুবই স্বাভাবিক।
এমনও সময় গেছে, যখন আমি, বাপ্পি ভাই (বাপ্পী খান), শিবলী ভাই (লতিফুল ইসলাম শিবলী) কিংবা এঞ্জেল (এঞ্জেল শফিক) একই দিনে রেকর্ডিং স্টুডিওতে গিয়েছি গান লেখার কাজে। কখনো আবার স্টুডিওতে বসেই সুরের ওপর গান লিখেছি। বিশেষ করে ঈদের সময় অ্যালবামের পাশাপাশি ৭-৮টি গান বিভিন্ন মিক্সড অ্যালবামে প্রকাশ পাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। এমনও নজির আছে, অন্য কোনো মিক্সড অ্যালবামে তাঁর গান প্রকাশ পাওয়ায় নিজের সোলো অ্যালবামের বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেমনটা হয়েছিল ‘সময়’ অ্যালবামের ক্ষেত্রে।
বাচ্চু ভাই এটিও প্রমাণ করে গেছেন, বাংলাদেশের রককে নিজস্ব উচ্চতায় নিয়ে যেতে কারও অন্ধ অনুকরণ করতে হয় না। তিনি পশ্চিমা রক ঘরানার নির্যাস গ্রহণ করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটিকে নিজের স্বকীয়তায় আপন করে নিয়েছিলেন। দেখিয়েছিলেন, কীভাবে ইলেকট্রিক গিটার, রকের মেলোডি আর উত্তাল কণ্ঠ বাংলা ভাষায় পরম স্বাভাবিক, নিবিড় ও আবেগী হয়ে উঠতে পারে।
‘যত বেশী আমি আসবো ফিরে মানুষের কাছাকাছি,
ততো বেশী দূরে চলে যেতে হবে আমায় এখনি।’
আজ বাচ্চু ভাইয়ের জন্মদিনে তাঁর রেখে যাওয়া গানগুলো আবার শুনুন। হয়তো আবার মনে হবে, এই গানগুলো শুধু গান নয়। অগণিত মানুষের জীবনের কোনো না কোনো সময়ের সঙ্গী হয়ে থাকা একেকটি গল্প।
লেখক: গীতিকবি ও লেখক
-0f0520.jpeg)
গীতিকারের সঙ্গে সুরকারের একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বছরের পর বছর গান তৈরির সেই অভিন্ন যাত্রায়, সৃষ্টির খোঁজে, সময়ের পরিভ্রমণে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়। সেই যাত্রাপথে সবকিছু সাফল্যের মোড়কে আসে না।
আমার কাছে তাই আইয়ুব বাচ্চুর প্রস্থান শুধু একজন রক লিজেন্ড কিংবা বাংলাদেশের রকের মহানায়কের প্রস্থান নয়। এটি যেন হৃদ্পিণ্ডের একটি টুকরো চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার মতো। তাই তাঁকে নিয়ে লিখতে গেলে কথা হারিয়ে ফেলি। ঠিকমতো গুছিয়ে বলতে পারি না।
যাই হোক, লেখায় ফিরে আসি।
আমার চোখে মিউজিশিয়ান মানেই তাঁর স্বতন্ত্র সাউন্ড থাকবে, গানের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য থাকবে। কারণ অনেক মিউজিশিয়ান, অনেক সুরকার শুধু গান রেখে যান। কিন্তু হাতে গোনা কয়েকজন রেখে যান তাঁদের স্বতন্ত্র সাউন্ড। যে সাউন্ড পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে, তাঁদের রেখে যাওয়া মিউজিক স্টাইল আপন উজ্জ্বলতায় প্রভাবিত করে বছরের পর বছর, দশকের পর দশক। অনস্বীকার্যভাবেই বাংলাদেশের মিউজিকে আইয়ুব বাচ্চু সেই স্বতন্ত্র ধারার গুটিকয়েক সৃষ্টিশীল মানুষের একজন।
এই কিংবদন্তির জন্মদিনে তাঁকে নিয়ে কথা বলা আসলে খুব সহজ। সেই গিটার জাদুকর, গায়ক, সুরকার, সফল মিউজিশিয়ান এবং অবিসংবদিত রক আইকন কিংবা বাংলাদেশের রক মিউজিকের ইতিহাসের অন্যতম ইনফ্লুয়েনশিয়াল ব্যক্তিত্ব। তবে একজন গীতিকার হিসেবে খুব কাছ থেকে তাঁকে দেখার কারণেই কিনা জানি না, আমার মনে হয়, তাঁকে স্মরণ করার সবচেয়ে সুন্দর পথ আসলে খুবই সাধারণ, সরল-সোজা। সেটি হচ্ছে, তাঁর সৃষ্টির কাছে, তাঁর গানগুলোর কাছে ফিরে যাওয়া।
আমার কাছে আইয়ুব বাচ্চুর সবচেয়ে বড় লিগ্যাসি তাঁর ফেলে রেখে যাওয়া কনসার্টের আলো-আঁধারির মঞ্চ, রাষ্ট্রায় স্বীকৃতি কিংবা হৃদয়কাড়া গিটার সোলো নয়। তাঁর সবচেয়ে বড় লিগ্যাসি, তাঁর রেখে যাওয়া সুর আর গান। তাঁর সৃষ্টিশীলতা কালোত্তীর্ণ বলেই রেখে যাওয়া সুর ও গান নিঃশব্দে মানুষের জীবনের আনাচে-কানাচে এখনো পথ খুঁজে নিচ্ছে—‘আমি গানে গানে আসবো ফিরে, কানে কানে দোলাবো হৃদয় তোমার সময় অসময়ে।’
রক মানে চিরন্তন, অমীমাংসিত এক অস্থিরতা। প্রেম, বিষাদ, একাকীত্ব, বিদ্রোহ, বন্ধুত্ব, হারানোর ব্যাকুলতা আর মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অদ্ভুত দীর্ঘশ্বাস। তাই বলে রক মিউজিক মানেই কিন্তু উচ্চ স্বরের চড়া নোটের গিটার, ডিস্টরশন কিংবা গিটারের বাহাদুরি দেখানোর মহড়া নয়।
রক মিউজিকের এই ধ্রুব সত্য আইয়ুব বাচ্চু খুব ভালো বুঝতেন। এ কারণেই যে মানুষের হাত দিয়ে ‘মাধবী’ কিংবা ‘জারজ সন্তান’-এর মতো হেভি রক নাম্বার এসেছে, সেই তাঁর হাত দিয়েই এসেছে ‘হাসতে দেখো’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘ফেরারি মন’, ‘ঘুমন্ত শহরে’র মতো গান। আর এই তালিকা অনেক দীর্ঘ।
গান তৈরিতে কথার কাটাছেঁড়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। আইয়ুব বাচ্চুও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তবে যুক্তাক্ষরযুক্ত কোনো শব্দ উচ্চারণে কঠিন হলেও গানের প্রয়োজনে জরুরি হলে, তিনি সে ক্ষেত্রে কখনো আপস করতেন না। তাঁর হাতে যখন কোনো লিরিক তুলে দিতাম, দেখতাম কী সাবলীলভাবে একটি সাধারণ শব্দকে তিনি সুরের ভেতরে ধারণ করতেন। আর তারপর? সেই শব্দের আবেগকে ধ্বনিতে রূপ দেওয়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল তাঁর।
এ কারণেই ‘জন্মহীন নক্ষত্র’ লেখাটি তাঁকে দেওয়ার পর আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। লেখাটি যখন গানে রূপ পেল, দেখলাম কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই তা ঠিক সেভাবেই আছে। এ জন্য আমি প্রায়ই বলি, আমি হয়তো গান লেখার চেষ্টা করতাম। বাচ্চু ভাই আমাকে হাতে-কলমে গীতিকার বানিয়ে দিয়ে গেছেন।
‘এই রাতে সব প্রেম হারিয়েছি অকারণে, নিশিব্যস্ত মানুষ হয়েছি কেমনে?’—একটি পুরো প্রজন্মের জন্য তাঁর সুর ছিল বেড়ে ওঠার অলিখিত নেপথ্যসংগীত। ক্যাসেট ফিতা, রেডিও আর পুরোনো স্পিকার ঘেঁষে সেই গান ছড়িয়ে পড়েছিল শোবার ঘরে, চায়ের দোকানে, বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে, দূরের বাসযাত্রায় আর গভীর রাতের বন্ধুদের আড্ডায়।
কত মানুষ তাঁর গানে প্রেমে পড়েছে, কত মানুষ বুকভাঙা কষ্ট সামলে নিয়েছে তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে। কত কিশোর, কত তরুণ হয়তো প্রথম গিটার হাতে তুলে নিয়েছিল শুধু আইয়ুব বাচ্চুর গিটার বাজানো দেখে। একজন রক মিউজিশিয়ানের, একজন আপাদমস্তক গিটারপাগল মানুষের এর চেয়ে বড় সার্থকতা আর কী হতে পারে?
অ্যালবাম বিক্রির সংখ্যায় নয়, কনসার্টের হিসাবেও নয়। বরং কতটা গভীরভাবে, অজান্তেই অগণিত মানুষের জীবন ও স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছিল আইয়ুব বাচ্চু আর তাঁর গান। তাতেই বোধহয় তাঁর অমরত্ব।
‘আমি ভাড়াখাটা গিটারের ভাড়াটে প্রেমিক,
প্রতিটি রাতে স্বপ্ন দেখি,
একদিন সব আমারি হবে,
আজ না হলেও কালতো ঠিকই।’
এখন ভাবলে অবাক লাগতে পারে, শুধু এলআরবি ও নিজের সোলো অ্যালবাম মিলিয়েই বাচ্চু ভাই প্রায় তিনশোর কাছাকাছি গান করে গেছেন। এর বাইরে মিক্সড অ্যালবাম, বিভিন্ন শিল্পীর সোলো প্রজেক্ট এবং অন্যান্য কাজ ধরলে সংখ্যাটা হাজারেরও বেশি হবে। এ প্রজন্মের অনেকেই হয়তো ভাববে, কীভাবে সম্ভব? কিন্তু যারা বিভিন্ন সময়ে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের কাছে এই সংখ্যা খুবই স্বাভাবিক।
এমনও সময় গেছে, যখন আমি, বাপ্পি ভাই (বাপ্পী খান), শিবলী ভাই (লতিফুল ইসলাম শিবলী) কিংবা এঞ্জেল (এঞ্জেল শফিক) একই দিনে রেকর্ডিং স্টুডিওতে গিয়েছি গান লেখার কাজে। কখনো আবার স্টুডিওতে বসেই সুরের ওপর গান লিখেছি। বিশেষ করে ঈদের সময় অ্যালবামের পাশাপাশি ৭-৮টি গান বিভিন্ন মিক্সড অ্যালবামে প্রকাশ পাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। এমনও নজির আছে, অন্য কোনো মিক্সড অ্যালবামে তাঁর গান প্রকাশ পাওয়ায় নিজের সোলো অ্যালবামের বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেমনটা হয়েছিল ‘সময়’ অ্যালবামের ক্ষেত্রে।
বাচ্চু ভাই এটিও প্রমাণ করে গেছেন, বাংলাদেশের রককে নিজস্ব উচ্চতায় নিয়ে যেতে কারও অন্ধ অনুকরণ করতে হয় না। তিনি পশ্চিমা রক ঘরানার নির্যাস গ্রহণ করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটিকে নিজের স্বকীয়তায় আপন করে নিয়েছিলেন। দেখিয়েছিলেন, কীভাবে ইলেকট্রিক গিটার, রকের মেলোডি আর উত্তাল কণ্ঠ বাংলা ভাষায় পরম স্বাভাবিক, নিবিড় ও আবেগী হয়ে উঠতে পারে।
‘যত বেশী আমি আসবো ফিরে মানুষের কাছাকাছি,
ততো বেশী দূরে চলে যেতে হবে আমায় এখনি।’
আজ বাচ্চু ভাইয়ের জন্মদিনে তাঁর রেখে যাওয়া গানগুলো আবার শুনুন। হয়তো আবার মনে হবে, এই গানগুলো শুধু গান নয়। অগণিত মানুষের জীবনের কোনো না কোনো সময়ের সঙ্গী হয়ে থাকা একেকটি গল্প।
লেখক: গীতিকবি ও লেখক
.png)

রেলে ‘হরতাল’ ‘হরতাল’ একটা রব উঠেছে! সে খবর ইঞ্জিন, লাইন, ঘণ্টা, সিগন্যাল এদের কাছেও পৌঁছে গেছে। তাই এরা একটা সভা ডাকল। মস্ত সভা। পূর্ণিমার দিন রাত দুটোয় অস্পষ্ট মেঘে ঢাকা চাঁদের আলোর নীচে সবাই জড়ো হল। হাঁপাতে হাঁপাতে বিশালবপু সভাপতি ইঞ্জিন মশাই এলেন। তাঁর লেট হয়ে গেছে।
১৫ আগস্ট ২০২৬
বন্ধুমহলে নাম শুনেছিলুম আগেই; চোখে দেখলুম লেক-লগ্ন একটি ক্লাবের বাইশে শ্রাবণের অনুষ্ঠানে। উজ্জ্বল আলোয়, সুবেশ, চিক্কণ এবং সাধারণত কাব্য সম্বন্ধে উদাসীন মেয়ে পুরুষের ভিড়ের মধ্যে কালো একটি ছেলে উঠে দাঁড়িয়ে, বেশ চেঁচিয়ে, বেশ স্পষ্ট ক’রে রবীন্দ্রনাথের উদ্দেশে নিজের লেখা একটি কবিতা পড়লো।
১৫ আগস্ট ২০২৬
কম করে হলেও এক হাজার বছর ধরে কবিতা লিখছে বাংলাভাষী মানুষ; এ অঞ্চলে জন্মেছেন অগণিত ভাবমূর্তিসম্পন্ন কবি। উপাধিপ্রবণ বাঙালি কবিসমাজ তৈরি করে নিয়েছে নানা ধরনের উপাধি—‘কবিকঙ্কন’, ‘বিশ্বকবি’, ‘বিদ্রোহী কবি’, ‘পল্লীকবি’, ‘রূপসী বাংলার কবি’। তবে ‘কিশোর-কবি’ অভিধা পেয়েছেন মূলত একজনই—সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬
১৫ আগস্ট ২০২৬
কাব্য-সাহিত্যের অনুর্বরতাও এই জন্য যে কবিতা লেখার মজুরীতে কবি বাঁচে না। নতুন যুগের অলঙ্ঘ নির্দেশে তাকে আজ দেহমনে চব্বিশ ঘণ্টার সাহচার্য বরণ করে নিতে হয় তার যে উলঙ্গ ছেলেরা আজ বুলেট খেয়ে মরছে তাদের, কাব্যচর্চা আর জীবিকাচর্চার শোষণে সে ক্ষয় হয়ে যায়।